সাম্প্রতিক

দাঁত ভেঙে যাবার কি এমন কারণ থাকতে পারে । ঐশী বিশ্বাস

ক.
আমাদেরে পাশের বাড়িতে একটি কাঁঠাল গাছে সুন্দর একটি কাঁঠাল ধরেছিল। পাড়ার সবারই ঐ কাঁঠালটির প্রতি নজর ছিল। একদিন রাতে, আমি বারান্দা থেকে কাঁঠালটিকে লক্ষ করছিলাম, ঠিক তখনই একটি মহিলা কাঁঠালটি পেড়ে  নিয়ে গেল। আমি দৌড়ে গিয়ে মা কে বললাম মা চোর এসেছে চোর এসেছে!! মা ধমকের শুরে বললেন, যাও গিয়ে ঘুমাও গিয়ে। সকালে উঠে দেখি কাঁঠালটা ঠিক সেই জায়গাতেই আছে। পরে অনেকক্ষণ স্বপ্ন ও বাস্তবতার মাঝে নিজেকেই খুঁজছিলাম।

খ.
আমার বয়স যখন দশ, তখন স্ট্যান্ডার্ড ফাইভে কী ফোরে পড়ি আমাদের ক্লাসে কানাডা থেকে এসে একটি ছেলে ভর্তি হয়েছে। কানাডা-বাসী হলেও সে বাংলাদেশি। একদিন কোনো একটা বিশেষ কারণে আমাদের ক্লাসরুমটা অন্য একটা ক্লাসে shift করা হয়। ক্লাসটা একটু ছোট ছিল। সবাই সবার জায়গার বসে পড়েছে। আমার পাশের একটি সিট খালি ছিল। তাই ওই ছেলেটা আমার পাশে এসে বসে। এ নিয়ে অন্যরা হাসি  ঠাট্টা শুরু করল। হঠাৎ ও লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। আমি ভ্রু কুচকে তাকাতেই ও বলে উঠল মাকড়সা মাকড়সা!! সবাই তখন অট্ট-হাসিতে ফেটে পড়ছে, আমি দু হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিলাম।

গ.
আমাদের ক্লাসে ‘সামিট’ নামের একটি ছেলে ছিল। তার চুলগুলো ছিল সজারুর  মতো। একদম সোজা। একদিন স্যার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার চুলগুলো এমন কেন? ও উত্তরে সিলেটী ভাষায় বলে উঠল ‘স্যার গরুয়ে লেই লিছে’। স্যার উত্তর শুনে হাসতে হাসতে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলেন। কিন্তু আমি তার কথার কিছুই বুঝতে পারলাম না, তাই সবার এতো হাসির কারণ তখন খোঁজে পাইনি। ঘটনাটা মনে হলে এখনও একা একাই হাসি পায়!

ঘ.
আমি তখন ক্লাস Eight এ পড়ি, দুষ্টুমিতে খারাপ ছিলাম না, একদিন একা একাই খেলতে খেলতে ও নাচতে নাচতে হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার সামনের দুটো দাঁত ভেঙে গেছে। দাঁত দিয়ে কোনো প্রকার রক্ত বের না হওয়ায় তেমন গুরুত্ব দিইনি। অনেক পরে আয়নাতে যখন প্রথম খেয়াল করলাম যে দুটি দাঁতের বেশকিছু অংশ ভেঙে গেছে তখন আর খোঁজেই পেলাম না, দাঁত ভেঙে যাবার কি এমন কারণ থাকতে পারে…

ঙ.
আমার ছোটবেলা কেটেছে ঢাকাতে। সেখানে আমার কাকা, বড় জেঠা ও দিদিদের সঙ্গেই থাকতাম। একদিন আমার জেঠা একটি টিয়া পাখি নিয়ে আসেন, টিয়া পাখিটা ছিল আমার খুব পছন্দের। সে অনেক কথা বলতে পারত। তবে একদিন একটা কাক এসে সেটাকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে আর কখনো কোনো ধরনের পাখি পালনে আগ্রহ হয়নি। হয়ত আমার পছন্দের কোনো কিছুকে হারনোর ভয়ে আমার এমন একঘেয়েমি…

চ.
আমার জন্মদিনে আমার এক বান্ধবী আমাকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট দাঁড়াতে বলে cycle  করে নয়াসড়ক চলে গেল। ঠিক পঁয়তাল্লিশ মিনিট বাদে সে আমার জন্য Sugerpot, বই আর Showpiece নিয়ে আসে, আমি সেদিন খুশি হয়েছিলাম। সাথে সাথে ভীষণ অবাক ও হয়েছি।

Comments

comments

ঐশী বিশ্বাস

ঐশী বিশ্বাস

তিনি লেখেন, লেখক হওয়ার ইচ্ছে নেই। তিনি গাইতে পারেন তবে শিল্পী হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। তিনি আর্ট করতে পারেন সময়ের রঙ ও স্বপ্ন গুলো...

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি