সাম্প্রতিক

এক গুচ্ছ কবিতা । নওশাদ জামিল

সবুজ রক্ত

চুপচাপ শুয়ে আছি পাহাড়-টিলায়। চারদিকে
সহজ সবুজ ঘন চা বাগান, মৃদু আলোড়ন।
কোথা থেকে এল ঢেউ? ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে
খিল খিল করে হাসে। বলে, ‘বাবু মেরা সাথ যাবে’?
হাসি শুধু হাসি নয়, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে মদ
কটুগন্ধ। তিতাস্বাদ। তারাপুর পাহাড়চুড়ায়
কে তবে আমাকে ডাকে? মাটিতে লুটানো এলোচুল
বাগানে ছড়ানো শাড়ি। হাতে হাত রাখি, মুখে মুখ।

এ যেন সবুজ রক্ত, যোনীদ্বার থেকে গলে গলে
জ্বালিয়ে রেখেছে লাল মশাল, নিস্তব্ধ চরাচর।
বলি ‘চল ঘরে যাই’। হঠাৎ সে জোরে টান মেরে
আমাকে বলল হেসে: ‘বাবু এ-বাগান মোর ঘর’।
এত হাসি, এত সুখ? সামান্য গিলেই নাচে চাঁদ
আমি নাচি, সে-ও নাচে, কাঁপে পাহাড়ের কালোসাপ।

পাগল প্রলাপ

দীর্ঘ বিস্মৃতির দিন এসেছে এখন। মস্তিষ্কের
কোষে কোষে অসার জড়তা। সবুজের জট যেন
মাথার ভিতর ঢুকে গেছে সাবলীল। তবে কেন
এসেছি এখানে? কিছু কী ছিল আমার? আমাদের?
শূন্যহাতে, ভিক্ষার ঝুলিতে ঝরে পড়ে টুপটাপ
কবিতার বিষণ্ন প্রহর। আমি ধরতে পারি না
ছুঁইতে পারি না বলে ছুঁয়ে দিই নিরুদ্দেশ মেঘ
মুখমণ্ডলের রেখা। তুমি বলো: পাগল প্রলাপ।

স্মৃতি থেকে বিচূর্ণ মুখের দিকে হেঁটে যেতে যেতে
মনে পড়ে শালপাতা, শান্ত নদী। মধ্যবয়সের
কাছে কেন যাব? তুমি তো চেয়েছ শৈশবের রোদ
চেয়েছ কুড়িয়ে আনা শালিখের ছানা, মাটিঘর।
কিভাবে বানাব ঘর? কাঠ নেই, মাটি নেই বলে
বালির ওপরে আঁকি ঘর, আঁকি তোমার অধর।

নগ্ন পদচ্ছাপ

এক বিদায়ের থেকে অন্যকোনো বিদায়ের দিন
যত দীর্ঘ হয় ততদিন ঘুরে আসি
ততদিন দেখি কিছু নগ্ন পদচ্ছাপ
মাঝখানে অধিকারহীন — উড়ে উড়ে চলে যায়
মুহূর্তের ধাক্কা
দেখি একভ্রুণ থেকে জেগে ওঠে আরেক পৃথিবী

এই রাত্রি এই সুড়ঙ্গের কানাগলি
আবার কী অবলীন হবে?

সিঁড়িমুখ ধরে হেঁটে যেতে যেতে শুনি
ঝিমধরা পাগলের হাসি
যেন আচ্ছন্নতা। আলো নেই, ছায়া নেই
নিশ্বাসের মতো পড়ে আছি এই গ্রহে, মায়াজালে

মাঝখানে কিছুদিন ঘুরে আসি — মাটিতে, পাথরে
ঘুরে আসি অশ্র“তে, হাসিতে।

Comments

comments

নওশাদ জামিল

নওশাদ জামিল

কবি ও সাংবাদিক নওশাদ জামিলের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১ মে, ময়মনসিংহের ভালুকায়। তার শৈশব কেটেছে ভালুকার সিডস্টোর বাজার এলাকায়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশোনা সেখানেই। তারপর চলে আসেন ঢাকায়, ভর্তি হন ঢাকা স্টেট কলেজে। উচ্চমাধ্যমিকের পর পড়াশোনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, সরকার ও রাজনীতি বিভাগে। সেখান থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশা সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতার শুরুতে কাজ করেন দৈনিক প্রথম আলোয়। বর্তমান কাজ করছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের বার্তা বিভাগে। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তীর্থতল’ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের অমর একুশের গ্রন্থমেলায়। বইটির প্রকাশক ঐতিহ্য। একই প্রকাশনী থেকে ২০১৪ সালে বের হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কফিনে কাঠগোলাপ’। ২০১৬ সালের গ্রন্থমেলায় তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ঢেউয়ের ভেতর দাবানল’ প্রকাশ করে খ্যাতিমান প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশ। ২০১৭ সালের গ্রন্থমেলায় ভ্রমণগ্রন্থ ‘লঙ্কাপুরীর দিনরাত্রি’ প্রকাশ করে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। এ ছাড়াও সম্পাদনা করেছেন ‘কহন কথা: সেলিম আল দীনের নির্বাচিত সাক্ষাৎকার’ (যৌথ) ও ‘রুদ্র তোমার দারুণ দীপ্তি’ (যৌথ) শিরোনামের দুটি বই ও পত্রিকা। কবিতা ও সাংবাদিকতার জন্য ইতিমধ্যে নওশাদ জামিল অর্জন করেছেন বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা। কবিতার জন্য পেয়েছেন কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার, বিশাল বাংলা সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গ থেকে পান আদম সম্মাননা পুরস্কার। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য পান ইউনেস্কো-বাংলাদেশ জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড। তার স্ত্রী খন্দকার কোহিনুর আখতার পেশায় বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মী। মোঠোফোন: ০১৭১৫-৭৬৪৬৫১ ইমেল: naushad.jamil71@gmail.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি