সাম্প্রতিক

নির্বাসন, নেমেসিস এবং নির্মোহ আলাপচারিতা । পিয়ালী বসু

I hope you forgive me laying bare a memory like a wound.
—Czeslaw Milosz

পাড়াটা অচেনা
আসুন, সামনের গলিটায় ঢুকে পড়া যাক… এ ধরনের পুরনো বাড়িতে যেমন হয়ে থাকে, এ বাড়িটাতেও ঠিক তেমনই… নোনা ধরা… শ্যাওলার পরত পড়া… ভাঙা জানলার গরাদে বুনো ফুল, মোদ্দা কথা, বাড়িটা’কে জীর্ণতার একটা অস্পষ্ট সমাহার বলা যেতে পারে

চলুন, ওঠা যাক সিঁড়ি ভেঙে
সোজাসুজি আলো পড়া ঐ ঘরটায়…
পাল্লা খোলা কাঠের দরজাটার ঠিক উল্টো দিকে… অবসাদ বাস করে
ডালপালা মেলে… শিকড় বিছিয়ে

জানেন? সাড়ে আঠেরো মিনিট প্রতীক্ষা করার পর, সেদিন তর্জনীতে তুলে নিয়েছিলাম অনন্ত শূন্যতা… নির্বাসন দিয়েছিলাম নিজেকে

চোখ দুটোকে রগড়ে নিলাম একবার। ঠিক দেখছি তো?… আসলে বিশ্বাস হচ্ছে না।
ঘরটায় টেবিল —চেয়ার কিছুই নেই…প্রজাপতি — রঙ— প্রেম এমনকি… রামধনুও নেই

নির্বাসিত’ দের নিজস্ব আকাশ থাকে কি?

দেওয়ালে ঠেসান দিয়ে বসলাম…উল্টো দিকে তাকিয়ে রইলাম অপলক দৃষ্টি। বেশ দেখতে পাচ্ছি… গুঁড়িগুঁড়ি মনখারাপ… জমা হয়ে রয়েছে লালচে খয়েরী দেওয়ালটায়

চোখ ফিরিয়ে নিলাম
মন ‘টাকে এক জায়গায় এনে ভাবতে বসলাম… ভাঙতেও
স্মৃতিগুলি কে এনে দাঁড় করালাম… ইতিহাসের শেষ অধ্যায়ে
মাইটোসিস অফ থটের ই উস্কানি’ কে একেবারে পাত্তা দিলাম না

একাকীত্ব কে ভিস্যুয়াল ডেকোরেশন’র সংজ্ঞা দেওয়া যায় কি ?

সম্বিত ফিরলো একটা মাঝারি মাপের নিম্নবিত্ত স্টেশনে
‘‘কি ভাবে এলাম এখানে?’’
পার্সোনাল এবং কালেক্টিভ স্মৃতিগুলিকে মেলানোর চেষ্টা করলাম

আজকাল বেশ নতুন একটা ব্যাপার ঘটছে…স্ট্যান্ডার্ড বডি ল্যাংগুয়েজের ভিতরও পোয়েটিক ল্যাংগুয়েজ ‘খুঁজে পাচ্ছি

যে সম্পর্ক শিহরণ জাগায় না
অনুভূতি যেখানে ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করে সার্বজনীন হয়ে ওঠেনা
সে সম্পর্ক পচনশীল…মৃত…এবং অপ্রাসঙ্গিক
সময়ের রাইজোম্যাটিক চ্যাপ্টারে সে প্রেম মৃত

ভাবনা চিন্তা করা আজকাল ছেড়েই দিয়েছি
নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের মধ্যস্থতায় সমাজের পরিবর্তনশীল আনুগত্যের দলিল হিসেবে চিহ্নিত হবার পর, আজ নির্বাসিত ‘হবার যন্ত্রণা’টা বুঝি…

Remembering me, discover and see
All over the World she´s known as a Girl

ফেলে আসা সময়ের সমস্ত প্রজন্মের ক্ষত এই মুহূর্তে আমার শরীরে
বয়স আর বিশ নয়…ফলত শূন্যতা খুঁজে পাওয়া সহজ হয় ইদানীং

ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত দহনের দগদগে ক্ষত, এখন দৈনিক যাপনে প্রহসনে পর্যবসিত…তবুও… সেদিন নির্বাসনটা প্রয়োজন ছিল…বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের ছায়া-ব্রিজ’টি পেরিয়ে, শূন্য দশকের নতুন এক মাইলস্টোন রচনা’র জন্য

Comments

comments

পিয়ালী বসু

পিয়ালী বসু

জন্ম দক্ষিণ কলকাতার। বাবা প্রয়াত প্রসূন বসু বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাহিত্য জগতের ব্যক্তিত্ব। পড়াশোনা প্রথমে পাঠ ভবন ও পরে বাংলা সাহিত্য নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম প্রকাশিত বই 'ফেলুদা কুইজ' প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ছটি। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে 'কথা কাব্যের চক্রবাক' নামে চারজন কবির একটি আন্তরজাল কাব্য সংকলন। পেশায় ডিজাইনার, কর্মসূত্রে ১৬ বছর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে স্থিত। piyadublin@gmail.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি