সাম্প্রতিক

শহিদুল আলম এবং আমাদের গ্যাস্ট্রিক আলসারের ভয় । এমদাদ রহমান

শহিদুল আলম! আমার কাছে শুধু একটি নাম নয়, নামের চেয়েও বড়, কারণ তিনি একজন আর্টিস্ট। তিনি একজন আলোকচিত্রী। আর একজন আলোকচিত্রী যিনি তার সংবেদনশীল মন নিয়ে ক্যামেরার ল্যান্সে ফোকাস করেন সমাজের নানা অসঙ্গতি বৈপরীত্য আর অব্যবস্থার ওপর। ২০০২ সালে তাকে আমি প্রথম দেখি, এক বিকেলে, আমি তখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়ের ছাত্র, পড়াশোনা করছি পলিটিক্যাল স্টাডিজ এন্ড পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে, কলা ভবনের তিন তলায় আমাদের ক্লাস হতো, সেদিনের বিকেলের ক্লাসটি শেষ করে ক্লান্তি কাটাবার জন্য যখন দ্রুত সিঁড়ি ভাঙছি তখনই তাকে প্রথম দেখি। এই মানুষটিকে দেখলেই চিনতে পারি। পত্রপত্রিকায় তার ছবি এবং তার মুখায়বয়ব প্রায়ই ছাপা হয়।

সেদিন তিনি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের আমন্ত্রণে, উদ্দেশ্য নৃবিজ্ঞান পড়তে আসা ছেলেমেয়েদের তিনি কিছু কথা বলবেন। আমরা যারা নৃবিজ্ঞানের ছাত্র হতে পারিনি, পড়ছি অন্য বিভাগে, কিন্তু শিল্পের প্রতি তৈরি হয়েছে এক অমোঘ টান, তারাও শহিদুল আলমের বক্তৃতা শুনতে সেদিন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার কক্ষে আসন দখল করি। সেদিন তিনি মূল্যবান কিছু কথা বলেন। এর মধ্যে আমরা কিন্তু তার এমন কিছু আলোকচিত্র দেখে ফেলেছি সংবাদপত্রের মাধ্যমে, যে আলোকচিত্র আমাদেরকে সময়ের দগদগে ক্ষতের কথা বলেছে। বলেছে মানুষের বিপন্নতার কথা। তিনি বলছিলেন- আমার জীবন পথের যাত্রা একজন সাক্ষী হিসেবে। তাই যেখানে যখন যে কথাটি বলা দরকার, তখন আমাকে সেই কথাটিই বলতে হবে এবং সমাজকেও প্রস্তুত থাকতে হবে আমাকে বলতে দেওয়ার জন্য। আর সেই আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে ২০১৮ সালে অর্থাৎ ১৬ বছর পর, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর নানা নাটকীয়তার পর তার কয়েকদিনের রিমান্ড শেষে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। কিছুদিন পর, অক্টোবরের ৬ তারিখ একুশে জার্নাল পত্রিকায় আমরা দেখি, তথ্যপ্রযুক্তি মামলায় গ্রেফতার আলোকচিত্রী শহিদুল আলম যেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে না পারেন, সে জন্য পুলিশের এক সদস্য তার মুখ চেপে ধরেছেন—এমন একটি ছবি ‘ইন্টারন্যাশনাল ফটো অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ (আইপিএ)-এর ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকটি মাস বাকি, দেশ উত্তাল; দেশজুড়ে চলছে নিরাপদ সড়কের দাবীতে সোচ্চার আন্দোলন। ঠিক তখনই, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে সরকার গ্রেফতার করল। তার রিমান্ড হলো। জেল হলো।

তার মুক্তি চেয়ে নোবেলজয়ী ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও বিশ্বের প্রখ্যাত শিল্পী, আলোকচিত্রী, ভাস্কর, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার সংগঠন এবং লেখকরা বিবৃতি দিয়েছেন, খোলা চিঠিতে তারা বলেছেন- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শৈল্পিক প্রকাশ এবং ক্ষমতাবানের সামনে সত্য বলার মতো বিষয়গুলো সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। ন্যায্য ও সহনশীল সমাজের এসব ভিত্তির বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ব্যক্তির প্রতি আঘাত মানে আমাদের সবার প্রতি আঘাত।

তার কারাবাসকে সরকার আমাদের সামনে একটি প্রতীক হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিল। কীসের প্রতীক? এর কয়েকদিনের মধ্যেই একটি কার্টুন দেখলাম, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের সরকার প্রধান সেই কার্টুনের মুখ্য চরিত্র। তিনি বলছেন- আর মত প্রকাশ করবি? ভেঙে ফেলব। তার বিশাল হাতের মুঠোয় তখন ক্ষমতা, পায়ের তলায় পিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। গণতান্ত্রিক দেশে এরকম ঘটনা সংবেদনশীল মানুষদের অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। নিরাপত্তাহীনতার বোধ জন্ম নেয় মানুষের ভিতরে। আর মাথার ওপর ডানা মেলে দেয় সরকারের চাতুরিতে ভরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। যে-আইন মানুষকে কথা বলতে দেয় না। মূক করে রাখে। নাগরিকের মুখ সেলাইয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করবার সমস্ত রাস্তাকে সরকার বন্ধ করে দিতে চায়। অথচ, আজকের দুনিয়ায় কেউ কি মানুষের মুখ বন্ধ করতে চেয়ে করতে পেরেছে? মানুষ প্রতিবাদী হয়েছে। যেভাবেই হোক মানুষ তার ভিতরের কষ্ট যন্ত্রণাকে প্রকাশ করতে চেয়েছে। মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। প্রতিবাদী মানুষ যুগে যুগে অন্যায় অত্যাচারকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দূর করে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তো কয়েক দশক আগেই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছে। ক্ষমতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার সনদ সংবিধানকে অন্যায়ভাবে দখল করে রাখা স্বৈরাচারি শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাহলে আজ এমন হলো কেন? আজ কেন তবে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার এমন স্বৈরাচারী হয়ে ওঠবে? কেন মানুষের ওপর তার আস্থা থাকবে না? কেন কেউ তার বিরুদ্ধে নিজের মতামতটুকু তুলে ধরলেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে হবে? এই বাংলাদেশ কি আমরা সত্যিই চেয়েছিলাম?

আমরা তো গণতন্ত্রই চেয়েছিলাম। গণতান্ত্রিক একটি দেশের স্বপ্ন থেকেই তো এই দেশে একাত্তরে স্বাধীন হয়। শহীদ হন ৩০ লাখ মানুষ। সম্ভ্রম হারান ২ লক্ষ মা বোন। কোন স্বপ্নে অধীর হয়েছিলাম আমরা? স্বাধীন দেশে মাথা উঁচু করে বাঁচব বলেই তো। মৌলিক অধিকারগুলো থেকে কেউ আমাদেরকে বঞ্চিত করতে পারবে না বলেই তো। কিন্তু কোথায় গেল সেই স্বপ্ন? আমরা কি এখন আর স্বপ্ন দেখি, নাকি দুঃস্বপ্ন! গত ৩ টার্ম ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। দীর্ঘ এ শাসনকালে নানা ভাবে মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠগুলোকে চেপে ধরেছে। আর এ সবকিছুকে ছাপিয়ে উঠেছে তাদের চরম ফ্যাসিবাদী রূপ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার এবং জেলহাজতে প্রেরণ।

শহীদুল আলম কতদিন জেলে ছিলেন? খুব বেশি দিন নয়। আর সেটা দরকারও ছিল না। এখানে দিন তো কোনও বড় ব্যাপার নয়, ব্যাপার হচ্ছে তাকে বিনা বিচারে আটকে রাখা তো গেল। সরকার- আমাদেরকে, আমরা যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তাদেরকে স্পষ্টভাষায় বলেছে- দেখো, আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে যেও না। বলতে গেলেই পরিণতি হবে ভয়াবহ। তোমরা ভয় পাও। ভয়ে ভয়ে থাকো। কথা বলো না। বোবার শত্রু নেই। শহিদুল আলম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ পরিচিত, তার জন্য নোবেল লরিয়েটরা বিবৃতি দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের কী হবে? আমরা যারা পরিচিত না দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিসরে, আমরা যারা সাধারণ নাগরিক, যারা কবিতা লিখি, গল্প লিখি, উপন্যাস লিখি, বিশ্বসাহিত্য থেকে অনুবাদ করি, আমরা যারা ক্ষমতা থেকে দূরে, আমরা যারা গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগী, আমাদের ভাগ্যে কি আছে? গুম, নাকি অপহরণ নাকি গ্রেফতার নাকি বিচারবহির্ভুত ক্রসফায়ার? যে কোনও একটিকে বেছে তো আমাদের নিতেই হবে। আর আমাদের যা করতে হবে, তা হচ্ছে দেখে যাওয়া। কীভাবে একটি গণতান্ত্রিক দেশ একটি ক্ষমতাধর দলের একদলীয় শাসনের ফলে ধীরে ধীরে দলটির নিজস্ব সম্পদে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অফিসিয়াল প্যাডের লেটার হেড-এ বক্স করে লেখা হয়েছে- শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ/শেখ হাসিনার বাংলাদেশ!

কিছু বুঝা যায়? আমাদের এই অবস্থা কেন? এই দেশটা কার? শাসনকর্তার না কি ষোলো কোটি মানুষের? এখন কেউ যদি প্রতিবাদে কিছু বলতে চায়, পারবে? যদি ফেইসবুকে কেউ পোস্ট দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়, সে আর নিরাপদে ঘুমোতে পারবে? সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা কী বলে? স্বায়ত্ত্বশাসিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে একটি বিশেষ দলের দাসে পরিণত হয়, এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কি আছে? হাসিনা তো প্রধানমন্ত্রী, তো এ অবস্থায় বাংলাদেশ তার হয় কীভাবে?

দেশ কোন অবস্থায় পতিত হয়েছে তা কিছু কিছু ঘটনার দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায়। মানুষ আর কত বোবা হয়ে থাকবে? সরকারের হাত কত লম্বা যে মানুষকে দিনের পর দিন বোকা বানিয়ে রাখবে? দিনের পর দিন সেলাই করা মুখের বোবা মানুষ বানিয়ে রাখবে? কিন্তু এর মধ্যেই আরও কিছু মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। এ বছরের ৮ মে বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকায় একটি বেদনাদায়ক খবর প্রকাশিত হয়- পঞ্চগড় জেলা কারাগারে অগ্নিদগ্ধ আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের (৩৬) মৃত্যু। নিহত আইনজীবীর পরিবারের দাবি, পলাশকে হত্যা করা হয়েছে। একজন আইনজীবী কী অপরাধ করেছিলেন যে তাকে নিরাপদ হেফাজতে গায়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারা হলো? এটা কি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড নয়? পলাশ হাতে একটি মাইক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন- আপনি কোন গণতন্ত্রের কথা বলেন? কোন মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেন? গণতন্ত্রকে আপনি নিজেই তো হত্যা করেছেন। ব্যাস। আর যায় কোথায়! তার নামে কয়েকটি মানহানির মামলা হয়ে গেল। যেখানে দেশের নাগরিকদের কারুরই কথা বলার ক্ষমতা ও সাহস নেই সেখানে একজন সামান্য আইনজীবী হয়ে একজন ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রীর এমন সমালোচনা করার সাহস তিনি পেলেন কোথায়? তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার বিরুদ্ধে মামলা হলো। ২৬ মার্চ তাকে গ্রেফতার করা হলো। আর ২৬ এপ্রিল জেলা কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তার হায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হলো। ৩০ এপ্রিল তিনি মারা গেলেন। তিনি মারা গেলেন, নাকি মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা  হলো? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদেরকে কে দেবে? কে করবে শহিদুল আলমের অন্যায় গ্রেফতারের প্রতিবাদ? কী হবে নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের, যে অধিকারটিকে সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে? আটকের পর প্রায় সাড়ে ৩ মাস কারাগারে থাকার পর ২০ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মুক্তি পেয়েছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। মুক্তির কিছুদিন জার্মানভিত্তিক সংবাদসংস্থা ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগকে এক সাক্ষাৎকারে শহিদুল আলম বলছিলেন তার গ্রেফতার হওয়া এবং কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথা- প্রাথমিক অবস্থায় তারা আমাকে গ্রেফতারের পর নির্যাতন করে। আমাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর ১০০ দিন কারাবন্দি ছিলাম। তবে তিনটি ধাপ একই রকম ছিল না। প্রথম ধাপটা ছিল ভয়ংকর। আমার মনে হচ্ছিল আরও খারাপ কিছু হতে পারে। দ্বিতীয় দফায় তারা আমার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে এবং আমাকে দিয়ে তারা যা চাইছে তা বলানোর চেষ্টা করে, যা তারা পারেনি। তৃতীয় ধাপটি ছিল দীর্ঘ, যখন আমি জেলে ছিলাম। প্রথমে ভয় দেখানোতে যখন কাজ হয়নি, তখন তারা আমাকে বলেছিল যদি আমি বের হওয়ার পর মুখ বন্ধ রাখি তাহলে আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ তুলে নিয়ে মুক্তি দেবে। কিন্তু সেই কৌশলও যখন কাজ করল না, তখন আমাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো। এ সময় তারা আমাকে অপরাধী প্রমাণ করতে নানা ধরণের তথ্য জানতে চাইলো। শেষ পর্যায়ে এসে তারা আমাকে বলল ক্ষমা চাইতে। যদিও এর মধ্যে কোনওটিতেই তারা সফল হয়নি। এর মধ্যে দেশের ভেতর এবং বাহির থেকে প্রচণ্ড চাপ আসছিল। আমার মনে হয় তখনই তারা বুঝতে পেরেছে যে তারা ভুল করেছে।

ডয়চে ভেলে প্রশ্ন করে- আপনাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকার কি বার্তা দিতে চেয়েছিল? উত্তরে প্রখ্যাত এ আলোকচিত্রী বলেন- আমার মনে হয় দু’টো ব্যাপার : এক, তারা খুব শক্তিশালী। দুই, তারা এই বার্তা দিতে চেয়েছিল যে, তুমি যে-ই হও না কেন, তোমার যত সামর্থ্য বা সমর্থন থাক না কেন, তোমাকে বন্দি করা কোনও ব্যাপার নয় এবং সেই মানুষটি নিরপরাধ হলেও সেটা কোনও ব্যাপার নয়।

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? শহীদুল আলম বলেন- এটা আসলেই উদ্বেগজনক। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে কেবল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ছিল, এরপর বেসরকারি গণমাধ্যম এসেছে। এতে অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে বেসরকারি গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা পালন করছে। এমনকি কিছু গণমাধ্যমে সরকারের প্রচারণার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে এবং একটা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়। সত্যি কথা বলতে গেলে, বর্তমানে সাংবাদিকতার সহজ পথ হলো সরকারের পথ ধরে চলা। শহিদুল আলমের মুখ দিয়ে আমরা যেসব কথা শুনলাম, সেসব সত্যিই উদ্বেগজনক।

তার মুক্তি চেয়ে নোবেলজয়ী ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও বিশ্বের প্রখ্যাত শিল্পী, আলোকচিত্রী, ভাস্কর, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার সংগঠন এবং লেখকরা বিবৃতি দিয়েছেন, খোলা চিঠিতে তারা বলেছেন- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শৈল্পিক প্রকাশ এবং ক্ষমতাবানের সামনে সত্য বলার মতো বিষয়গুলো সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। ন্যায্য ও সহনশীল সমাজের এসব ভিত্তির বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ব্যক্তির প্রতি আঘাত মানে আমাদের সবার প্রতি আঘাত। এখন প্রশ্ন- সরকার কি নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকারকে গুরুত্ব দেবেন, না কি শহীদুল আলমের মতো একই আচরণ করবেন? নাগরিকের প্রতি সরকারের আচরণ কি নিপীড়নমূলক হবে না কি মানবিক ও গণতান্ত্রিক হবে? অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি রেখে গেলাম।

Comments

comments

এমদাদ রহমান

এমদাদ রহমান

জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৭৯, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার বাদে সোনাপুর গ্রামে। রাজনীতি ও প্রশাসন-বিষয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। কবিতা স্মৃতিকথা, পুরোনো চিঠি আর লেখা গদ্যে এবং অনুবাদে বিপুল আগ্রহ। পাতালভূমি ও অন্যান্য গল্প তাঁর প্রথম বই ।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি