মৌন পিরামিড ও অন্যান্য কবিতা । শুক্লা মালাকার সাহা

ফেরিওয়ালা

ছেলেটা স্বপ্ন পকেটে নিয়ে ঘোরে
যেখানেই যায় –
কিছু কিছু ছড়িয়ে আসে
স্বপ্নরাও দিব্যি পোষ মেনে গেছে,

কারা যেন বলেছিল ও আসলে চাঁদসদাগর
স্বপ্ন বেচে খায় –

কি জানি! আমি তো দেখি
পিঠে ব্যাগ জিন্স এক ফেরিওয়ালা
ফুটপাত বস্তি
রেল লাইনের পাশের ঝুপড়ি ঘুরে ঘুরে
স্বপ্ন দিয়ে মোছায়
গাঁট পড়া জীবন।

মৌন পিরামিড

পলাশের আগুণের পরেই জৈষ্ঠের খরা
পুড়ে যাওয়া ধানক্ষেত
কাঠবেড়ালির মতো চঞ্চল চুলবুলে প্রেম
হেঁটে হেঁটে কতদূর গেল?
ছোট বরষার শেষে কচিপাতাদের জঙ্গলে
মিশে যেতে যেতে ঝরা শিউলির বেলা
আয়ত শরীরে বাস্পের গন্ধ
খাঁজে খাঁজে আঁকা হয় ঘাতকের মুখ
রাতের তারারা কি চিঠি পাঠাবে উৎসবের?
আধোমুখ এসময় ওদের কারো নয়
উবে যাওয়া রক্তদাগ ওদের নয়।
ওরা জানেনা একদিন বাতিল হয়ে যায় সব দুরুহ প্রেম
আকাশে টাঙিয়ে রাখা ভালোবাসাও ঝাঁপ দেয়
অনন্ত গুহাপথে
বিরাট যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শব্দেরা হাওয়ায় মেশে
মাইল মাইল মরুভূমির ভেতর পরে থাকে মৌন পিরামিড।

যা নয় তাই

পাহাড়িয়া জঙ্গলের বাঁকে একদল হনুমান
লঙ্কাকান্ড করছিল। এগাছের ডাল থেকে
ওগাছের ডালে দুলে দুলে
গান গাইছিল আরো কিছু মুখপোড়া –
কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া ছুঁয়ে উড়ে আসা
রূপবাতাস গায়ে মেখে
বেঁচে থাকা ঝকঝকে জীবন
চিমটে দিয়ে তুলে সযত্নে লোফালুফি।

আমারও ইচ্ছে হচ্ছিল
টুক করে হনুমান হয়ে যাই
মুখটা খানিক পুড়িয়ে দাঁত খিঁচোই –
চিত হয়ে অ্যাসিডে পোড়া দাগের মতো
নতুন নকশা আঁকা পাহাড় দেখি।

মুখ লুকিয়ে কটা হনুমান
সময়ের জাল ছিঁড়ে ফাটল খুঁজছে,
যেখান থেকে এক লাফে হিমালয় ছোঁবে।
দূরে স্তূপ স্তূপ বরফের মাঝে
তাদের আগামী জমাট হয়ে শুয়ে আছে।

Comments

comments

শুক্লা মালাকার সাহা

শুক্লা মালাকার সাহা

জন্ম কলকাতার, পশ্চিমবঙ্গ। লেখালেখি অনেকদিন বন্ধ রেখে ফের শুরু করেছেন, ওয়েবজিনেই।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি