সাম্প্রতিক

উদ্ভাসিত বর্ণতরী । শিবলী মোকতাদির

উদ্ভাসিত আলোর মেলায়

ঘটনাচক্রে ঘটনার আগে পিছনে দেখছি যাকে
অধিকাংশই কাহিনির কারা-দুর্ভোগে ভুগে ভুগে
এসেছে সেতুর বন্ধন দিতে সম্প্রীতি মৈত্রীর
সূচনা — বদ্ধ শুষ্ক পাতার পড়ন্ত বৈশাখে।

কেউ-বা তাদের দিক হতে আসা পূর্ব কি দক্ষিণে
সভ্যভব্য লক্ষ্মীছাড়া ত্যাগী আর জ্ঞানী আলোকহারা
একই বিশ্বাসে জমতে থাকে বাণিজ্য-বাতাসে
ভক্তে ভক্তে শক্ত সদয় আলোচ্য এই দিনে।

যত জাতি তার তত সংঘের সমাগম প্রাঙ্গণে
কমলা, কাফি, পীত-পাণ্ডুর তর্কে সু-পণ্ডিত
মানুষে মানুষে ছয়লাব মাতা-পিতা আর পড়শীতে
শাসনে আসনে ধর্মে-প্রথায় বাহিত আলিঙ্গনে।

কিছু কিছু তার দাঙ্গা দায়ী সমরাস্ত্রের ঝাঁপি
খুলেই ডাকছে অর্থ এবং যৌনশাস্ত্র যদি;
বিফল করে মাংসেই রাখুন নিত্য শাকাহারী
লতা-গুল্মের গুণের গুণীন জাগ্রত সংলাপে।

তারই পশ্চিমে হরেক রঙের ফলেই ফলাকার
শ্রুতিফল মুখে কষ্টা-কষা ভাগে-গুণে, যোগফলে
জলের জন্য কৃতজ্ঞ কেউ মদের মদিরাতে
বিনিময় প্রথা উগ্র, আজব চিনিবালি একাকার।

কেউ-বা রসের রপ্তানিকার আধো আধো গুলবাজ
খিস্তি দিচ্ছে লম্বা মোটা কুমিরের লেজে তা
হাতির মূল্য সাদা-কালো ভেদে একান্ন তেজপাতা
গুরু তো সদায় শূন্য অঙ্কে গেরুয়ায় ঢাকে সাজ।

তবু হচ্ছে চরকি-চোদন কামে জাগা এক মন
চামে চামে হাত দিচ্ছে যথায় অক্ষরে দিয়ে পা
পিছলে যাচ্ছে স্বাক্ষরহীনা উঁচুনিচু জ্ঞানীজন
মহিলা মাত্র ডাকে আর কাঁদে আলিফ-লায়লা শোন।

নানান ঢঙ্গে যাত্রা-ফাত্রা হেথা মাইকেল মিসিবাবা
চলছে গেলাসে বিক্রি-বাট্টা রক্তে লালিত ঘোল
পুঁজের মধ্যে মুক্ত পায়েস পুষ্পের মুখে ফলা
পূর্ব ডাকছে চিরকাল পিছে, পশ্চিমে গেলে কাবা।

এত এত সব মানবপীড়ন মেলাকে কেন্দ্র ক’রে
হেঁজিপেঁজি যত খর্ব-খাটো রূপেও তো ঠিক তত
ঘুরছে ঘোরের ভিত্তি এবং বাক্যবদ্ধ ছলে —
বাহিরে ডাকছে রবীন্দ্রনাথ ভিতরে যাসনে ওরে!

বেগের বর্ণমালা

‘পূর্ণ পলায়নের পরবর্তী পর্যায়’ — এমনই এক রসালো প্রবন্ধের
পাঠ-প্রকল্পের প্রদত্ত শিক্ষিকা তুমি —
উৎকৃষ্ট আলেয়ার আচরণে, ফাঁকি দেয়া জিনের জালিয়াতি ভেদ করে
ছুটে যেতে চাও — কেন তবে পূর্বদিবসের আগে;
দুই হাতে মদ ও মাল্যের উপঢৌকনে, পাহাড়ের প্রান্তে,
পলাশীপত্রে রচিত — নিষিদ্ধ আমার-এ পান্থ কারবারে।

যেথা উত্তমপুরুষে, মুণ্ডিত মস্তকে;
বজ্রের বন্ধনে বসে আছি আমি।

সারাদেহে তোমার বেগের বিলাসিতা,
তাদের সংকেত ও সংঘর্ষের ভোকাবুলি
আর কী আজবগন্ধী এক পলায়নপ্রার্থীর পথছায়া
তোমাকে আবিষ্ট করে রাখে — প্রত্যহ, প্রতিদিন।

অথচ আমার পরিত্যক্ত কাল,
নিভে যাওয়া সব উদ্দেশ্য-বিধেয়
শূন্যসজ্জিত এই তীরাঞ্চল —
ভগ্ন শাস্ত্র ও সংখ্যার চাপে, মনে হয়;
ভুয়া কোনো এক তৈলাক্ত, মলিন মানচিত্রের অধিকারী হয়ে আছে
অযথাই, আধুনিক এই কালে!

শিরোনামে সম্পাদিত

প্রচলিত অণুর ভিতরে অনুবাদে জেগে আছো
নিরীহ গানের সুরে
দক্ষিণে সে স্বরচিত নারী, পাশে — প্রশ্নে জর্জরিত
দ্বিধাগ্রস্থ সহকারী।

দিয়েছো শ্রাবণ সেই ফাঁকে — ঘটনায় শান্ত নদী
আর চেনা মুগ্ধ বাঁকে
বিপরীতে ভুল, মন্দভাবে ধেয়ে আসা ধৃত মেঘে
ছায়া তবু ভেসে যাবে।

যদি-না বাতাস সমর্থনে ঘিরে রাখে একতায়
করে মেঘ অন্য মানে
ফলে তারা দেহের পশ্চাতে দলে-দলে ভ্রাম্যমান
দৃশ্যায়িত আজ রাতে।

দূরে থাকে বাঁকা বনভূমি, শাদা ও শ্রাবণ রঙে
বিবিধ গঠনে তুমি
আলোচ্য আকাশে অকারণে তবু ডাকো স্নিগ্ধ-হাতে
বর্ষা ঋতু যার টানে।

রূপকে রূপের ভিন্ন মানে, আহা রূপ! যুক্ত দেহে
মৌন শত অভিমানে
শূন্যে রাখো, চিহ্নে — নারীগত, পূর্ব হতে পশ্চিমে সে
শিরোনামে সম্পাদিত।

Comments

comments

শিবলী মোকতাদির

শিবলী মোকতাদির

শিবলী মোকতাদির। কবি। জন্ম ১১ জুন ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে, বাংলাদেশে, বগুড়ায়। প্রকাশিত গ্রন্থ : ধানের রচনা দিলে পত্রে (কাব্যগ্রন্থ), ছন্দের নান্দনিক পাঠ (প্রবন্ধগ্রন্থ), নিষিদ্ধ পুষ্টির কোলাহল (কাব্যগ্রন্থ ) সোনার কার্তুজ (কাব্যগ্রন্থ ), রৌদ্রবঞ্চিত লোক (মুক্তগদ্য)। যোগাযোগ : kobi.shiblymoktadir@gmail.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি