সাম্প্রতিক

‘বাওফোটা’ গল্পগ্রন্থ থেকে দুইটি গল্প । মুজিব ইরম

মুজিব ইরমের ১০টি গল্প নিয়ে বেরিয়েছে  বাওফোটা । প্রচ্ছদ : তৌহিন হাসান, প্রকাশন : চৈতন্য । গল্পগ্রন্থ থেকে দুইটি গল্প তুলে দিচ্ছি রাশপ্রিন্ট পাঠকদের জন্য ।

দড়াটানার মাছ

সেমি-ডিটাচ্ড বাড়িটিতে নির্জনতা যেন লেপ্টে আছে, গায়ের সাথে লোম যেমন লেপ্টে থাকে। আজ দিন শুরু হয়েছে রোদ নিয়ে। ক’দিন থেকে আকাশ মেঘহীন। চারপাশের দৃশ্যে তাই রোদের গন্ধ লেগে আছে। বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করে সে বার কয়েক হাই তুলে। দৃশ্যটি তার ভালো লাগে। চির সবুজ গাছের বেড়া ডিঙিয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। জমাট-বাঁধা নির্জনতায় নুয়ে-নামা উইলো বৃক্ষের দিকে চোখ যায়। আটকে থাকে সে। শহর থেকে দূরে, যেখানে একদা স্থানীয় স্বচ্ছল মানুষের বসবাস ছিলো, এখনও বহিরাগতদের বসবাস নেই বললেই চলে, সেখানে দড়াটানার মাছ ও বেলকই খেতে-চাওয়া একজন মানুষের অস্তিত্ব তার কৌতূহল বাড়ায়। কলিংবেলের শব্দে কেয়ারটেকার মেয়েটি দরজা খুলে দেয়।

সে তাকে অনুসরণ করে।

—আপনে কিতা খাইতা চাইরা, আমারে কউকা চাই?

দেলোয়ার হাসানের এই আঞ্চলিক জবান আইজ্যাক আলীর কাছে দূর থেকে ভেসে—আসা কোনও এক অতীতের ধ্বনি বলে ভ্রম হয়। তার চোখের পাতা নড়ে ওঠে। পুনরায় একই প্রশ্নে তার চোখ প্রশ্নকারীর আপাদমস্তক ঘুরে এসে মুখে স্থির হয়। তার ডান হাত বিছানা থেকে উঠে আসে। আইজ্যাক আলীর জীর্ণহাত নিজের হাতে ধরে সে আরও একাত্ম হতে চায়-চাচাজি, আমার কথা কিতা আপনে হুনতা পাররা নি?photo(1) copy

আইজ্যাক আলীর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। এতদিন পর নিজের কোনও প্রতিবিম্ব দেখছেন, না-কি পরিচিত জবানে একজন আজ তার হাত স্পর্শ করে শেষ-ইচ্ছার কথা জানতে চাইছে বলে আবেগ কাতর হয়ে পড়ছেন? ভাবনা আর স্থির থাকে না। আইজ্যাক আলী মাথা তুলতে চাইলে সে পিঠে বালিশ ঠেকিয়ে মাথা একটু উঁচু করে দেয়। এই অন্তরঙ্গতায় তাকে বড়ো সতেজ দেখায়। কথাবার্তা তাই ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। নামধাম জানতে চাইলে নিজের গ্রামের নাম বলামাত্র আইজ্যাক আলীর গলার স্বর পাল্টে যায়।

—তোমার বাপর নাম কিতা, কও চাই রে বা?

—মরতুজ মিয়া।

—কিতা কইলায়! তুমি বড় বাড়ির মরতুজর পুয়া?

—জিওয়!

—হে এখন কেমলান আছে? বাঁচিয়া আছেনি? কোয়াই আছে? আইজ্যাক আলীকে যেন প্রশ্নে পেয়েছে, একের পর এক প্রশ্নে মরতুজ মিয়া-দেওকলস একাকার হয়ে এলে দেলোয়ার হাসানের চোখে এক বিস্ময় এসে খেলা করে-এই সেই দেওকলসের আজহার আলী যাকে সবাই নিখোঁজ জাহাজি-লন্ডনী নামে এখনও স্মরণ করে!

প্রায় তিনযুগ পর হঠাৎ দেলোয়ার হাসান-দেওকলস-মরতুজ মিয়া আইজ্যাক আলীকে বড়ো কাতর করে! তার বিগত ফিরিয়ে দেয়। দেলোয়ার হাসানের কৌতূহল মেটাতে সন্তানদের কথা উঠলে কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা নেমে আসে। মুরগির বাচ্চা বড় হলে যেভাবে দলছুট হয়ে যার যার মতো ছিটকে পড়ে, সেভাবেই তারা ছিটকে পড়েছে-আইজ্যাক আলীর গলা বড়ো করুণ শোনায়। সদ্য প্রয়াত শ্বেতাঙ্গ রমণী-জাহাজ-পালাতক আজহার আলীকে যুদ্ধোত্তর পুরুষশূন্য শহরে যে আইজ্যাক আলী করে তুলেছিলো, তার জন্য দীর্ঘশ্বাস বাড়ে। সেই যে ২য় বিশ্বযুদ্ধ, বাড়ি থেকে পালিয়ে জাহাজের খালাসি হওয়া, খিদিরপুর থেকে লিভারপুল, তারপর জাহাজ ছেড়ে ডাঙ্গায়, শেতাঙ্গ রমণীকে বিয়ে করে আইজ্যাক আলী হয়ে ওঠা, দেশ-খেশ ভুলে পরদেশে একটা জীবন কাটিয়ে দেওয়া, আহা! আইজ্যাক আলীর দীর্ঘশ্বাস বাড়তেই থাকে। আইজ্যাক আলী নয় যদি আজহার আলীর জীবন আবার ফিরে পাওয়া যেত! কথায় কথায় আইজ্যাক আলী ও দেলোয়ার হাসান আবার দেওকলসে ফিরে এলে এ-ঘর হয়ে ওঠে দেওকলসের ঘর। আইজ্যাক আলীর চোখ খুঁজে ফিরে তার সেই কৈশোরোত্তর কালের কোনও এক ভরাবর্ষার নইলার হাওর। এ-তো কোনও বর্ষার পানিভর্তি বিল নয়, যেন সদ্য যুবতীর বুক উঁচিয়ে-থাকা লাবণ্য তাকে অষ্টপ্রহর ডাকে। নিত্যদিনের সাথীরা ডিঙ্গি, টানা জাল ও বিশ-হাতি লোহার শিকল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। সে কি আর ঘরে থাকতে পারে? নইলার হাওরের বুক উছলে-ওঠা পানিতে আশপাশের ধানিজমিও ভরা যৈবতি। সেই যৈবতি বিলে বেড়াতে-আসা মাছেদের ভিড়ে তাদের ভারি শিকল ঝুপ করে নামে। নৌকাটিকে লগিতে বেঁধে রাখে তারা। বাঁশ দিয়ে টানাজাল আটকে রেখে দূর থেকে ভারি শিকল টেনে পাতা জালের দিকে দ্রুত এগুতে থাকলে নতুন পানিতে বেড়াতে-আসা পাঁচমিশালি মাছের দল স্রোতের তোড়ে জালমুখী হয়। সেই জাল তুলে দেখতে-না-দেখতে ভরে ফেলে তারা নৌকার পাটাতন। দড়াটানার মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরলে মা-চাচিরা ইছা-বৈছা, পুঁটি-টেংরা, চেঙ-বালিগরা, বাইম-বোতুম-চান্দু মাছের মিশেল দিয়ে জলপাইয়ের টক তরকারি রাঁধে। দড়াটানার মাছ ও বেলকইয়ের টেংগা-আহ, আইজ্যাক আলীর জিহ্বা ভিজে ওঠে! শুধু কী আর তাই! মা যেন এইমাত্র মাছগুলো কুটে তেল-মশলা মাখিয়ে নিল্লা সালুন রেঁধে খেতে দিয়েছেন, আর নাগামরিচের গন্ধমাখা ঝালে তার নাকে-চোখে পানি এসে যাচ্ছে! নাকমুখ হাতের উল্টো পিঠে মুছে নিল্লা-তরকারির সাধ আরও দ্বিগুণ করে তুলছে সে। ছেলের এই উচ্ছ্বাস দেখে মা পরের বেলায় যোগ করছেন শুকনো হাতকড়া, কমলার বাকল, বরই, কাঁচা আম কিংবা ডেফলের আমী। তাতে করে দড়াটানার মাছ আরও বেশি সুস্বাদু হয়ে ওঠে!

দড়াটানার মাছের স্মৃতি ও স্বাদ আইজ্যাক আলীর শুভ্র বিছানার চারপাশে ভিড় করতে থাকলে লেইছ মারার চিকন মার্বেল হয়ে সময় গড়িয়ে যায়। সেই মার্বেল উপেক্ষা করে নইলার হাওরের নয়া পানিতে জলকেলিরত চেলাপাতা মাছেদের সাথে তারা নিরুদ্দেশ হয়।

বর্ষা চলে গেছে, শরতও যায়-যায়; এদিকে হেমন্ত তখন আসি-আসি। নইলার হাওরের জোয়ানকিতে ভাটা ধরেছে। সেই পড়তি-বয়সের একাকীত্বে নিচু ধানিজমিতে বেজার মাছেরা ঘুরে বেড়ায়। রাতের অন্ধকারে মশাল ও কোচ নিয়ে আলোয়া শিকারে তারা বেরিয়ে পড়ে। পানির তলায় বেজারমুখে চলাফেরা করা মাছ মশালের আলোয় স্পষ্ট হয়ে উঠলে কোচ দিয়ে গাঁথা মাছে ভরে ওঠে কাকরাইন। আলোয়া শিকারের মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরলে মধ্যরাতে মা ঘুম থেকে উঠে মাছ, হিদইল ও নানাজাতের তরকারি মিশিয়ে শুটকি-সিরা রান্না করছেন, সারাবাড়ি রান্নার গন্ধে ভেসে যাচ্ছে-আহ! লতা-হিদইল-ইছা-কাঁঠালবিচির শুকনা তরকারি, ইলিশ ও চুকার বাইঙ্গনের টেংগা, পানিকদুর সাথে বোয়াল মাছের সালুন, শীতের সকালে চৈপিঠা দিয়ে কতোদিন খাওয়া হয়নি বলে আইজ্যাক আলীর দীর্ঘশ্বাস ঘরের বাতাস ভারি করে তুলে। দেলোয়ার হাসানের গলা বড়ো আদ্র শোনায়-হকলতা আরবার অইবো চাচাজি, আমি আপনারে রাইন্ধা খাওয়াইমু!

আইজ্যাক আলীর চোখ চিকচিক করে। তার মন এখন শুধু খেতেই চায় না, চায় তার সামনে আবার দড়াটানার মাছ ও বেলকইয়ের টেংগা রান্না করা হোক; আর সেই রান্নার সুগন্ধে এককালের ফেলে-আসা দেওকলসের দিনগুলি ফিরিয়ে আনুক। হঠাৎ আইজ্যাক আলীর কণ্ঠ বড়ো উচ্ছ্বলতা ছড়ায়-আমরার ঘরর খান্দাত যে কালা জামগাছ আছিল, তা কিতা এখনো আছেনি রে বা?

কালো জামগাছ, যেটাতে জাম পাড়তে গিয়ে কিশোর আজহার একদিন বাম হাত ভেঙে ফেলেছিলো-দেলোয়ার হাসান এ-মুহূর্তে ঠিক মনে করতে পারে না, তবে গাছটির এখনো ফলবতী হওয়ার মিথ্যা-সংবাদ আইজ্যাক আলীকে একাধারে পুলকিত ও বিমর্ষ করে। একে একে গাছগাছালি থেকে শুরু করে বাড়ির পাশের খালটির কুশল পর্যন্ত আইজ্যাক আলী জানতে চাইলে আবার দেওকলস আসে, মরতুজ মিয়া-স্মৃতি-শৈশব-দড়াটানার মাছ আসে। একসময় তাকে উঠতে হয়। আইজ্যাক আলীর হাত তার হাতে বড়ো কাতরতা ছড়ায়-তোমার লাখান আমার একটা পুয়া থাকলে মরবার আগে বড়ো শান্তি পাইয়া মরতাম রে পুত!

রাতে তার ঘুম হয় না। পাশেই বউবাচ্চা অঘোরে ঘুমাচ্ছে। মফস্বল শহর, বাম ছাত্ররাজনীতি, লামাবাজারস্থ মেস, মস্কো, লেলিন, মার্কস, দেওকলস, গেন্ডাফুল, মায়ের মুখ, এই শীতের শহর, কাজ, বউবাচ্চা, বাড়িগাড়ি দেলোয়ার হাসানের ঘুমহীন মাথায় আইজ্যাক আলীর ছায়া হয়ে নামে। দড়াটানার মাছ দিয়ে বেলকইয়ের টেঙ্গা খাওয়ার শেষ ইচ্ছা তাকে তাড়া করে। আইজ্যাক আলীর শেষ ইচ্ছার মর্র্মার্থ ডাক্তার-নার্সরা উদ্ধার করতে পারেনি বলে কাজের অংশ হিসাবে তাকে ডাকা হয়েছিলো। সে কি তখন ভেবেছিলো এই কাজ তাকে এত ঘুমশূন্য করে দেবে? আইজ্যাক আলীর বাড়ি থেকে ফিরে বউয়ের বানানো প্রিয় কফিতে চুমুক দিয়েও লামাবাজারস্থ মেসের পাশের টং দোকানের এক সিঙ্গেল চা তাকে অনেকদিন পর বড়ো বিমর্ষ করে! কিচেনের ঝুড়িতে এত এত ফলমূল দেখেও হঠাৎ করে ঘরের পাশের লালি আম তাকে বড়ো পিছু টানে! এরকম তো আগে কখনো ঘটেনি, তাহলে!

পাড়ার গ্রোসারি সপ থেকে ফ্রোজেন দড়াটানার মাছ ও জলপাই কিনে সকাল-সকাল আইজ্যাক আলীর বাড়ির দিকে সে রওয়ানা দেয়। আজ সে নিজহাতে দড়াটানার মাছ দিয়ে টক সালুন রেঁধে আইজ্যাক আলীর বিগত ফিরিয়ে দেবে। এ তো শুধু তরকারি নয়-এ হচ্ছে আইজ্যাক আলীর স্মৃতি, শৈশব, জন্ম ও বেড়ে-ওঠা! দড়াটানার মাছে রান্না-হওয়া টেঙ্গার স্বাদে আইজ্যাক আলীর চোখেমুখে যে মায়ার ছায়া ঝিলিক দিয়ে উঠবে, তা যেন সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু পথ এত দীর্ঘ হচ্ছে কেনো! একটা অ্যাম্বুলেন্স সাঁই করে তার পাশ কেটে নিমেষে নাই হয়ে গেলে সে তার সদ্য কেনা গাড়িটাকে বাতাসে ভাসিয়ে দেয়।

.                                                                                                                    # #                      #

photo(2) copy৩৩-মহিলা

—আমি তো গেলাম…

মহিলার কথা কোনও ভূমিকা ছাড়াই শুরু হয়ে যায়। আমি জানলার দিকে তাকিয়ে থাকি। আপেল গাছে একটা নাইটিঙ্গেল পাখি এসে বসে, ফলে দুলে ওঠে গাছ। কচি ফল এসেছে সবেমাত্র। এতদিন পাতাশূন্য, ফলশূন্য গাছটি যে এখানেই ছিলো-মনে করা মুশকিল। এমনিতেই শীতে কে আর ব্যাক গার্ডেনে বেরুতে চায়, জরুরি কাজ ছাড়া। শীত গেলো, আর পেছনের একচিলতে বাগানও পাল্টে ফেললো তার চেহারা। একমাত্র আপেল গাছ ফুলে-পাতায় একাকার। ঘাসফুল ফুটে হলুদ করে ফেলেছিলো চারপাশ, এখন আবার দেখতে না দেখতে আলু-মুলা-সরিষার গাছ পাল্লা দিচ্ছে ঘাসফুলের সাথে। ফলাবো ফলাবো করেও গেলো ক’বছর নতুন করে কিছু ফলানো হয় না, তারপরও মৌসুম এলে মাটিতে লুকিয়ে থাকা বীজগুলো সগৌরবে আবির্ভূত হয়। তখন ঘাসগুলো বেছে-টেছে নিয়মিত সারপানি ছিটিয়ে দিলেই একটুকরো বাংলাদেশ এসে বসে আমার ব্যাক গার্ডেনে। বেশ জমে ওঠে সবজি বাগান। গোলাপের গাছগুলোও নবজন্ম পায়। তা দেখে পাড়ার মহিলারা বাগানের মাটি খুব ভালো বলে সনাক্ত করে। তাদের বড়ো আফসোস, সারাদিন লেগে থেকেও আলুমুলা তাদের গার্ডেনে হতে চায় না। দেশ থেকে নানা সবজির বিচি নিয়ে আসে, অথচ কিছুই মনমতো হয় না তাদের। এসব ফুলগাছ খামোকা না-রেখে বরং মিষ্টি কদু ফলাতে পরামর্শ দেয়। আমিও মাথা নাড়ি, কিন্তু ফুলগাছগুলিই আমাকে বাগানে প্রলুব্ধ করে। আজ বিকালটা সবজি বাগানে কিছু কাজ করবো ভেবেছিলাম। কিন্তু হলো কই! থার্টি থ্রি’র মহিলা এসে হাজির। এক কাতারে ঘর। একঘরই বলা যায়। লম্বা এ-মাথা থেকে ওমাথা-রাস্তার দু’পাশে একশ ঘরের বাস। এদেশে আসার পর টেরেচ হাউসগুলো দেখে ভাটির হাটিবাড়ির কথা মনে পড়েছিলো খুব। ঘর তো ওই একটাই, শুধু দরজায় দরজায় নম্বর দিয়ে দোতলা ঘরগুলো আলাদা করা হয়েছে। দেয়ালে কান পাতলে পাশের ঘরের কথাও শোনা যায়। একপাশে ইভেন, অন্য পাশে আন ইভেন নাম্বার। কোনও ঘরের কথা বোঝাতে নাম্বারই বলা হয়-অমুক নাম্বার, তমুক নাম্বার। ৩৭ নাম্বারে বসবাস করার কারণে এক দরজার পরেই মহিলার ৩৩ নাম্বার ঘর। তাই উইলসন রোডে ঘর ভাড়া নিয়ে আসার পরপরই মহিলার সাথে পরিচয় হয়ে গিয়েছিলো। অবশ্য পাড়ার সবার সাথে পরিচয় হতে তেমন দেরি হয়নি। কয়েক ঘর পাকিস্তানি ও ইংলিশ বাদ দিলে সারা রোডই বাঙালি ঘর, অবশ্য বলা উচিত সিলটি ঘর। সকলেই সিলেট অঞ্চল থেকে আসা। তো, সিলটি ঘরগুলোর সাথে চেনাজানায় সীমাবদ্ধ থাকলেও থার্টি থ্রি’র মহিলার সাথে কেনো জানি পরিচয়টা আরও গাঢ় হয়েছে।

—গিয়া দেখি তাই আরও সুন্দর অইছে…

আমি আপেল গাছ থেকে চোখ ফিরিয়ে আনি। ৩৩’র গপে মনোযোগ দেখাই। সময় মতো হ্যাঁ-হু করি। তা-ও যে খুব দরকার হয়, তা না। মহিলা একাই একশ। ফোনে কও, আর সরাসরি কও-কথা তার বলেই চলেন, অন্যের কথা শোনার যেন ফুরসতই নাই। তবুও অভ্যাস বশত হ্যাঁ বলে জানলার বাইরে চোখ পাঠিয়ে দিই। সেখান থেকে নাইটিঙ্গেলটা উড়ে গেছে। এসে বসেছে নাদুসনুদুস পায়রা যুগল। ঠোঁটে ঠোঁট ঘষছে।

—আমিও কম যাই না। সেজেগুজে থাকি। রাইত অইলেই তাইরে দেখাইয়া দেখাইয়া সাজগোজ করি। ইবার শাড়ি নিছলাম ত্রিশ খান। দিনে পাঁচ বার শাড়ি বদলাই, আর…

আমার দশ মাসের ছেলেটি উ উ করে, বুঝি তার দোল খাওয়ার চেয়ারে আর থাকতে চাইছে না। কোলে উঠতে চাচ্ছে। তাকে কোলে তুলে দোল দিই। জানলা খুলে পায়রা দেখাই। তাদের উড়ে যাওয়া দেখে সে-ও উ উ করে, হাত তালি দেয়। সে আবার দোলনায় চলে যেতে চায়। কোলে বসা শেষ। তাকে দোল চেয়ারে রেখে ৩৩’র জন্য চা বসাই। নাস্তা সাজাই।

—তাইন বাজার থাকি আইলেই আমি তাইনর সামন থাকি হরি না। লগে লগে থাকি। তাইরে খান্দাত ঘেষতে দেই না। ধলা পেটপিঠ দেখাইয়া তাই খালি বেজার মুখে রান্দাবারিত থাকে। আমরা দুই জন চিয়ার টেবিলো বইয়া খাওয়া দাওয়া করি। তাই মন বেজার করি ভাতসালন আগাইয়া দেয়। ছিলানর…

চা-নাস্তা সামনে রেখে মহিলার অমুদ্রণযোগ্য অতি স্বাভাবিক গালাগালি মনোযোগ দিয়ে শোনার অভিনয় করি। মহিলা মাসখানেক আগে দেশ থেকে বেড়িয়ে এসেছেন। গল্পের ডালপালা দিন দিন ছড়াচ্ছে। কমছে না। প্রতিদিন বিস্তার লাভ করছে। আগামী বার দেশে যাবার আগ পর্যন্ত এই গল্প শুনে যেতে হবে। যদিও মহিলা জীবনে দেশমুখী হবেন না বলে প্রতিবারই কসম খান। কিন্তু আমরা সকলেই জানি, স্বামী দেশে রওয়ানা দিলেই মহিলা বড় মেয়ে দু’টিকে তাদের খালার কাছে রেখে ছোট ছেলেকে নিয়ে মাসখানেকের ভেতর রওয়ানা দেন। প্রতিবার এই বিরক্তিকর কাজটি তাকে করতে হয়। বোনের ওপর রাগ তার বাড়তে থাকে। মহিলাও তা বুঝেন। আর বুঝেন বলেই এসব গল্প মা-বোনদের কাছে না-করে আমার কাছেই করতে চলে আসেন। আজ মনে হয় অনেকক্ষণ মহিলা বসবেন। ছেলে গেছে মসজিদে মিয়াছাবের কাছে কায়দা পড়তে, মেয়েরা গেছে স্কুল-বন্ধুদের সাথে ট্রিপে, কোনও এক থিম পার্কে। ফিরবে সন্ধ্যায়। আর স্বামী তো রেস্টুরেন্টে, ফিরবেন আর মধ্যরাতে। জানা কথা, তবু কথা ফেরাবার জন্য বলি-ভাইসাব কোন সময় ফিরবা?

—তাইনর আর ফিরা, না ফিরা!

মহিলার মুখ আবারো অমুদ্রণযোগ্য হয়ে ওঠে। গালাগালি বড়ো দীর্ঘশ্বাস ছড়ায়। চা-নাস্তা জুড়িয়ে যাচ্ছে। আমি খেতে তাড়া দিই। শেফ স্বামীর ঘরে আসা না-আসার দীর্ঘশ্বাস তাকে চা-নাস্তার দিকে বিমুখ করে। মহিলার স্বামীকে দেখেছি অনেকবার। মুখ সবসময় বাংলা পাঁচের মতো করে রাখেন-মনে হয় জগতের সব বিরক্তি তার মুখে লেপ্টে আছে। অবশ্য ঘরে থাকলে যাওয়া হয় না। এমনিতেই আমি যাই কম, অন্যরাই আসে। তবে একটা অলিখিত বিষয় সকলেই পালন করে, বিশেষ করে যাদের স্বামী রেস্টুরেন্টে কাজ করে। বিকাল চারটার পর থেকেই ঘরে ঘরে কাজে যাওয়ার জন্য রেস্টুরেন্টের লোকেরা রেডি হয়ে বসে। মালিকেরা দরজা থেকে তুলে নিয়ে যায়, দিয়ে যায় আর মধ্যরাতে। এর আগপর্যন্ত প্রায় প্রত্যেক ঘরই পুরুষশূন্য থাকে। ঈদেচান্দেও একই রীতি, শুধু সাপ্তাহিক ‘অফ ডে’ বাদে। পুরুষেরা বিকালবেলা কাজে গেলেই মহিলারা একে অন্যের বাসায় যায়, নয়তো ফোন নিয়ে বসে থাকে। তখন আলোচনা ওই একটাই-ঘরের পুরুষের দেশে টাকা পাঠানো, ঘনঘন দেশে যাওয়া, সংসারে মন না-থাকা, দেশে আবার সংসারী হওয়া, বেনিফিট নিয়ে মনোকষ্ট। আর বয়স্ক মহিলাদের তো সময়ের কোনও বালাই নেই। দরজায় দরজায় সারাদিনই সুযোগ মতো ঢু মারা। কার বউ পরপুরুষে আকৃষ্ট, কার মেয়ে কার ছেলের হাত ধরে হাঁটাহাঁটি করছে, কার স্বামী দেশে আবার ২য় পক্ষ নিয়ে মজে আছে, কার মেয়েরা ইংলিশ কাপড় পরে পেট-পিঠ দেখিয়ে চলে-এসব গপই তাদের ঘুরেফিরে আসে, আর আসে ধর্মীয় ওয়াজ নসিহত। স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলো সারা বছরই ধর্ম নিয়ে মেতে থাকে-ওয়াজ নসিহত ও চ্যারিটির টাকা তোলার নিত্যনতুন আয়োজন ওদের জীবনে নয়া বিনোদন নিয়ে আসে। পাউন্ড দিয়ে তারা বেহেশতে জায়গা-জমি কিনে। ছেলেমেয়েদের হিন্দি ফিল্মের আসক্তি ওদের ধর্মীয় বিনোদনে বাঁধা দেয় ঠিকই, তবে তারা তো আর সার্বক্ষণিক ঘরে থাকে না। কাজে বা স্কুল-কলেজে থাকে। অবশ্য বিকেল বেলা অনেকেই ফিরে আসে। তাই টিভি দেখা বাদ দিয়ে এসময় ঘরে ঘরে ঘোরাফেরাই মহিলাদের বিনোদন হয়ে ওঠে। আমার স্বামীর আবার দিনের কাজ। অতএব বাঁধাধরা নিয়ম নাই। ৩৩’র মহিলা তাই সময় পেলেই চলে আসেন।

—একদিনের কথা তোমারে কই, হুনো…

মহিলার একদিনের গল্প শুনতে মনোযোগ দেখাতে হয়। বড়ো মায়া লাগে। নিজে লেখালেখি করি। গেলো ক’মাস থেকে একটা উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছি ছেড়ে আসা দেশ নিয়ে, বলা যায় যে-বাড়িতে আমি জন্মেছিলাম, তার আশপাশের মানুষ ও মাটি নিয়ে-সেই ৮০’র দশকের শৈশবে দেখা দেশ ও মানুষ। কাজটি তেমন এগুচ্ছে না। তবুও মাঝেমধ্যে লিখতে বসি। আমার চরিত্রদের যেমন মাঝেমধ্যে বুঝতে পারি, আবার পারিও না-৩৩’র মহিলাকেও তাই। কখন যে স্বামীর পক্ষে, আর কখন যে বিপক্ষে, ঠিক বোঝা মুশকিল। এই আপনি আপনি তো এই আবার তুই তুকারি! সকালে প্রেমে আটকানা তো বিকালে মাথা ফাটাফাটি। তবে একটা ব্যাপার বোঝা সহজ, মহিলার সব গল্প স্বামীকে ঘিরে, এবং স্বামীর দেওয়া দুঃখ নিয়ে। এত বছর হয়ে গেলো, স্বামী বেতনের এক পয়সাও ঘরের জন্য খরচ করে না, দেশে পাঠিয়ে দেয়, বাচ্চাদের দেখে না, ঘর কেমন করে চলে-খোঁজও রাখে না। বেনিফিটের টাকা দিয়ে মহিলাকে ঘরসংসার চালাতে হয়। বেনিফিটেও ভাগ বসায় স্বামী। না-দিলে হাত তোলে, ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার হুমকি দেয়। এ-কাহিনি প্রায়ই আমাকে শুনতে হয়। শেফের চাকরি করে ৩০০ পাউন্ড বেতন পেয়ে ৯০ পাউন্ড-এর মতো বেতন দেখানোর জন্য সরকার ঘর চালানো বাবদ আরও ৩০০ পাউন্ডের মতো বেনিফিট দেয়। স্বামী এসব টাকা জমিয়ে প্রতিবার ৯ মাসের মাথায় দেশে রওয়ানা দেন, ফিরে আসেন আর ৩/৪ মাস পর। এই ৩/৪ মাসের বেনিফিটের টাকাও তাকে ফিরে এলে দিতে হয়। বাকি ৯ মাস সংসারে থাকা, না-থাকা সমান। বাজার-সওদা, ছেলেমেয়ের পড়ালেখা-কোনও কিছুতেই তার অংশগ্রহণ নাই, অংশগ্রহণ শুধু থাকাখাওয়ায়। তবুও মহিলা স্বামীকে ভয় পান, ভালোবাসেন কি না, ঘৃণা করেন কি না-তাও ঠিক বোঝা যায় না। তবে স্বামীর বিপক্ষে কিছু বললে মা-বোনদের সাথেও ঝগড়া লেগে যায় তার। অথচ নিজে সার্বক্ষণিক স্বামীর বিপক্ষেই বলেন। আত্মীয়স্বজনরা বছরের পর বছর এসব শুনতে শুনতে এখন আর শুনতেই চায় না। তারও একটা কারণ আছে। বছর তিনেক আগে স্বামী দেশে গিয়ে এক কিশোরীকে বিয়ে করে বসলে মহিলার আহাজারিতে সদলবলে আত্মীয়রা পক্ষ নিয়ে তাকে ঘর থেকে তাড়াতে বলে। পরে দেখা যায় মহিলা উল্টা সবার ওপর নারাজ। স্বামীকে তাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছে বলে আত্মীয়স্বজনের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। স্বামী মহাআনন্দেই বসবাস করতে থাকেন। তারপর থেকে মহিলার কান্নাকাটি ছাড়া, ‘দেশে আর জীবনে যাইতাম নায়’ ছাড়া কোন কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু স্বামী যখন ৯ মাস পরে দেশে রওয়ানা দেন, মিনিটে মিনিটে ফোন দিয়েও শান্তি না-মিলে দু’মাসের মাথায় দেশে গিয়ে হাজির হন। ফিরে আসেন ১ মাসের মাথায় স্বামীকে নিয়ে। এসেই বাড়ির পক্ষকে ফোন দেন-তাইনরে তুই রাখতে পারছছনি?

—আমি-তো গিয়াই তাইনরে দখল করি লাই। এক বিছনাত ঘুমাই। তাইরে খান্দাত আইতে দেই না। বিয়ানে গোসল করি নয়া কাপরে তাইর সামনে হাঁটাহাঁটি করি। একদিনও ইতা বাদ দেই না। কিন্তু ইবার আখতা দেখি তাইন বদলি গেছইন। আলাদা ঘরো থাকইন। খাওয়া-দাওয়া শেষ অইলেই কইন-তুমি ঘুমাই যাও, আমার শরীর খারাপ। আমি কই-আইজ কুন্তা চাও নানি? তাইন না করইন। আমিও তলে তলে থাকি। কান খাড়া রাখি। একদিন বেভুলে ঘুমাই গেছলাম, আখতা জাইগা দেখি সব দরজা বন্ধ, তাইও বিছনাত নাই। আমিও কম যাই না, পিছনর দরজা দিয়া বাইর অইয়া তাইনর দরজাত এমন বাড়ি দেওয়া শুরু করলাম, তাই কোনও মতে কাপড় সামলাইয়া বিছানা ছাইড়া দৌড়াতে না দিশ পাইছে!

হঠাৎ মহিলাকে খুশি মনে হয়। মনে হয় ঘটনাটি এই মাত্র ঘটছে, কিশোরী বউটি কাপড় হাতে তার সামনা দিয়ে পালাচ্ছে। কিন্তু খুশি বেশি সময় থাকে না। আবার বেজার গল্প শুরু হয়। এ-দেশে তো ছুতা পেলেই হাত তোলেন, কিন্তু দেশে এসব করলে স্বামী কেনো হাত তুলেন না-এরকম প্রশ্ন আমি করতেই পারতাম। কিন্তু সেসব তো জানাই আছে। নতুন করে জেনে আর লাভ কী! দেশে যাবার আগে বউকে এই দিয়ে, সেই দিয়ে খুশি করা, দেশে গিয়েও বউকে সব ধরনের খুশি রাখা-স্বামী ঠিক মতোই পালন করেন। কেনো না ৩ মাস পরে তো এই ঘরেই ফিরে আসতে হবে। ৯ মাসের রুজি ও সরকারি টাকা না-হলে দেশে গিয়ে ২/৩টি গাড়ি কি আর পালা যাবে? করা যাবে একের অধিক বাসাবাড়ি? রাখা যাবে জমির পর জমি? আর এরকম বিনা পয়সার হোটেল বিলাতের আর কোথায় আছে? ৯ মাস-তো খাওয়া-দাওয়া মহিলার উপরই চলে। এই তো সেদিনও মহিলা কেঁদে-কেটে এসে হাজির। বললাম-কিতা অইছে ভাবি? মহিলার কাহিনি ওই একই। স্বামী বড় পাবদা মাছ খেতে চান, আম খেতে চান, খাবার টেবিলে আচার না-হলে খাবারে তার রুচি বাড়ে না। সেদিন টেবিলে আচারটা শুধু কম হয়েছিলো বলে সব খাবার ছুড়ে ফেলে লঙ্কাকান্ড অবস্থা। হাত তুলাও বাকি থাকেনি। মহিলা চোখ মুছে আচারের বৈয়াম কিনতে কর্নার শপে হাঁটা দিলে আমি তেমন অবাক হইনি। এরকম কতো ঘটনাই নিত্য ঘটে, শুনতে হয়-তবে দেশের ঘটনা আর সব ঘটনার চেয়ে নিয়মিত শুনতে হয় বলে, সব সময় যে ভালো লাগে, তা নয়, তবুও শুনতে হয়, মহিলা শান্তি পান, কী আর করা! মহিলার অবশ্য এভাবে আসা মানা। স্বামীকে লুকিয়ে আসতে হয়। স্বামীর মানা আছে আশেপাশে মেশার। যদি কেউ কানকথা দিয়ে দেয়? মহিলার মন বিগড়ে যায়? কিন্তু আমি তো জানি, মহিলা কিছু শুনতে আসেন না, শুধু বলতেই আসেন। বরং স্বামীর বিরুদ্ধে কিছু বললে আসাই বাদ দিয়ে দিবেন। তারপরও স্বামীর নিষেধ অটুট থাকে। মহিলার গপ আমাকে শুনতে হয়। আজও আমি পেছনের বাগানে বৈকালিক আলোর খেলা দেখতে দেখতে গপ শুনি। আমার শিশুটিকে আদর করি। স্বামীর ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ঘনঘন ঘড়ি দেখি।

—তার বাদে পরতেক রাইত আমি তাইরে বিছনা থাকি দৌড়াইছি। জামাইর লগে থাকতে দিছি না। আমি তো খালি সুযোগ খুঁজি। তাইনরে আর একলা পাই না। তাইনও খালি তাইর লগে ডলাডলি করইন। তার বাদে কিতা অইলো জানো নি?

আমার মনে হলো এবার মহিলার গল্প শেষ হবে। ঘরে ফেরার সময় তার হয়ে গেছে। ছেলেকে আমপারা পড়া থেকে নিয়ে আসতে হবে। মহিলা গপের এই পর্যায়ে এসে জুড়ানো চা সুরুৎ করে টান দেন। নাস্তাও মুখে পুড়েন। আমি গল্পের শেষ শোনার দ্বিগুণ আগ্রহ দেখাই। আমার ছেলেটি দরজার দিকে চেয়ে উ উ করে, অর্থাৎ সে যেন বুঝতে পারছে বাবার ঘরে আসার সময় হয়েছে। দরজা নড়লেই সে লাফ দেবে-যেন হেঁটে ফেলবে ওয়াকার ছাড়াই।

—সপ্তাখানেক বাদে তাই তিন দিনর নাইওর গেছে বাপর বাড়ি, আর তাইন দেখি সন্ধ্যারাত পরপরই আমারে লইয়া বিছনাত। আমি কই, আরে আমার জামাই তো দেখি আমারওই!

মহিলার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমার সদ্যলেখা উপন্যাসের চরিত্রের মতোই তাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারি না।

.                                                                                                                         # #

Comments

comments

মুজিব ইরম

মুজিব ইরম

মুজিব ইরম-এর জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার নালিহুরী গ্রামে, পারিবারিক সূত্র মতে ১৯৬৯, সনদ পত্রে ১৯৭১। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাসাহিত্যে স্নাতক সম্মান সহ এমএ। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তার ১৩টি কাব্যগ্রন্থ: মুজিব ইরম ভনে শোনে কাব্যবান ১৯৯৬, ইরমকথা ১৯৯৯, ইরমকথার পরের কথা ২০০১, ইতা আমি লিখে রাখি ২০০৫, উত্তরবিরহচরিত ২০০৬, সাং নালিহুরী ২০০৭, শ্রী ২০০৮, আদিপুস্তক ২০১০, লালবই ২০১১, নির্ণয় ন জানি ২০১২, কবিবংশ ২০১৪, শ্রীহট্টকীর্তন ২০১৬, চম্পূকাব্য ২০১৭। উপন্যাস/আউটবই: বারকি ২০১১, মায়াপীর ২০০৯, বাগিচাবাজার ২০১৫। গল্পগ্রন্থ: বাওফোটা ২০১৫। শিশুসাহিত্য: এক যে ছিলো শীত ও অন্যান্য গপ ২০১৬। এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে ধ্রুবপদ থেকে মুজিব ইরম প্রণীত কবিতাসংগ্রহ: ইরমসংহিতা ২০১৩, বাংলা একাডেমি থেকে নির্বাচিত কবিতার বই: ভাইবে মুজিব ইরম বলে ২০১৩, Antivirus Publications, Liverpool, England থেকে নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ গ্রন্থ: Poems of Mujib Erom 2014, ধ্রুবপদ থেকে উপন্যাসসমগ্র: মুজিব ইরম প্রণীত আউটবই সংগ্রহ ২০১৬। ## পুরস্কার: মুজিব ইরম ভনে শোনে কাব্যবান-এর জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি তরুণ লেখক প্রকল্প পুরস্কার ১৯৯৬। বাংলা কবিতায় সার্বিক অবদানের জন্য পেয়েছেন সংহতি সাহিত্য পদক ২০০৯, কবি দিলওয়ার সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪। কবিবংশ কাব্যগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪। শ্রীহট্টকীর্তন কাব্যগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন সিটি-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি