সাম্প্রতিক

বিগত বর্ষা ও আমি-তুই-তুই-আমি । ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা

Subra 11সখী ও রাই

কতো কতো রঙ্গ লীলা শেষে
সখী তুমি রাই
আর আমি সই থেকে যাবো
তবু্ও মন খারাপ করতে নেই জেনো

মন খারাপ গুলোতে মেঘ হয় নাই কোনদিন
কদাচিৎ বৃষ্টি হবে বলেও আশা রেখো না আর
ওসব স্বপ্ন আর ইচ্ছেডানার ভেতর ভেসে থাকা উড়াল রঙ সব
কোনটাই তোমার নয়
একটুকুও আমার ছিল না কখনই
তবু্ও মন খারাপ করতে নেই রাই
তবুও কখনো মন ভাঙ্গতে নেই

দুর প্রান্তরের ঐ একলা ছাতিমের মতো
কিংবা ঘন বাঁশের লিকলিকে শাখার মতো
তুমি কেটে যাবে
এই দিনমান
হাজার-বিজার ছাই রঙ্গা কইতুরী
আমি হয়তো থেকে যাবো এই রাত
আবহমান
ফুরানো কথার মতো
রাতভোর…

শাড়ি

তুমি আমাকে শাড়ি খোলার সময়
অন্তত শব্দগুলো তোমাকে দিতে বলো
আমাকে বিনয় করে বলো
অনুনয় করে বলো
তুমি বারবার বলো
বলো..দরজাটা, আচ্ছা ভেজিয়েই রাখো
কিন্তু খোলের আওয়াজগুলো দিও

আমি আঁচল নামাই
তারপর আঙ্গুল চলে যায়
ভাঁজ করা পাড়গুলোয়
ওখানে কোমরের লম্বিক সীমায় কুচিরা থাকে
তারপর
ঘিরে থাকা
কাপড়ের পালগুলো
সমূহ খোলসমেত
নেমে নেমে খুলে যায়

তুমি আবার বারবার জিজ্ঞেস করো
তারপর?…তারপর কোথায় এখন তুমি?
তোমার কথা শুনতে শুনতে
আর্শীতে শাড়িহীন আমি
দেখো কেমন রক্তাভ লাল
এলোচুল হাতিয়ে ঘাড়ের ওপাশে থেকে এপাশে বাগে আনতে
আমি ঝনঝন করে বলি
আর কিছু নাই
শাড়ি নেড়ে দিবো
তখন তুমি
ঠা ঠা করে হেসে বলো
আসবো ভেতরে?
বারান্দায় কিন্তু চড়ুইয়ের সংসার আছে

আমারটা বাঁচুক
তারটাও বাঁচুক

আমিতুইতুইআমি

আমাকে তুই প্রশ্ন করিস
কি দরকার ছিলো এসবের…এতো কিছুর?
আমি হাসি, হেসে উনমনে তাকাই
তোর মন খারাপ হয়
তুই আবারো মাথা ঝাঁকাস
মেনে না নেয়ার তোড়ে জোরে জোরে
বলিস…তুই ভাল নেই

আমি তোর মাথায় হাত বুলাই
ঝাঁকড়া চুলে জট বেঁধে থাকে সারাবেলা
তারপরেও তোর মন অমন
করে জটাহীন জড়তাহীন
বলি, চা খাবি
তুই অসহায়ের মতো চোখ জ্বলজ্বল ঠেকাতে পারিস না
জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলিস…দাও

কাঁচাপাতার সুবাস লাগানো চায়ের ধোঁয়াটা টেনে নিয়ে
মনে মনে বলি, হ্যা রে বোকা
এই সময়টা নতুন কষ্ট পাবার
তুই চিন্তা করিস না …

বাসন্তী শাড়ি

সে বসন্তে ঘর হয়নি আমার
শহুরে ছয়শ ফিটের তিন কামরার ঘরে
জোড়া বিধবাদের সন্তান
মায়ের নাকে ফুল নেই, পৌরাণিক
বোনের নাকছাবি সদ্য হয়েছে নাই, বর্তমান
দমবন্ধ আতংকের মধ্যেও ছোট্ট বারান্দার পাশ ঘিরে
ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা দেয়ালবৃক্ষ
বসন্তের দোল দেয়।

গলির রাস্তা পেরুলেই
অপারে মুখোমুখি সোয়া তিনতলার ছাদ
দেখি, টানা তারের উপর কড়া রোদ্দুরে
ঐ মেঘ হয়ে ভেসে আছে বসন্তের বাসন্তী সাজ!
সারাটা দুপুর, পড়ন্ত বিকেল
শাড়িটার দিকে তাকিয়ে আছি
লোভীর মতো- বেশরম পাপীর মতো
বেলা শেষে মিঠা আলোয় আধভেজা চুল নিয়ে
ছাতে উঠে এলো সে
স্বপ্নবনের আমি হয়ে উঠা সে
খোলের মাঝে বদ্ধ হলো আমার বসন্ত মেঘ যতো

পুরো সন্ধ্যাটা মেয়েমেয়ে দু:খ বুকে নিয়ে দিশেহারা

দিন এলো আবার
আমার ঘর হয়েছে একখান
চিলেকোঠার বারান্দা নেই, ফুঁড়ে উঠা বৃক্ষও নেই
বিধবা বিপন্নরা এখন অশ্বথ বৃক্ষ স্বয়ং
ভয় নেই কোন
বেহায়া হাওয়ায় মন আনচান করে আজো

উড়ুক এবার আমার বারান্দা থেকে
রঙ্গীন খোলের বাসন্তী শাড়ি খানি
দেখুক আরেক মেয়ে
উড়ছে তার বাসন্তী মেঘ এখন
অপর কোন ছোট্ট বারান্দা ঘিরে

মেয়ে তুমি আবার আসবে জেনো
বাসন্তী মেঘ তোমার এক আপন উঠোন জুড়ে
তুমি তখন মেলে দিও তারে
উড়িয়ে দিও অন্য কোন ঘরে…অন্য কোন মেয়ের আঙ্গিনা জুড়ে…

সোমেশ্বরী নদী

তুমি যদি সোমনাথ হতে
আমার কি তবে সোমেশ্বরী হওয়া হতো!

কতো কিছু গোছগাছ করে রাখি
কমলা শাড়ি-পাড়ের সুতো
চিকন মাথার চিকচিকে সোনামূখী সুই
পড়ন্ত বিকেলে ওম মাখা
কাঁথায় নকশা তুলবো
আ তি তি বলে ডেকে ঘরে তুলবো
উঠোনের লাল ঝুঁটির রাতা মোরগ

সোমনাথ, তুমি নেই বলে ঘরে
ছায়ারা কেমন ঘন হয়ে
ভীত করে আমাকে
নিজস্ব বুকের হু হু শুনতে পাই
আঁচলের গিটে বাঁধা সংসারের
চাবির ছড়া চেপে বুকে
মনকে বোঝাই… সোমনাথের ছায়া এলো বলে!

উঠোন জুড়ে কলরবে তুমি এসে দাঁড়াও
তোমার সামনে আমি
নিরাভরণ সোমেশ্বরী
আর তুমি সোমনাথ মুখোমুখি দাঁড়ানো
দেবতুল্য প্রকান্ড প্রচ্ছন্ন কায়া যেন
তুমি সোমনাথ বলেই
আমার আজ সোমেশ্বরী হওয়া হলো!

গেল জন্মের পর…

এ জন্মে সোমনাথ-সোমেশ্বরী হতে গিয়ে
তালবেতালে
এতোটুকু বিশ্বাস করে বলি

ভালবাসা, একটা দীর্ঘ খোলা জানালা
ঠিক অপর পাশের মুখোমুখি জানালায় তু’মি
তুমি অন্তত কায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছো!

পরজন্ম

তোমার তো এমনই হওয়ার কথা ছিলো
সত্যি! আমি তো আগেই জানতাম
তুমি এমনই হবে
শেষ কবে টিভির স্ক্রিনে চোখ রেখেছো মনে আছে তোমার?
সম্ভবত মনে নেই
তুমি তো এমনই, এমনই তো হওয়ার কথা ছিলো তোমার!

তুমি যখনই কোন ঘরের কথা বলো
হয় বাগান বিলাস কিংবা পাথুরে কুচির কথা বলো
নিদেনপক্ষে তোমার কাছ থেকে এটা জানাই যায়
কতোটুক বাড়লো বারান্দার পাশের বেহায়া আম গাছটা
কিংবা কতোরকম করে পাখি ডাকে তোমার শহুরে বাড়ির জানালায়…
সকাল বেলা কোন রংয়ের ডানার পাখি ঘুমধরা চোখে তুমি স্বপ্ন ভেবেছিলে!
তুমি তো এমনই ছিলে, তোমার তো এমনই থাকবার কথা ছিলো
সত্যি বলছি, আমি তো আগ থেকেই জানতাম!

ভালবাসাহীন চাঁদের রাতগুলোয়
তুমি মরে গেলেও শুভ্র প্রেত্মাতার মতো
উড়ে উড়ে ডাহুক প্রেমিকার মতো বুকের রক্ত খাঁ খাঁ করে ডেকে যাবে
ফিরে এসো…ফিরে এসো
তুমি তো এমনই ছিলে, এমনই তো হওয়ার কথা ছিলো
সত্যি বলছি! আমি এমনই চিনি তোমাকে!

বিবর্ণ মুখে ফিরে আসা ভালবাসার ঘ্রাণ
বুকভরা শ্বাসে তুলে নিয়ে সখী
ফিরে আসি, ফিরে আসি, ফিরে আসি

আমি তো এমনই আছি
ফুলের কিছু পাখির কিংবা নারীর অথবা শিশু বা মায়ের
আমি তো রাজ্যের কাজে দেখিনি নিজেকে
বরঞ্চ, মনে কয় ফিরে আসি ফিরে আসি
ফিরে আসি বালুর ঘাটে রেখে আসা
বাড়ন্ত ঢেউয়ের ভাঁজে
অনন্ত অবিরত দোদুল নৌকোটার মাঝে
ধুয়ে মুছে যাক আজন্ম প্রেমের পাপ পূণ্য
ফিরে আসি নাই বা ফিরে ঘরে

আমি তো এমনিই ছিলাম, এমনিই আছি
তুমি জানতে, আমি বেঘোরে ভুলতে বসেছিলাম
কদর্য অতীতের সুখেও যে আনন্দ থাকে
ভুলে বসেছিলাম…
আমি তো এমনই
খানিক ফুলের পাখির মায়ের কিংবা শিশুর…
তাই বারবার ফিরে আসি..আমি তো এমনই ছিলাম!

নৌকোডুবি মন

মন বলে কিছু নাকি থাকে না এই বস্তুগত পৃথিবীতে
আমি জানি..
তুমি তাই জানো
মনে-মনে কথা বলবার আগে তোমার মনটা খুলে এনে আমাকে দেখাবার আর কোন প্রয়োজন নেই…

তারপরেও, আমি তোমার জন্য মনের কথা জমা করে রেখেছি কেবল,
যেমন মুঠোভরা সবুজ শিশুর হাত..
যেমন শ্বাসের মধ্যে এক এক লম্বা আশ..
দীর্ঘতর শ্বাস
একটা সময় ছিল যখন মনের মধ্যে শরীর বসত গাড়তো কিংবা বৃষ্টির মধ্যে একফালি মেঘ

আর এখন মন কেবলই পিস্টন
হাত মানে কেবলই হাত
সম্পর্ক নাকি শেখায় হিসাব নিকাশ..
হৃদয়কে পিস্টন দেখেছি বলে আমায় তুমি কেবলই মনহীনা শরীর বলে ডাকো

মনের সীমানা এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে..
দ্রুত মেঘ থেকে বৃষ্টি নেমে যাচ্ছে..
আমি জানি- তুমি মানো তাই
মনে-শরীরে কথা বলার সময় তোমার মন আমাকে দেখানোর আর কোন প্রয়োজন নেই..

তারপরেও দেখো আমি এই অবেলায় মনের কথা জমা রেখেছি কেবল
মনের কথাই বলছি কেবল
মনের সীমানা শরীরের হাওয়ায় হারিয়ে যেতে যেতে
আমি বেহায়ার চোখে তাকাই
হাত স্পর্শ করে..ঠোঁটগুলো পিয়ে পিয়ে ছুঁয়ে দেখে..
এক এক পলক
আর তাই মনের কথায় আমার মন খুলে দেখানোর কোন বাড়তি প্রয়োজন পড়েনি

কিন্তু আজ আমি জানি, তুমিও তাই জানো
এখন নৌকোতে পা রাখবার সময় আমাকে কেবল ভীষণ ভারের পা’ই মনে হয়

আমরা জেনেছি যে নৌকোতেই যুগল পা রাখি তাই বারবার ডুবে যায়…

বিগত বর্ষা

ঘোর বৈশাখে এক ভীষণ বর্ষণমুখর দিনের অপেক্ষায় আছি।

একটা পুকুর লাগবে আমার …
পুকুরটার চারপাশে ঘন জঙ্গলা থাকবে। উবু হয়ে ভারী ঘন হয়ে থাকা জলের উপর লতাপাতাডালসমেত বৃক্ষের সুদীর্ঘ ছায়া থাকতে হবে, সমূহ সবুজ সমেত একটা কৃঞ্চচুড়া, কয়েকটা বড় বড় পুরনো ছাতিম, একটা প্রকান্ড চালতা গাছ, আর হয়তো নিবিড় বাঁশের ঝাড়।

গভীর
অতল
পুকুরের জলে ভীষণ বর্ষার ঝাক হুড়মুড় করে ঝরতে থাকবে।

সান বাঁধানো ঘাট কিংবা গাছের গুঁড়ি দিয়ে সবুজ শ্যাওলার ধাপ…
বর্ষণমুখর আসন্ন অপরাহ্নে মেঘ কালো ঘোরের মধ্যে কোন পুরুষ
হাত ধরে
আমাকে
সে জলের গভীরে নামিয়ে নিয়ে যাক।

আমি তার হাত দুই ধরে সফেদ শাড়ির খোল সমেত বিস্তর ভেসে থাকবো।

বৃষ্টির ছাঁটে স্পষ্ট নই আমি কিংবা সে ও
তারপরেও, জলের কিনারে ডুবে থাকা আমার ঠোটজোড়া নিয়ে বেলী ফুল সমেত আমি ডুব দিয়ে জলজ আলো দেখতে চাই…

হাহ! সমূহ জলজ আলো কিংবা গাঢ নীলাভ বর্ষণে ভেসে যাক জলে ডুবে থাকা আলতার নকশাগুলো
ভিজে যাক মখমলী লাল চুড়ার টিপ
বৃষ্টির ঝাঁজে হারিয়ে যাক সাদা চুড়ির কিন্নর…

তবুও আমাকে দুটো উন্মুক্ত হাত ফিরিয়ে দাও!
এই বরষায়

যে হাসি নিয়েঅকবিতা’ হয়

একটু ক্লিশে হাসলে কি ভাল দেখায়
নাকি একটু বেঁকে
ঘাড় ঘুরিয়ে
আলতো করে
কিংবা প্রাণ খুলে
দাঁত দেখিয়ে
হো হো হো করে..
নাকি হাসতে হবে ওর মতো করে
ওর দিকে তাকিয়ে চুপি চুপি
গ্রেভেটি রেখে..

আজকাল মধ্য দুপুরে প্রায়ই কালো চুলে নদী নেমে যায়
আজকাল প্রায়ই হাত খেকে এটা ওটা ফসকে পড়ে যায়
সেদিন পুরনো বাতিটাও ভেঙ্গে গেলো
আবছা হয়ে যাওয়া কাঁচে হাত দিতেই মুষড়ে গেলো স্মৃতি
ফুড়িয়ে গেল মোমজল..জলরঙ..পাকুড় শাখ..জীর্ণ বাঁশ..

আচ্ছা একটু বেঁকিয়ে খোঁপার ফুলটা এলিয়ে হাসলে কেমন হয়?
নাকি দ্বিধায় দ্বিধায় ভাঙ্গা আয়নায় জট পাকিয়ে
অন্তত একবার
কণিকা পাতায় দীর্ঘ ছায়া পড়ে
একটু কী জল ছিটিয়ে কলকলিয়ে নদী থেমে যায়..

আজকাল প্রায়ই আমার হাত থেকে এটা ওটা ফসকে পড়ে যায়
আজকাল প্রায়ই দুপুরে এলোকেশ নদী হয়ে যায়
আজকাল প্রায় শাড়িগুলো মেঘ
আমিগুলো নদী
তুমিগুলো পালক হওয়া হয়
আজকাল আমার প্রায়ই ভুলভাল হাসি হয়ে যায়

আচ্ছা, একটু কী নিশ্চুপে হাসবো..
ঝনঝনে হাসি হয়ে যায়
আজকাল আমার হাত থেকে এটা ওটা ফসকে পড়ে যায়…
কাঁচ ভেঙ্গে যায়
আজকাল প্রায়ই মনির পাতায় ছায়া দেখা যায়..
মধ্য দুপুরে প্রায় ঘুম জড়িয়ে যায়!

(মারুফ ভাইয়ের কবিতা পড়ে ওমনই উৎসাহ পেলাম যারপরনাই একটা “অকবিতা” [ধার নিয়েছি নাসরিন আপুর কাছ থেকে] দিব্যি লেখা হলো। আবার ট্যাগ করবারও স্পর্ধা দেখালাম। হাসি নিয়ে আমার নানা টানাপোড়ন, অপর কোন অভিজ্ঞতা নয়। ববিকে আদর, ওর হাসি দেখে নিজের হাসিকে চিনে নিলাম)

না প্রেম না বিদ্বেষ

তুমি বড়
তুমি এক নেতা
তুমি বড়সড় এক নেতা।

তুমি কংগ্রেস
তুমি পার্টি
কংগ্রেস তোমার পার্টি।

তুমি বাম, মানে হুংকার
শোষণ-শাসন-লাল দরবার
তুমি ডান নয়
তুমি প্রস্তর
তুমি হৃদয়বান মৃত্যুমন্ত্রর।

তুমি মানুষ, তুমি এক পুরুষ
তুমি একদম  সাধু পুরুষ!
তুমি স্লোগান. তুমি ব্যানার
তুমি কণ্ঠের মহান বীরবান!

তুমি করো আন্দোলন, পেছনে ফেলে দু:শাসন
তুমি স্বপ্ন, তুমি রোমান্স
তুমি বটতলার হৃদয় গেলাস
তুমি ধীর, তুমি চলন
তুমি বাম, তুমি বীর।

আমি নির্বোধ
কেবল এক মহিলা, আমি চির স্থির
আমি বালা।
আমি ঘরের
তাই মিছিলের মধ্যে বাইরের।
আমি পেছানো, আমি অটল।

তুমি এক নেতা জানো কেতা
আমি কেবল জ্ঞানের অপগাছা
তুমি বহর, তুমি রমন
তুমি বাহার, আমি ক্লেশ
তুমি এক বাম, তুমি নেতা
তুমি সৃষ্টি, তাতে আমি কেবল অতিরিক্ত বৃষ্টি!

তুমি সুস্থ, তাই হাঁকো
আমায় উন্মাদ
বিপরীতজোড়ে আমরা এতোই বান্ধা
তবে মোরে কী বলো হে বীর হে নেতা!

প্রেম যতোই তুমি জানো
এই কামুক ঘরকেতা
তোমার বাহে ঠিকই থাকে
যতোই পড়ো শত কেতা…
হে বীর, হে নেতা
আমি নির্বোধ, আমি বালা
বলো তোমার সাথে আমার কী কথা…কী কথা!!

.                                                                 #  #  #

Comments

comments

ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা

ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা

জন্ম ২৪ জানুয়ারী ১৯৮৪। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগে মাস্টারির কাজ করেন। আগ্রহের জায়গা যৌনতা, শরীরি রাজনীতি, সহিংসতা, ধর্ষণ ইত্যাদি।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: , , , , , , , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি