সাম্প্রতিক

বইঃ তাসেরা বুকমার্ক । জুয়েইরিযাহ মউ

কবিরা যা যা খোঁজে ফেরেন তা অনেরাও খোঁজেন কিন্তু প্রকাশ শুধু কবিরাই করতে পারেন, অন্যেরা একদিন করবেন বলে গাড়ির পিচু পিচু দৌঁড়ান, জাহাজের পিচু নিতে গিয়ে দেখেন প্রিয় নারীদের চুলে ফুল রাখা হয়েগেছে। ভাবতে ভাবতে দৃশ্য শেষ হয়, ইঁদুরের খোঁজ পেয়ে যায় কবি জলের ফ্ল্যাটে তুলে রাখে তার স্বপ্ন তার ঘটনা গুলো। এমনই কিছু কবিতার ছায়য় হারিয়ে যেতে সাহায্য করবে আমাদের রাশপ্রিন্ট। এবার তবে ‘জুয়েইরিযাহ মউ’ র কবিতা থেকে দু একটা লাইন তুলে দেয়া যাক : খুঁটি চিনতে চিনতে আমি আর পুষ্প যে জায়গায় এসে দাঁড়ালাম তার চারপাশে ইঁদুরেরা কেটে রেখে গেল ঘটনাদের। একটা ঘটনা তখন মিশে যাচ্ছে আরেকটা ঘটনার গায়, আর দেখ্ পুষ্প ফ্ল্যাটবাড়িগুলো কেমন জাহাজ হয়ে উঠতে চাইছে আজকাল। সূর্যাস্তের আগে যে অভিন্ন দৃশ্য থাকে তার একটায় বাবার পাশে অন্য নারী। আমি কেবল জানতাম সমুদ্রের নেশার পাশে কোথাও নিশ্চয় থাকে রেস্ট্রিকটেড জোন। তবু পা ঘষে ঘষে সেবার কাঁকড়াদের ঘর খুঁজছিলাম। আঁশটে গন্ধের ভেতর দেয়ালটা চোখে পড়লো। কয়েকটা যৌন-কথা, এক দু’টা ফোন নাম্বার আর ঝাপসা গ্রাফিতিও। এইসব পেরিয়ে যদি যেতে পারিস তবে দেখিস সমুদ্র বিশাল দাঁড় করানো সারি সারি জাহাজের পরেও। —রাশপ্রিন্ট

প্রযত্নেঃ দুপুর-রোদ

যতদূর আলোর রশ্মি দেখা যায় ততদূর জেগে ওঠে মানুষ…
কিংবা ঠিক ততদূর বেঁচে থাকতে পারে দীর্ঘ দীর্ঘ হাহুতাশ।

ভয়ঙ্কর দুপুরের মাঝে তোমার যে হাহাকার জেগে থাকে আজ
তারপর আমি জানি; প্রতিটা ইচ্ছেরই আসলে পৃথক মৃত্যু থাকে…

সবগুলো আলোর রশ্মিই আমাদের লাভা-নদী পেরিয়ে যেতে বলে।
প্রতিটা আলোক রশ্মির গায়েই লেখা থাকে বিস্মৃতপ্রায় গল্পের নাম।

প্রযত্নে: ধারের বই

বস্তুগত ব্যাপার-স্যাপার বটে, অবস্তুতে কী ই বা এমন রাখা?
প্রথম পাতার সিগনেচারের আর্টে তবুও কেন মন-খারাপটা লেখা!

তারা দেয়া কবিতা-ভাবনাতে অন্য কোথাও অন্য কেউ তো থাকে।
এসব ভেবে ভয় পাওয়া এক রাতে লুকিয়ে রাখি নিজেকে নিজেতে।

সন্ধ্যা-রাতে কী যেন সব থাকে, ‘বালস্য-বাল’ কথাগুলোও টানে।
অযথা তাই তর্ক জমাই বটে জানা-চেনা হাই-প্রোফাইল্‌ড তোমাতে!

এমন কষ্ট প্রায়ই আমার হয়, গলার ভেতর ছোট্ট কাছিম-ছানা,
তিনশ বছর পেরিয়ে যাবে বলেই আটকে রাখে খচখচে বেদনা।

মাথার ভেতর একশ ফড়িং ঘোরে, চোখের ভেতর লালরঙের বিছা!
আজকে না হোক অন্য কোনো কালে, এ চোখ তুমি এড়াতে পারবে না।

প্রযত্নে: যূথপত্

খুঁটি চিনতে চিনতে আমি আর পুষ্প যে জায়গায় এসে দাঁড়ালাম তার চারপাশে ইঁদুরেরা কেটে রেখে গেল ঘটনাদের। একটা ঘটনা তখন মিশে যাচ্ছে আরেকটা ঘটনার গায়, আর দেখ্‌ পুষ্প ফ্ল্যাটবাড়িগুলো কেমন জাহাজ হয়ে উঠতে চাইছে আজকাল।

সূর্যাস্তের আগে যে অভিন্ন দৃশ্য থাকে তার একটায় বাবার পাশে অন্য নারী।

আমি কেবল জানতাম সমুদ্রের নেশার পাশে কোথাও নিশ্চয় থাকে রেস্ট্রিকটেড জোন। তবু পা ঘষে ঘষে সেবার কাঁকড়াদের ঘর খুঁজছিলাম।

আঁশটে গন্ধের ভেতর দেয়ালটা চোখে পড়লো। কয়েকটা যৌন-কথা, এক দু’টা ফোন নাম্বার আর ঝাপসা গ্রাফিতিও। এইসব পেরিয়ে যদি যেতে পারিস তবে দেখিস সমুদ্র বিশাল দাঁড় করানো সারি সারি জাহাজের পরেও।

মউ ২প্রযত্নে: জাদুকর কিংবা আমরা

অতঃপর জাদুকর বলেছিল সে আসবে এবং
আমাদের চোখ উজ্জ্বল হয়ে জেগে ছিল,
আমরা জানতাম এখানে জাদুকরেরা আসে না
আর রক্ত-শব-মৃত্যু শব্দেরা
একঘেয়ে হয়ে পড়ে ক্রমশ…

তবু
জাদুকর বলে রেখেছিল সে আসবে এবং
আমাদের চোখ উজ্জ্বল হয়ে জেগে ছিল!

প্রযত্নে: ক-তে কাছিম

ঝুঁকে ঝুঁকে আসলে কেউ পড়ে না, ঝিমায়। কিংবা ঝগড়া জানে আর ভাবে আর কেবল ভাবে। ততদিনে বোনেরা বড় হয়ে যায়, ভাইয়েরা বোয়ামে রাখা নষ্ট আচার কিংবা পুরান সোনা। ধীর হয়ে থাকা এক কচ্ছপ ততদিনে হুট করে এগোতে থাকে আচমকা। অন্ধকার ঘরে বসে ট্যাবলেটে আসক্ত ভাইকে কেউ গল্প শোনায় – কচ্ছপেরা তিন চারশ বছর বাঁচে।

আর ছোটদের লুকিয়ে লুকিয়ে বলে- কোন একদিন কচ্ছপ এসে পৌঁছোলে গল্পেরা বদলে যাবে। কোন একদিন জঙ্গলের ভেতরের বাড়িটা ভেসে উঠতে পারে। আর আমরা পৌঁছে যেতে পারি টিলাগড়ের বিলাতি রহস্যে।

প্রযত্নে: আলকাতরা

একটা মাঠ ছিল। গাছের কোঠরে তার ডাকবাক্স, আর জাদুকর ছিল এক – এসমস্ত ইতিহাস। না জানলেও ক্ষতি নেই। শুধু জানতে পারো রোদের চাক চাক টুকরোকে জাদুকর আলকাতরা বানিয়ে দিতে পারতো অনায়াসে।

সেসমস্ত আলকাতরা মেখে চকচকে হয়ে উঠেছিল যে জাহাজ তা এখন বহুদূর ভেসে গেছে। কেবল কম্পাসটা গাছের কোঠরে থেকে গেল বলে তার আর ফিরে আসা হচ্ছে না কিছুতেই।

যে কোন টঙ চা-ঘরের পাশেই একটা ল্যাম্পপোস্ট থাকে। প্রতিটা ল্যাম্পপোস্টই এই শহরের কারও না কারও এপিটাফ। অতএব যে কোন ল্যাম্পপোস্টের পাশেই দাঁড়িয়ে পড়তে পারো। যে কোন টঙ চা-ঘরের পাশে দাঁড়িয়েই নিজেকে ভেবে নিতে পারো এপিটাফ!

প্রযত্নে: কুকুর

প্রতিটা কুকুরই কিছু নির্দিষ্ট গন্ধ আজীবন বয়ে বেড়ায়। কয়েকটা তীক্ষ্ম ঘ্রাণ। শহরের কুকুরদের আমার বহু প্রাচীন গল্প বয়ে বেড়ানো একেকজন যাজক মনে হয়। যে কোন অন্ধ ভিখারীকেই এরা পথ দেখিয়ে দেয়। এসমস্তকিছুর বদলে তারা কেবল এক টুকরো ড্রাই-কেক চায়।

প্রযত্নেঃ ঘুণ-পোকা

ফুটপাতে রাখা চেয়ারটাকে দেখি সযতনে, তার হাতল – ক্ষয়ে যাওয়া কাঠ। বসতে দিতে না-পারার সমস্ত অক্ষমতা নিয়ে পড়ে থাকে ফুটপাতে। আর বাচ্চারা ধুলো ওড়ায়।

প্রাক্তন বাকল ছেড়ে দেখা যায় যেকোন আসবাব মূলত ভান করে নতুনের। যে কোন মানুষের খুঁজে বেড়ানো সম্পর্কের কথা আমাদের মনে পড়ে যায়।

 

Comments

comments

জুয়েইরিযাহ মউ

জুয়েইরিযাহ মউ

কবি, সংবাদ-কর্মী, এবং প্রতিটা আলোক রশ্মির গায়েই লেখা থাকে বিস্মৃতপ্রায় গল্পের নাম। nirjola_zuairijah@yahoo.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: 

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি