থেকে যায়, কাটে না । মিসবাহ উদ্দিন
সাম্প্রতিক

থেকে যায়, কাটে না । মিসবাহ উদ্দিন

থেকে যায়। কাটঠোকরার ঠুকঠুক, বৃক্ষের ক্ষত, ক্ষত বহনের নেশা, শালিখের লোম, ভরদুপুর, ছাইদানি, কোলাজ কিংবা কেলাইডোস্কোপ।
কাটে না।

সাবস্ট্যান্ডার্ড!
উঁহু, ও অ্যাকটা কাল্ট!
হাহ! ফিলিপ স্মিথ আর ক্রিস জেঙ্কস পাশাপাশি দেখতে পারেন। বাই দ্য ওয়ে, কাল্ট-এর চেয়ে ওকাল্ট বেশি সেক্সি!
পেটে ব্যথা হয়ে গিয়েছিলো। নিয়ত সহি ছিলো না।
ললিতা আর বিশাখা…
নো ইমো, প্লিজ!

একটা স্টুপিডের সাথে হ্যান্ডশেইক করার সময় হাতে হাত ধরে ধরে গোল হয়ে ঘুরে ঘুরে কার্তিকের মিঠা রোদ মাথায় আসলে আপনার সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানোই জরুরী। কিন্তু, কী আশ্চর্য, আপনি তখনো ভাবছেন দেশলাইয়ের শেষ কাটিটা ডান পকেটে নাকি বাম পকেটে খুঁজবেন। আহা কিটস! আমিও যদি নেশা করতে পারতাম! হায়, কেবলই নেশা আমাকে করে চলে যায়…

আটটায় গলাবাজি, প্রেপারেশন নেই।
আদা খান।
হুম, ট্রাইড আ লট। নো রেজাল্ট, দৌ!

বৃষ্টির উপর কারো হাত থাকে না। নো রেজাল্টের জন্যও রেডি থাকতে হয়। বর্ষায় রিভার্স সুইং করানো মুশকিল। ও রোজ, দৌ আর্ট সিক! চলো, চপ্পল পরে কাদায় নামি, পিছলে পড়ি, কোমরে ব্যাথা পাই, ঝান্ডুবাম লাগাই।

খেলতে পারেন?
হাহাহাহা…
কী?
ডাহুক উড়ায়া দিয়া তারপর আবার ধরে না…
টেল মি সামথিং অ্যাবাউট দ্য সিগনিফিকেনস অব দ্য অডিয়েন্স।
শাইন লাইক আ ডায়মন্ড।
হাউ ইজ ইট রিলেটেড?
অডিয়েন্স মেইকস আ স্টোন ডায়মন্ড।
হুম, এই অর্থে তো ঠিকই আছে।
আপনার দর্শক কে?

খেয়েছেন?
না, আজকে ভালো লাগছে না।
হুটহাট ডায়েট বরং ক্ষতিকর।
আপনি?
হুম।
কী খেয়েছেন?
বলা যাবে না।
কেন?
অস্বস্তি লাগে।
স্যরি।
নো ওরিজ।

আমি কি দেখছিলাম? মুশকিল বলা। সে আমাকে? ইভেন টাফার! একটা খোয়াবনামা ছিলো বাবার দাদীর বালিশের পাশে।

মনোবিশ্লেষন, কী কঠিন শব্দ, বাবা!
স্বপ্ন-সমীক্ষণ?
হোয়াট ইজ আ ড্রিম?
অ্যাকটা নাদা থেকে আরেকটা নাদার মাঝখানের দূরত্বটুকু!
ধূর! ল্যাটিনরা ভালো!
হুম, ল্যাটিনো! এরোটিকো, এক্সোটিকো! হাহাহাহা…

তো একশ বছরের নিঃসঙ্গতার পর কী? কলেরার টাইমে ভালোবাসা কি আগে না পরে? এক সময় বাংলা সাহিত্যে হরহামেশায় ওলাওঠার সাক্ষাৎ পাওয়া যেতো।

প্যাস্টোরাল আর শেফার্ড মোটিফ নিয়ে কীভাবে ভাবেন?
মেসিয়ানিক বিষয়টাও ভাবায়।
আমি তো স্কর্পিও। ওয়ান অব দ্য বেস্টস!
বেশি হয়ে গ্যালো না?
উঁহু, অহং একটা জরুরী বিষয়।

অহং! চালতাগাছ ছিলো একটা। ঐ ফল খাওয়ার চেয়ে বরং দেখতে বেশি ভালো লাগতো আমার। এখনো কি লাগে? শেলফে ফ্রয়েড, চার্বাক…

আপনার শৈশব সম্পর্কে জানতে চাই?
হুম। এক্সপেক্টেড। একটা ইকোনো ডিএক্স বলপেনের ভিতর জমে ছিলো আমার সমস্ত শৈশব।
ধুর!

পিপীলিকা বলে খ্যাপাতাম তাকে। আমার এক বন্ধু তাকে বোন বানিয়েছিলো। ভাবতে পারেন, ক্লাস ফোর! নাইনটিজ-এর জেনারেশন! ইনচেস্ট বিষয়টা কি বন্ধু জানে এখনো?

তারপর, কেমন আছেন?
আই অ্যাম অলওয়েজ ফাইন!
ঢং রাখেন, সত্যি কেমন আছেন?
সত্যি কেমন থাকা আর মিথ্যা কেমন থাকার পার্থক্য কী?
আচ্ছা বলুন, আপনার চিন্তা আগে না আপনি আগে?
ওয়েস্টার্ন দর্শন কি কেবল শুরু করলেন?
হাহ! আপনার সাথে আলাপ চালানোই মুশকিল!

দর্শন! টানা দুইটা বৎসর পাশাপাশি ক্লাসরুমে বসে থাকলাম আমরা। তারপর একদিন ওর কাপ থেকে আমার হাতে চা পড়ে গ্যালো!

স্যরি, স্যরি, ব্যথা পেলেন?
উঁহু, সত্যিই পেয়েছি কি না জানি না।
এক্সট্রিমলি স্যরি, ভাইয়া!
আপনি কোন ব্যাচের?

দশ বছর আগে যা খুঁজেছিলেন দশ বছর পর তা আচমকা সামনে এলে মাঝখানের দশটা বছর কোথায় হারায়?

বার্ন ইউর ডিজায়ার, কে বলেছিলেন, বুদ্ধা?
বাসনা পুড়িয়ে ফেলার বাসনাও কি বাসনা নয়?
সাইলেন্স নিয়ে বলেন?
রুমির কাছে যান।
রূপান্তর?
গায়ে হাত দিয়ে দেখুন।
অটো-ইরোটিক? মাস্টারবেটরি?
উঁহু, দেখতে চাইলে দেখা যায়, না চাইলে নাই।
পশ্চিমা!
পূবও তাহলে চিনে যাবেন।

সেদিন তারে দেখলাম। সন্ধ্যায়। আমার শীত লাগছিলো। তার বেণি করা ছিলো। আমি একটা নিউজপেপারের মতোন থরে থরে সাজানো তথ্য হয়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরলাম।

বাড়ি যাবেন না?
সময় হয়নি।
কবে যাবেন?
বাড়ি চেনার পর।
কী ভালো লাগে? সাগর না পাহাড়?
সঙ্গম!
আহেম, আহেম!
ভিজ্যুয়ালাইজেশন এমন দুর্বল কেন?
আপনি মাঝে মাঝে যা তা বলেন!
এবার বোধ হয় প্রজেক্ট করছেন!

আধা যুগ। ম্যাথমেটিকলি। জেইটগেস্ট। হুটহাট বাসে চেপে বসা। প্লাটোনিক? উঁহু। এরোটিক? উঁহু। তো? জানতে তো, তাই না? হুম, বোধ হয়। বোধ হয়? বিশ্বাস করতাম না। এখন? এখনো মানুষে বিশ্বাস রাখতে ইচ্ছে করে। রাখিস? জানি না…

বিজি ছিলেন?
হুম।
ওকে, যাই।
ফেরাতে নেই।
হ্যাঁ, তা হবে কেন?
ডোন্ট বি মেলোড্রামাটিক।
আপনার কি মন বলতে কিছু নেই?
কুসুমদের প্যাটার্ন আমি চিনি।

শৈশবে বাবা পাশে বসে খাওয়াতো। ডিমের কুসুমে আমার বমি লাগতো। মাছের মাথাতেও। বাবাদের স্নেহ কি স্নেহ-কেন্দ্রিকই হয়?

খেয়েছেন?
না, আজকে ভালো লাগছে না।
হুটহাট ডায়েট বরং ক্ষতিকর।
আপনি?
হুম।
কী খেয়েছেন?
বলা যাবে না।
কেন?
অস্বস্তি লাগে।
স্যরি।
নো ওরিজ।

অথচ সে তো এদিকেও আসতে পারতো। ক্ল্যাসিক মিসটেইক। আমি ঐ গার্ডটার কথা ভাবি। ক্ষত সেরে গেলে ত্বকে পুনরায় কেশোদগম হবে না।

আছেন?
হ্যাঁ, আছি তো।
আচ্ছা।
কী?
কিছু না।
মানে?
মানে নেই।

ওরা তো বোধ হয় আলাপই করছিলো। মানে কি আমি জানতে চেয়েছিলাম? মনে পড়ছে না…

নিজের যত্ন নিবেন।
অটো-ইরোটিক, মাস্টারবেটরি?
ধুর! খালি বাজে কথা!
হুম। ধন্যবাদ!

Comments

comments

মিসবাহ উদ্দিন

মিসবাহ উদ্দিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে আলাপ করেন।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি