পাণ্ডুলিপি থেকে । নুরেন দূর্দানী
সাম্প্রতিক

পাণ্ডুলিপি থেকে । নুরেন দূর্দানী

কুমারী

স্মতিকথা নাগালের বাহিরে। আমার হাত ধরে কেউ ঘুরছে। আমি ছাড়তে চাইছি। সে আরো মুঠোবন্দি করছে। দাঁড়িয়ে গেলাম ভিড়ের মাঝে। সে দাঁড়িয়ে রইল হাত ধরে। বাশি হাতে দিতেই, আমি অবাক-বিস্মিত! চোখের আড়ালে লজ্জা উঁকি দিয়ে রইল। ‘সে’— এর জন্য একটা কিছু খুঁজছিলাম বাঁশি আর আমি। সাদা বলটা ওপরে ছুড়তেই লাল-নীল আলো ছড়াতে লাগল। জ্বলতে জ্বলতে আকাশে উঠছে আবার পাতালে নামছে। আমরা পা দোলাতে দোলাতে মানুষ দেখি বসে বসে। কাসুন্দি মাখা পেয়ারায় কাঠি দিয়ে খোঁচাতে খোঁচাতে সে বলে, কী সুন্দর ঢেউ! আমিত্ব ছেড়ে খুঁজে বেড়ায় কে কাকে, ভুল মানুষের ঢেউ? অলসতায় ফের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি একক দৃষ্টির শোক। মুঠোভর্তি মাটি তুলে দিতেই বলে বসে আড়ালের মখোশ; ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই?

দ্বৈত সত্তার মৃত আলোর দীর্ঘ যাপন…

মনের মানুষ, বাঁশির সুর গেঁথেছে প্রাণে। বাঁশি ঝুলে থাকে দেয়ালে। একান্ত সময়ে আমার পা ছুঁয়ে পুষ্পপালিত মেয়ে ভয়ে ভয়ে বাঁশি হাতে এসে পাশে বসে। বাঁশিতে ফ দিয়ে দেখায় সেও বাজাতে পারে। বিস্ময় লুকিয়ে বলে দিলাম, শিখাবি আমায়? ফোকলা দাঁতে হেঁসে মেয়ে মাথা নাড়ায়। খুব যতœ করে ধরিয়ে দেয়। আলত করে ধরে এক-দুবার ফ দিতেই বেরিয়ে এল সুর। বিষণ্ণতা কিংবা মন খারাপের জন্য নয়, সন্ধ্যারাও হাসতে হাসতে ভীষণ সুন্দর হয়। সুর শুনে আমরা দুজন হেসে লুটোপুটি হই। সন্ধ্যাপ্রদীপ আর আমরা, প্রার্থনা করি। চোখ ছলছল করে উঠে। ‘সে’— এর স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ভেসে বেড়ায় চোখে। ভীষণ প্রয়োজন ছিল আজ, বাঁশিঅলা কে!

রূপকথার ফেরা

পরিব্রাজক ফ্রেম বদলেছে শূন্যের শুরুতেই। পথের বাঁকে বাঁকে সবুজের রং বদল হচ্ছে লাল ধূলোয়। দেয়ালে ঝুলে থাকা ধীরগতির লাল কাটা চল্লিশ থেকে ষাট অতঃপর আশি পেরিয়ে দুরন্ত একটা ঘোড়া হয়ে ছুটছে, কাঁপছে ভীষণ কাঁপছে ক্যানভাসের হৃদয়, শুভ্র পশমি।

একক সরলরেখায় চলি
শহরে বৃষ্টিতে ভেসে যাক মৃত কোষ
এখানে কোন ভুল নেই পাতাবাহার… স্বচ্ছ…
ভালো থাকিস… দূরে দূরে মিলিয়ে শূন্যস্থান।

রূপুর নীল কাগজের চিরকুট থেকে ঝিকিমিকি স্ফুলিঙ্গ প্রাচীনতম সুরে গোপন কান্নার রং তোমার বুকপকেটে রয়ে যায়। কাকে বলবে ছাতিম ফুলের ঘ্রাণ, মৃত শ্বাস-প্রশ্বাস আর ঐ যে পানপাতার বাগান। জলেশ্বরের দালিমগাছে ফুল। রাধা রূপের প্রেমিকার গান।

রূপু অচিন পুরেই চিরকুটে লিখে, জীবনের নাট্য মঞ্চে অভিযাত্রীই সুনিপুণ দক্ষ। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে নিচে তাকাতে নেই, পিছেও নয়। মুগ্ধ দৃষ্টি মেলে! সম্মুখপানে তাকিয়ে তার সৌন্দর্য দেখতে হয় আর মিহি যে বাতাস ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় তাকে অনুভব করতে হয়। নিস্তব্ধতায় বাতাসের গল্প শুনে যদি প্রশ্ন করো, এর নাম বুঝি নীরবতা? উঁহু! হারিয়ে ফেলার ভয় যেমন নেই, স্পর্শের বাইরে সেখানে ছুঁয়ে ফেলার তীব্রতা থাকে। যা পাই, মন ভরে মুঠোবন্দীতায় সখাপেক্ষা…

স্নাস-ক্লাউড ভাত ঘুমের মতো শহরতলি জুড়ে তন্দ্রা লাগা সময়। রেইনবো ম্যাজিশিয়ান অপেক্ষারত স্লো স্লিপ নামিয়ে আনতে। নকশিকাঠের খোঁপে রোজকার মতো চড়–ই আসে গান গাইতে। কিচিরমিচির শব্দে চোখের পাতা জাগে আবার ঘমিয়ে পড়ে। অথচ অথৈজলের ভেতর একটা ঘুমফড়িং দুলে দুলে দোলনায় দোল খায়। কিছু খরগোশ ছানা তখনই লুকোচুরি খেলে একবার খোপের ভেতর ঢুকে পড়ে আরেকবার বেরিয়ে আসে। সার্কেল করে ঘুরতে থাকে অনেক গুলো প্রজাপতি… ডিংডং ডিংডং করে সময় নেমে আসে শূন্যে, ব্রাউনি-মিনি ছানা পিছু পিছু হেঁটে চলে নরম ঘাসে। বাতাসে খেলা করে তুলো তুলো মেঘ নেমে আসছে কার্তিকের কমলা জানলায়। ঘড়িটার কাটা দুটো আর অন্তঃবৃত্ত জুড়ে শূন্য ছয় শূন্য ছয় থেমে রইলো!

ফিরতি চিঠি আসে রূপকথার রাজ্যে।

খোলা চুলে স্বপ্নেরা দুলছে!
উত্তর চাই না,
বিস্ময়ের ঘোরে ডুবে থাকতে চাই।

বৃষ্টি শেষে পাশাপাশি দোলনায় দুলছি, কথোপকথন থেমে নেই। দুলতে দুলতে হাসতে হাসতে কথার ভিড়ে আমরা একশ বছর কাটিয়ে দিলাম.. অতঃপর রঙিন আলোয় বৃষ্টিজল ঘাসফুলের দেশে শিশিরবিন্দুতে পরিণত হলো। টিউলিপ, অর্কিড, আর স্নাস-ক্লাউড সম্মুখ সময়ে আটকে গেলো কিছু সত্যের ভেতর। নরম আলোর গোপনতায় পরস্পর আবৃত হয়ে ফিরে এলাম, পৃথিবীতে!

ব্ল রোজ

প্রেম আসবে বলে উন্মুক্ত পাখিরা ডানা মেলে উড়বে না এই আকাশে। জানি, ফ্লোরিক লোটাস সাজিয়ে রাখবে আমার জন্য। দুপুর গড়াতেই খাওয়ার টেবিলে মনে পড়বে খুব করে আমায়। জানি, স্কাইওয়ে প্লেন উড়তেই আমার মতো তাকিয়ে থেকে ভাববে আমিও যদি ভাসতে পারতাম!

সীমান্তের প্রান্ত ঘেঁষে যে কুয়াশা ঢাকা পাহাড় দেখবে, সেখানে আমার মতো তুমিও চাইবে পাহাড় দেশে বাড়ি কিংবা পা ঝুলিয়ে কাটিয়ে দেওয়া এক-একটা কমলা বিকেল। অদ্ভুত দীর্ঘশ্বাসে আমার মতো তুমিও কাটিয়ে দিবে কোনো কোনো প্রহর। আজও এখানে ভোর নেমে আসে মেঘ পাখি হয়ে। নিষ্পাপ লাল রঙের ঘুড়ি ব্যালকনির এক কোণে এসে পড়ে রইবে তার মতোই। আঙুল ছোঁয়ার বসন্তের সব রং হলুদ হবে না কখনো, বাসন্তী হয়ে জেগে রইবে আমাদের জন্য। রূপকথার আকাশ বাগানজুড়ে ফুঁটে আছে ডার্ক ব্লু রোজ। জানো তো ওগুলোকে কেউ কেউ নীলচে মেঘ বলে জানে!

 

Comments

comments

নুরেন দূর্দানী

নুরেন দূর্দানী

জন্ম ২৭ আশ্বিন, ঢাকায়। শৈশব-কৈশোর বেড়ে ওঠা শহরে। লেখালেখির শুরু স্কুল জীবনে হলেও বইয়ের প্রকাশ এই প্রথম। আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসা প্রশাসনে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে রেডিও ভূমি ৯২.৮ এফ এম স্টেশনে প্রযোজক ও উপস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
FacebookGoogle Plus

Tags: , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি