ব্যালন ডি’অরঃ হেভি ফাইভ মেসি!

ইকরা ইশতিয়াৎ : ৫ম বারের মত ব্যালন ডি’অর জিতলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক এবং বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি। ২০০৭ সালে ইওরোপিয়ান ফুটবলের এই সর্বোচ্চ পুরস্কার জিতা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাকা যখন ৫ম বারের মত সেরা এই ফুটবলারের নাম করলেন, তখন হয়ত জুরিখের আকাশের নক্ষত্রগুলা আরো উন্মাদ হইয়া জ্বলতেছিল। ১৯০ টা দেশের ফুটবল-পিয়াসীর মনের ভিতর গিয়া এইসব নক্ষত্রেরা নৃত্য করতেছিল। তাদের সাথে জ্বলতেছিলেন আরেকজন; মঞ্চের কিনারে বইসা। আন্তোলিনা রোকুজ্জে; লিওনেল মেসির জীবনমিতা।

‘মঞ্চে আরেকবার দাঁড়াইতে পারাটা আমার কাছে একটা বিশেষ মুহুর্ত। বিশেষ কইরা যখন আগেরবার ক্রিশ্চিয়ানো জিতলো। ’ ‘অবিশ্বাস্যভাবে আমি এইবার নিয়া পাঁচবার জিতলাম। যেন এইটা আমার বালক বয়সে দেখা বড় বড় স্বপ্নগুলারেও ছাড়াইয়া গেল। আমি সবাইরে ধন্যবাদ দিতেছি যারা আমারে ভোট দিছেন। ধন্যবাদ দিতেছি আমার দলের সহযোদ্ধাদের।’

এইরকম সাদামাটা কথাই বললেন মেসি। গাঢ়, গভীর, ধীর, নিয়ন্ত্রিত উচ্ছ্বাসে। মঞ্চের উপর। জুরিখের আকাশের নিচে।

বলতে গেলে ২০১৪-১৫ ছিল এককভাবে মেসিময়। বার্সেলোনাময়। স্প্যানিশ লীগ, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, কোপা দেল রে, ক্লাব ফুটবল চ্যম্পিয়নশীপ, উয়েফা সুপার কাপ সহ মোট পাঁচটা শিরোপা জিতে বার্সা। ফরোয়ার্ড সুয়ারেজ, নেইমার আর মিডফিল্ডার ইনিয়েস্তা, রাকিতিচদের নিয়া মেসিদের আক্রমণে এইভাবে গোটা বছর বিধ্বস্ত হইতে হইছে ইওরোপিয়ান ফুটবল শক্তির সব বাঘ-সিংহদের।

এই বছর মেসি ৬১ খেলায় গোল করেন ৫২টা। গোল করান ২৬টা। তার থেইকা ২ গোল যদিও বেশি করছেন পর্তুগালের সুপারম্যান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিন্তু দলগত সাফল্যে তিনি এবং তাঁর দল রিয়াল মাদ্রিদ ধারে কাছে ছিলেন না মেসিদের। ইওরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের ৬টা আসরেই মেসি ধারাবাহিকভাবে গোল কইরা যান। মোট ভোটের ৪১.৩৩ ভাগ পান লিওনেল মেসি। এর আগে ২০০৯ থেইকা ২০১২ সাল- টানা চারবার ব্যালন ডি’অর পান এই ফুটবল ম্যাজিশিয়ান।

এছাড়া মেয়েদের ফুটবলে এবারের সেরা নির্বাচিত হন আমেরিকান সুপারস্টার কার্লি লয়েড। এইবারে মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে জাপানের লগে তাঁর করা হ্যাট্রিক আমেরিকান ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। অভিনন্দিতও। আর এরই ধারাবাহিকতায় মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচের পুরস্কারও লাভ করেন আমেরিকান ন্যাশনাল মহিলা ফুটবল দলের বস লেডি জিল এলিস। পুরুষদের মধ্যে যথারীতি সেরা কোচ হন মেসিদের বস লুইস এনরিকে। বছরের সেরা গোল হিসাবে নির্বাচিত হয় ব্রাজিলিয়ান ৩য় সারির দলে খেলা খুবই অপরিচিত এক খেলোয়ারের যার নাম ওয়েন্ডেল লিরা। মঞ্চে যখন তিনি পুরস্কার নিয়া শুভেচ্ছে বক্তব্য দিতেছিলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই তখন আবেগে থরথর। লিরার ব্যাক ভলিতে করা অদ্ভুত গোলটা যে পুরস্কারটা কাইড়া নিছে, তার আরেকজন ভাগিদার ছিলেন লিওনেল মেসি!

এইবারের ফেয়ার প্লে পুরস্কারটা ঘোষণা করা হইছে ইওরোপের ঐসব ক্লাবদের লাইগা যারা তাদের খেলার এবং আয়ের বড় একটা অংশ ব্যয় করছেন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় চলা অন্যায় যুদ্ধের নির্মম ক্ষতির শিকার শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার নির্যাতিত বিতাড়িত মানুষদের কথা উঠলে অনুষ্ঠানে নাইমা আসে এক বিষাদময় নীরবতা।

নির্বাচিত বিশ্বসেরা একাদশঃ গোল কিপারঃ নয়ার –দলঃ জার্মানি; ক্লাবঃ বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্সঃ থিয়াগো সিলভা (ব্রাজিল, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন) মার্সেলো (ব্রাজিল, রিয়াল মাদ্রিদ) সার্জিও রামোস (স্পেইন, রিয়াল মাদ্রিদ) দানি আলভেজ (ব্রাজিল, বার্সেলোনা) মিডফিল্ডারঃ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (স্পেইন, বার্সেলোনা ) লুকা মদ্রিচ ( ক্রোয়েশিয়া, রিয়াল মাদ্রিদ) পগবা ( ফ্রান্স, জুভেন্টাস ) ফরোয়ার্ডঃ নেইমার (বার্সেলোনা, ব্রাজিল) মেসি ( বার্সেলোনা, আর্জেন্টিনা) রোনালদো ( রিয়াল মাদ্রিদ, পর্তুগাল)

Comments

comments

ইকরা ইশতিয়াত্‍

ইকরা ইশতিয়াত্‍

রাশপ্রিন্ট কন্ট্রিবিউটর

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: , , , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি