সাম্প্রতিক

রেডলিফ জর্দায় গড়া সাঁকো । আফরোজা সোমা

কাঁঠাল বাগান ঢাল থেকে সিএনজি নেবো বলে দাঁড়িয়ে আছি। গন্তব্য বনানী; কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ। এখন সকাল আটটা পঁচিশ। শহুরে জীবনের ব্যাস্ততা এখন তুঙ্গে। সবাই ছুটছে। এমনকি ভাড়া নিয়ে দরাদরির সাহস বা সময়ও কারো নেই। বেশি দরাদরি করতে গিয়ে কেউ বাহন খোঁয়ানোর ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই, দুই-এক কথা বলার পরই অফিসগামীরা লাফ দিয়ে উঠে যায় রিকশায়।

এমন ব্যাস্ত সময়ে সিএনজি পাওয়া একটা বিরাট ব্যাপার। তার উপরে যৌক্তিক ভাড়ায় বনানী যেতে রাজী হওয়ার মতন সিএনজি ড্রাইভার পেতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় হাতে ধরে রাখতে হয়। কিন্তু মাতা ধরিত্রীর লীলা বলে কথা! তার ইচ্ছায় আজ আমার ৬ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হলো না। এমনকি একের অধিক অন্য কোনো সিএনজিওলাকেও জিজ্ঞেস করতে হলো না।

৫ মিনিট অপেক্ষার পরই দেখি ‘প্রাইভেট’ লেখা ছাইরঙা একটা খালি সিএনজি থামলো কাঁঠাল বাগান ঢালের এইচএসবিসি ব্যাংঙ্কের সামনে। আমি তার দিকে কয়েক কদম এগিয়ে গেলাম। তিনি বনানী যেতে রাজি। বনিবনাও হলো এক কথাতেই। প্রসন্ন চিত্তে আমি অটোতে সওয়ার হলাম।

আমি গাড়িতে উঠার পর সিএনজিচালক পান দোকানদারের দিকে তাকিয়ে, ‘এই তাড়াতাড়ি দেন’ বলে মৃদু স্বরে একটা হাঁক দিলেন। কয়েক সেকেণ্ড পরই সুন্দর করে বানানো পানের একটা খিলি মুখে দিয়ে ইঞ্জিন স্টার্ট দিলেন ড্রাইভার।

কড়-কড়-কড়-কড় ভট-ভট-ভট-ভটসহ আরো কত রকম ছন্দে আওয়াজ করতে-করতে সিএনজি চলছে। কিন্তু গাড়ি চলতে শুরু করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো সিএনজি কেমন একটা মিষ্টি সুবাসে ভরে গেলো। একে তো আমার নাক প্রায় কুকুরের নাকের কাছাকাছি। তার উপর বস্তুগুণ বলে কথা! পৌষের সকালের নরম রোদ আর নগরের মিঠা শীতের সঙ্গে মিশে ওই সুবাস কেমন আবেদনময় হয়ে উঠলো। ঘ্রাণে সিএনজি ভরে যাচ্ছে। আর সুবাসটা নাক দিয়ে একটু একটু করে গিয়ে ধাক্কা দিতে শুরু করেছে কলিজায়।

সাত-সকালে ঘ্রাণের কাছে কুপোকাত হয়ে আমি ভাবছি, উনি কী জর্দা দিয়ে পান খাচ্ছেন! কোন জর্দায় এমন সুবাস হয়! জিজ্ঞেস করবো নাকি? আবার ভাবি, নাহ! থাক। তারপর ভাবি, ঠিকাছে করবো না হয় জিজ্ঞেস। এ আর এমন কী! কী জর্দা দিয়ে পান খাচ্ছে এটা জানা যেতেই পারে।

ভাবতে-ভাবতেই সিএনজি এগোয়। সিগন্যালে থামে। জ্যামে থামে। আবার চলে। ড্রাইভার পান চিবোয়। সেই পানের সুবাসে সিএনজির ভেতর পৌষের সকাল অদ্ভুত রকমভাবে মিঠা হয়ে যায়।

সিগন্যালে-জ্যামে-চলতে-থামতে-থামতে-চলতে-যেতে-যেতে ফার্মগেট পাড় হয়ে বিজয় স্মরনীর সিগন্যালের লম্বা জ্যামে বসে উনি মুখের পানটা ফেলে দেন। সেভেন আপের সবুজ বোতল থেকে পানি নিয়ে কয়েকবার কুলি করে মুখ পরিষ্কার করেন। তারপর এক ঢোক পানি খান।

আমি তাকে দেখি। নতুন মানুষ দেখা তো আনন্দেরই ব্যাপার। তার উপর যার পান খাওয়া থেকে এমন সুন্দর সুবাস বেরিয়ে মিঠা হয়ে যায় পৌষের কর্মব্যাস্ত সকাল, সেই মানুষকে তো দেখা আনন্দই বটে।

এই অবস্থায় সিএনজি চলে। চলতে থাকে। জ্যামে আবার থামে। জ্যামে বসে এক ফাঁকে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, ভাই, কী জর্দা দিয়ে পান খেলেন? খুব সুন্দর সুবাস।

প্রশ্ন শুনে ঘাড় ঘুড়িয়ে উনি আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, আমি আরো আপনার কথা ভেবেই পানটা ফালাইয়া দিছি। ভাবছি, সবাই তো আর একরকম যাত্রী না। মনে করলাম, জর্দার গন্ধ আপনার হয়তো ভালো নাও লাগতে পারে, তাই ফালাইয়া দিয়া কুলি কইরা নিলাম।

আমার বিস্ময়ের অন্ত থাকে না! এই মায়াহীন শহরে এক সিএনজি ড্রাইভার তার যাত্রীর কথা ভেবে মুখের পান ফেলে দেয়! কিন্তু এই বিস্ময়ের কথা তাকে বলি না বা বলতে পারি না। আমি একটু হেসে তাকে বলি, ওহ হো! তাই নাকি!

সে মিষ্টি করে হাসে। ফর্সা টুকটুকে তার মুখ। তার উপর পান খাওয়া টকটকে লাল ঠোঁটে সে হেসে বলে, হ আপা! সবাই তো আর এক রকম না। আমি এই যে আপনারে তুললাম, তার আগেই ডাক্তার আপারে বারডেমে নামাইয়া দিয়া আসলাম। রূপনগর থেকে উনারে রোজ সকালে বারডেমে নিয়া আসি। আপা আমারে খুব ভালোবাসে। সে বলে, পান খাওয়া নাকি ক্ষতিকর; জর্দা-টর্দা খাই তো। ফলে, বাসা থেকে তারে আনতে যাওনের আগে আমি কয়েকবার কুলি করে যাই। যেনো আপা কোনো গন্ধ না পায়।

আজকে সকাল থেকে আমার ওইভাবে পান খাওয়া হয় নাই। এইটুকু বলে পরক্ষণেই আবার নিজের কথার সংশোধনী দিয়ে বলেন, না! মানে খাইছি তিনটা পান! কিন্তু ওইরকম হয় নাই আরকি খাওয়াটা। তাই, আপারে বারডেমে নামাইয়া এইখানে আইসা দাঁড়াইয়াই পানটা নিলাম আর আপনারে তুললাম।

সিএনজি চালকের মুখটা খেয়াল করি। বিশেষ করে তিনি যখন ঘাড় ঘুড়িয়ে কথা বলেন। কারণ তার মুখেও কেমন একটা অদ্ভুত অপাপবিদ্ধ ভাব। আমার সেই পুলিশ বন্ধুটারো এমন ছিল। বাড়ির পুকুর ঘাটে জমে থাকা শ্যাওলায় যেমন মায়া জমা থাকে, তেমন একটা মায়া। মায়ার সাথে আবার এই চালকের গায়ে কেমন এক আচানক সুবাস! আজ সকালে অযাচিতে কেন এইসব মনে পড়ে তার কোনো ব্যাখ্যা নাই। কিন্তু মনে পড়ে; এই কথা পৌষের এই সকালের মতই সত্য…

আমি আবার জিজ্ঞেস করি, কী জর্দা দিয়া পানটা খাইছেন? খুব সুন্দর সুবাস তো।

সে বলে, হ আপা! জর্দাডাতে একটু ফ্ল্যাভার আছে। মিষ্টি ফ্ল্যাভার। জর্দার নাম রেড লিফ। রেড লিফের সাথে একটু রতন জর্দা মিশাইয়া খাই আমি।

আমি জর্দার নামটা আবার জিজ্ঞেস করি। বুঝতে একটু অস্পষ্ট লাগে। উনি আবার বলেন, রেড লিফ।

আমিও মনে মনে দুইবার উচ্চারণ করি, রেড লিফ। লাল পাতা। রেড ক্লিফ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।

উনি নিজেই বলতে থাকেন। আপনারে যেখান থেকে তুলছি ওইখান থেইকা আমার বান্ধা আরেকজন স্যার আছিল। এই সপ্তাহেই উনার রাজশাহী পোস্টিং হইয়া গেছে।

খেয়াল করলাম একটানা কথা বলতে গেলে সে একটু তোতলায়। ফলে, ‘রেড লিফ’, ‘পোস্টিং’, ‘রাজশাহী’ শব্দগুলো বুঝতে আমার প্রথম দুইবার অসুবিধা হয়। তারপরে আর ধরতে সমস্যা হয় না।

তার সাথে কথা চলে। আমি, হ্যাঁ হুঁ করে তার কথায় সাড়া দিই।

এক ফাঁকে তার নাম জিজ্ঞেস করি। নূর আলম। বাড়ি বগুড়া। নূর আলমের গায়ে লালশার্ট। শীতকালে যেমন হাল্কা গরম কাপড়ের শার্ট বানিয়ে লোকে পড়ে তেমন কাপড়ের চেক শার্ট। তার চোখে-মুখে একটা অদ্ভুত নির্মল-কান্তি।

তিনি নিজে থেকেই কথা বলতে থাকেন। তিনি বলেন, আগে সিগারেট খাইতাম। অহন খাই না। সিগারেট খাইলে সিনিয়র-জুনিয়র বাছতে হয়। কিন্তু পানের মইধ্যে ওইসব নাই। সবার সামনেই খাওয়া যায়। আর গ্রামের বাড়ি গেলে ভাত-টাত খাইয়া প্লেটে সাজাইয়া পান দিলে আম্মা-আব্বা সবাইরে নিয়া পান খাওয়াটাতে শান্তিই অন্যরকম।

তার পান খাওয়ার গন্ধ ভালো লেগেছে। তার শিশু-শিশু হাসিটাও ভালো লেগেছে। আর এখন তার এই শান্তি প্রাপ্তির তুলনারহিত কিন্তু অতি সাধারণ বর্ণনা শুনে সকাল আমার মিঠা হতে-হতে গোলাপী হাওয়াই মিঠাইয়ের মতন প্রায় অবাস্তব বা না-ঘটা জীবন মনে হয়।

তার সাথে এই কথা ওই কথা বলি। তার কথা শুনি। উনি কোনো একজনকে ফোন দিয়ে কালশীতে আসতে বলেন। সময় দেন ৯টা ৪০ থেকে ৫০-এর ভেতরে। ফোনের ওই পাড়ের ব্যক্তিটি পৌনে দশটার দিকে এলে কালশীতে তারা একসাথে ভাত খাবেন বলে কথা হয়।

আমারও ফোনে পিতার সাথে আলাপ হয়। পতির সাথে কথা হয়। পতিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি।

সিএনজি জ্যামে আটকে গেলে রোদ দেখি। আবার সিএনজি চলে। আমি অন্য কিছু দেখি। আবার জ্যামে থামে। আবার ওই আবদেনময় গন্ধটাই মনের ভেতর কেমন একটা ঘোর লাগা বোধ তৈরি করে। মনে হয়, এই সকাল পৌষের এই পৃথিবীতে নয়। বুঝিবা রূপকথার কোনো গল্পে ছিল সিএনজিওয়ালার গায়ে এমন মিঠা পানের সুবাস! এইসব ভাবতে-ভাবতেই আবার কথা শুরু করি।

— আপনি ঢাকায় কত বছর?
— থাকি তো ৯৮ থেকে।
— তখন থেকেই কি সিএনজি চালান?
— না। আগে ট্যাক্সি চালাইতাম।

কথা বলতে-বলতে ভাবি, এই তরুণ এক্কেবারেই আমার বয়সী বা আমার চেয়ে ছোটো হবে। আমার স্কুল কলেজের বন্ধুদের কথা ভাবি। এই তরুণ একেবারেই তাদেরই বয়সী। আমার কলেজের এক ক্লাসমেট ইন্টারমিডিয়েটে ফেল করেছিল। আর আমি শহরের সেরা রেজাল্ট করে ঢাকায় পড়তে এসেছিলাম। তারপর চার-পাঁচ বছর পর আমার শহরে হওয়া নতুন একটা রেস্টুরেন্টে একদিন একজন আমাকে কফি খেতে নিয়ে গেলে দেখি আমার সেই ক্লাসমেট দোকানে ওয়েটার হিসেবে কাজ করছে। আমার আরেক কলেজ জীবনের বন্ধুকে একবার পেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমি একদিন কলাভবন থেকে লাইব্রেরির দিকে যেতে গিয়ে দেখি, আরে! একটা তরুণ পুলিশের মুখ দেখি আমার এক বন্ধুর মতন! আমি কাছে যাই! ভালো করে তাকিয়ে দেখি, আরে ও-ই তো! আমি ওর নাম ধরে ডাকি। কিন্তু সে ইতস্তত। আমাকে আপনি করে একবার সম্বোধন করে। একবার তুমি। কিন্তু কথার শেষে আমরা হাসিমুখে বিদায় নিই।

আমি এই সিএনজি চালকের মুখটা খেয়াল করি। বিশেষ করে তিনি যখন ঘাড় ঘুড়িয়ে কথা বলেন। কারণ তার মুখেও কেমন একটা অদ্ভুত অপাপবিদ্ধ ভাব। আমার সেই পুলিশ বন্ধুটারো এমন ছিল। বাড়ির পুকুর ঘাটে জমে থাকা শ্যাওলায় যেমন মায়া জমা থাকে, তেমন একটা মায়া। মায়ার সাথে আবার এই চালকের গায়ে কেমন এক আচানক সুবাস! আজ সকালে অযাচিতে কেন এইসব মনে পড়ে তার কোনো ব্যাখ্যা নাই। কিন্তু মনে পড়ে; এই কথা পৌষের এই সকালের মতই সত্য।

এইসব ভাবি। আর ভাবি সে আমার ছোটোই হবে। আবার ভাবি, না মনে হয়। আমার-ও নিজের মুখটাও তো দেখতে কত ছোটো। অপরিচিতরা ভাবে আমি স্টুডেন্ট। আর আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ হঠাৎ চট করে ভাবে, আমি হয়তো মাস্টার্স-এ পড়ি। কিন্তু আমি তো স্টুডেন্ট না। আমি টিচার। আবার ভাবি, উনার বয়স খুবই কম এবং উনি আমারই বয়সী। মানে আমার সেই ওয়েটার বা সেই পুলিশ বন্ধুর বয়সী। তারপর ভাবি, ঠিকাছে উনাকে জিজ্ঞেস করেই জানা যাক। আবার উনার সাথে কথা শুরু করি।

— আপনার বয়স কত হবে?
— সে হেসে সলজ্জ উত্তর দেয়, এতো কিছু জানি না, আপা! তবে, আমি অষ্টআশির বন্যা দেখছি। এইটা মনে আছে।

মনে-মনে আমার একধরণের আনন্দ হয়। অষ্টআশির বন্যা আমিও দেখেছি। সেই সময় আমাকে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করা হয়েছিল। বন্যার সময় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে খুঁটি পুঁতে-পুঁতে আমরাও বন্যার পানি বাড়ার পরিমাপ করতাম।

আবার তাকে জিজ্ঞেস করি, সেই সময় কি তিন চার বছর হবে বয়স?

এই কথায় সে আবার হাসে। বলে, মনে হয় এইরকমই।

আমি বলি, মানে কি সেই সময় থেকেই একটু-একটু করে সব কথা স্পষ্ট মনে আছে, নাকি?

সে হেসে বলে, হ্যাঁ, আপা।

আমার জন্ম ৮৩ সালের মাঝামাঝি। আমি ধারণা করি, এই চালকের জন্মও নিশ্চয়ই ৮৩ থেকে ৮৫ ভেতরেই হবে। এমন সময় সে হঠাত আবার ঘাড় ঘুরিয়ে সশব্দে হেসে দিয়ে বলে, তবে ভোটার আইডি কার্ডে আমার জন্ম সাল দেওয়া ১৯৯০ সাল।

বলেই খিলখিল করে হাসতে থাকে। আমিও হাসি। হাসতে-হাসতেই তাকে বলি, হ! ৮৮’র বন্যা দেখা মানুষের জন্ম হইছে ৯০ সালে!

এইসব গল্পে ভাবনায় আমাদের পথ ফুরায়। সিএনজি থেকে নেমে যাবার সময় এলে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে ফিরে তিনি বলেন, একটা কথা বলি, আপা! সিগন্যালে থাকলে সিএনজিতে বইস্যা কথা বলবেন না। এইটা বিপজ্জনক।

এইটুকু বলে হাত ইশারায় সিএনজির ছাদের দিকে দেখিয়ে বলেন, ওই যে উপরে দিয়ে ছুড়ি ঢুকাইয়া দেয় ছিনতাইকারীরা। সাবধান থাইকেন।

তারপর আবার বলেন, আরেকটা কথা আপা, সিএনজি-তে উঠার সময় একটা জিনিষ খেয়াল কইরেন। এইটুকু বলে হাত ইশারা করে বলেন, দেখছেন আমার সিএনজিতে কেমন নেট দেওয়া? ছুইয়া দ্যাহেন।

আমি ছুঁয়ে দেখি লোহার জাল। বলি, ওরে বাবা! এতো লোহার জাল।

এই শুনে তিনি বলেন, চেষ্টা করবেন, এইরকম জাল দেওয়া সিএনজিতে উঠতে। এইগুলা নিরাপদ। ছিনতাইকারী উপর দিয়া ছুড়ি-টুরি মারলেও লোহার জাল কাইট্যা ভিতরে ছুড়ি ঢুকে না।

তারপরে আরো একটু ইতস্তত স্বরে যোগ করেন, আপা, আপনারে এতো কথা বল্লাম কারণ সবাইতো আর একরকম প্যাসেঞ্জার না। আপনি আমার সাথে এমন করে এতো কথা বললেন! তাই, বললাম।

ভাড়া দিয়ে আমি নেমে যাবার সময় তিনি বলেন, আপা, মানিব্যাগ, মোবাইল সব নিছেন তো! দেখে নেন!

তার এই কথায় আমার বুকের মধ্যে কেমন যেনো লাগে। কেমন তা বলতে পারবো না। কিন্তু এই শহরে এমনও সিএনজি ড্রাইভার আছেন, যিনি প্যাসেঞ্জারের কথা ভেবে মুখ থেকে শখের পান ফেলে দেন! নিকটজন নয় জেনেও নিকটজনের মতন নিজেকে সামলে রাখতে বলেন!

তার এই কথার উত্তরে আমি শুধু বিনীত হেসে বলি, হ্যাঁ, নূর আলম ভাই। সবই নিছি। যাই। আপনি ভালো থাইকেন।

সে বলে, আমি সাড়ে আটটার দিকে প্রতিদিনই ওইদিকে থাকি। আমারে ওইসময় পাইবেন।

কিন্তু আমি তো আর রোজ ওখানে সাড়ে আটটায় যাই না। ওটা আমার রোজকার পথও নয়। ঘটনাচক্রে আজ গিয়েছিলাম। বলতে পারেন, মাতা ধরিত্রীর লীলা। কিন্তু তাকে এসব বলা হয় না। তবে, সিএনজি থেকে নেমে ইউনিভার্সিটিতে ঢুকতে-ঢুকতে ভাবি, কাল-পড়শুই আমি ওই দোকানটায় যাবো। ওখান থেকে রেড লিফ আর রতন জর্দা মিশিয়ে একটা খিলি কিনবো। দেখবো সেই পানে এইরকম রকম সুবাস হয় কি-না!

Comments

comments

আফরোজা সোমা

আফরোজা সোমা

জন্ম ২রা অক্টোবর, ১৯৮৪, কিশোরগঞ্জ। পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করেন বিবিসি বাংলা রেডিও-তে। প্রকাশিত কবিতার বই: অন্ধঘড়ি (২০১০,কথা প্রকাশ), হারমোনিকা (২০১৪, সংবেদ), ডাহুক (২০১৫, ভাষা প্রকাশ)।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি