শিশির, সাবান অথবা বসন্তে বৃষ্টি | হাসান আহমদ

হাসান আহমদ

তারপর, প্রেম ও দাম্পত্যের দীর্ঘ আট বছর পর একদিন মাঝরাতে আবিষ্কার করলেন যে আপনার শয়ন কক্ষের দেয়ালে একটা আশ্চর্য ফাটল। তখন আপনি একইসঙ্গে সঙ্গিনী ও যৌনতাবিহীন। শয্যাগত। শীত ততদিনে শেষ হয়ে গিয়েছে এবং বসন্তেরও শুরু। কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে বসন্তটা যথাযথ নিয়মে তখনও শুরু হতে পারেনি। বিলম্বিত শীতের আক্রমণ বসন্তের বিধান বাস্তবায়নকে ব্যাহত করছে। এমন একটা মধ্যরাতে, অহেতুক উত্তেজনা ও বিরক্তির সঙ্গে আবিষ্কার করলেন যে, সেই ফাটল ধরে কোন পাহাড়ি জংলার ভেতর পরিত্যক্ত প্রস্রবণে যেভাবে ক্ষীণতোয়া জল গড়িয়ে পড়ে, ঠিক সেভাবে দেয়ালের ফাটল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জলের ক্ষীণ ধারা!

কিছুটা বিরক্ত আপনি, কিছুটা সন্ত্রস্ত। জলের ধারার উত্সটা কোথায়? বৃষ্টি এলো কি? জানালা খুলে বাহিরে হাত বাড়িয়ে দেখলেন যে বৃষ্টি নেই। আপনি স্মরণ করে নিশ্চিত হলেন যে ছাদের উপর থেকে চৌবাচ্চা উপচে জল পড়ারও কোন সম্ভাবনাই নেই। দরজা খুলে ব্যালকনিতে এসে দেখলেন যে বাহিরে ঘন কুয়াশার চাদর অদূরের ল্যাম্পপোস্টটিকে এমনভাবে ঘিরে ধরেছে যেন ক্রমশ নিভন্তপ্রায় কোন চুল্লির ভেতর ছাইচাপা কাঠের টুকরোগুলোর শেষ রক্তিমাভাটুকু শুধু  অবশিষ্ট।

কিছুদিনের মধ্যেই বসন্ত তার বিধান পরাক্রমে জারি করে ফেলল। বসন্তের মাঝামাঝি এক রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে আপনার সঙ্গিনী ফিরে এল। রৌদ্র শেষ না হতেই শুরু হলো প্রচন্ড ঝড়। সেইসাথে বৃষ্টি আর বৃষ্টি। সঙ্গিনী ও যৌনতায় আপনি শয্যাগত। আচমকা দেয়ালের ফাটল থেকে সাবানের টুকরো গলে গিয়ে বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো ঘরময়। ততদিনে ফাটলটি কিছুটা বেড়েছে। জলের ধারা আরও তীব্র ও বেগবান হলো। যৌনতায় থরোথরো কাঁপল ঘর।

আপনার শয়ন কক্ষের দেয়ালের ফাটল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে শিশিরের জল! কী অদ্ভুত! শিশিরের জলের ধারা এতো বেগবান হতে পারে! রোমাঞ্চ এবং পুলকানন্দে আপনি যারপরনাই শিহরিত হলেন! আঁজলা ভরে জল সিঞ্চন করলেন চোখে, মুখে, বুকে এবং যৌনতাহীন ঠোঁটে!

এবং অনিবার্য ভাবে যখন আপনি বিষন্নতা ও গ্লানিবোধে আক্রান্ত হলেন- মুহূর্তে সন্ত্রস্ত এবং ভীতচকিত হয়ে উঠলেন সেই ফাটল এবং জলের ধারা মুছে ফেলার জন্য। সাবানের টুকরো দিয়ে আপনি ফাটল এবং জলের প্রবাহ বন্ধ করে দিলেন।

কিছুদিনের মধ্যেই বসন্ত তার বিধান পরাক্রমে জারি করে ফেলল। বসন্তের মাঝামাঝি এক রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে আপনার সঙ্গিনী ফিরে এল। রৌদ্র শেষ না হতেই শুরু হলো প্রচন্ড ঝড়। সেইসাথে বৃষ্টি আর বৃষ্টি। সঙ্গিনী ও যৌনতায় আপনি শয্যাগত। আচমকা দেয়ালের ফাটল থেকে সাবানের টুকরো গলে গিয়ে বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো ঘরময়। ততদিনে ফাটলটি কিছুটা বেড়েছে। জলের ধারা আরও তীব্র ও বেগবান হলো। যৌনতায় থরোথরো কাঁপল ঘর।

অতঃপর, সেই বসন্তে, বদ্ধ ঘরের ভেতর বৃষ্টির  জলের প্লাবনে ভেসে চললেন আপনারা দুজন।

Comments

comments

হাসান আহমদ

হাসান আহমদ

হাসান মূলত কবি। তার কবিতা বাংলাদেশের বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কিছুটা বোহেমিয়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে একাডেমিক পড়াশোনায় আপাতত ইতি টানেন, চলে যান জাহাজের নাবিক হতে। কিছুদিন সমুদ্রে কাটিয়ে মাটিতে ফিরে আসেন। মাটি তাকে আর ছাড়ে না, কবিতা তাকে টানে। বর্তমানে চাকরিসূত্রে সিলেটে বাস করছেন। জন্ম চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার আশারকোটা গ্রামে, ১৯৮৬ সালে।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি