সাম্প্রতিক

সিনেমার নাম : দ্যা হোয়াইট বেলুন । সৈয়দ নাজমুস সাকিব

ইরানের ছোট্ট এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাহিনি। অন্যান্য নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে যা হয়- এখানেও তাই- “নুন আনতে পান্তা ফুরনো”, “প্রতিটা পয়সা হিসাবের পয়সা, পরিশ্রমের পয়সা”- অনেক কিছুর স্বপ্ন থাকলেও, স্বপ্ন পূরণ হয়না সাধ আর সাধ্যের অদ্ভুত এক সমীকরণের জন্য। এই পরিবারের ছোট্ট মেয়ে রাজিয়া একদিন ভয়াবহ এক অপরাধ(!) করে ফেলে- নতুন বছর আসা উপলক্ষে মায়ের সাথে বাজার করতে গিয়ে তার নজর পড়ে ১০০ টাকা দামের এক ছোট্ট একটা গোল্ডফিসের উপর- এতই সুন্দর গোল্ডফিসটা, যে এটাকে পাওয়ার জন্য সে যেন সবকিছু করে ফেলতে রাজি! মায়ের কাছে ইনিয়ে বিনিয়ে আবদার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়, কিন্তু মা কিছুতেই রাজি হন না। কেন রাজি হবেন? “বাচ্চাগুলো কেন বুঝতে চায় না যে শুধু একটা চকচকে মাছের পিছনে ১০০ টাকা খরচ করা আমদের মানায় না! তাও এমন মাছ যেটা ঘরে সাজিয়ে রাখার জন্য, খাওয়ার জন্য না!” অবশেষে অনেক অনুনয়ের পরে মায়ের মনের বরফ গলে, ৫০০ টাকা দিয়ে মেয়েকে পাঠান তার সাধের মাছ কিনে আনতে আর সাথে এও বলে দেন ভাংতি করে বাকি ৪০০ টাকা ফিরিয়ে আনতে।

“বিশ্বজয়” এর আনন্দ নিয়ে রাজিয়া ছুটতে থাকে মাছের দোকানের দিকে, কিন্তু সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছিল অন্যকিছু- দোকানদার ইতিমধ্যে মাছের দাম আরেকটু বাড়িয়ে দিয়েছে। বেশিদাম দিয়ে মাছটা কিনবে কি কিনবে না- এই নিয়ে যখন রাজিয়া চিন্তিত- তখনই হঠাৎ করে খেয়াল করল সে- ৫০০ টাকার নোটটা তার কাছে নেই! কোথায় গেল নোটটা? এখন কি হবে? মাছ কিনবে কি করে? বাড়ি যেয়ে মাকে কি জবাব দিবে?

কিছু সিনেমা আছে- যেখানে দারুণ ক্যামেরা ওয়ার্ক, লাইট, ভিজুয়াল ইফেক্ট- কিচ্ছু থাকে না। কিন্তু যা থাকে- সেটা মনের ক্ষুধা মিটিয়ে দেয়। The White Balloon এরকম একটি সিনেমা। জাস্ট কয়েকটা মাস্টার শট, লং শট, মিড শট, ক্লোজ শটেই ৮০ মিনিটের সিনেমা শেষ। আর অভিনয় নিয়ে কিছু বলে শেষ করতে পারব না, এত ছোট্ট একটা মেয়ে এতটা ন্যাচারাল আর অসাধারণ অভিনয় কীভাবে করে তা কিছুতেই মাথায় আসে না। মাছ না পেয়ে রাজিয়ার কান্নার দৃশ্যগুলো যেকোনো মানুষের হৃদয় এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট- একসময় ইচ্ছে করছিল নিজে ইরানে গিয়ে রাজিয়াকে মাছটা কিনে দিয়ে আসি- ছোট্ট একটা মানুষের এত কষ্ট সহ্য হচ্ছিল না! এই না হলে সিনেমার সার্থকতা!

ইরানি সিনেমা ইচ্ছে করে কম দেখি, হ্যাঁ- ইচ্ছে করে। কারণ দেখার পরে যেই অনুভূতি আর হাহাকার সৃষ্টি হয়- সেটা অন্য কোন দেশের সিনেমাতে মনোযোগ দিতে দেয় না বেশ কিছু সময়ের জন্য। হলিউড এর সিজিআই নাই, বলিউড এর চাকচিক্য নাই- কিন্তু যা আছে সেটা হল জীবনবোধ এবং তা ব্যাখ্যা করা হয় অত্যন্ত সহজসরলভাবে। সিনেমাটা দেখার অনুরোধ থাকল। জাফর পানাহি পরিচালিত এই সিনেমাটি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সহ বেশ কিছু জায়গায় পুরস্কার পেয়েছে। ডাউনলোড লিঙ্ক প্রথম কমেন্ট এ।

সিনেমা :

Comments

comments

সৈয়দ নাজমুস সাকিব

সৈয়দ নাজমুস সাকিব

মাস্টার্স চলছে ইংরেজি সাহিত্যে, জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটি, মানুষ সিনেমা দেখে, আমি সিনেমা খাই... sakib.ju40@gmail.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: 

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি