সাম্প্রতিক

জালালউদ্দিন রুমির কথাগুচ্ছ । মুহম্মদ ইমদাদ

**
ভালোবাসা খোঁজা তোমার কাজ না। খুঁজে বের কর ভালোবাসার বিরুদ্ধে নিজের ভেতর যে দেয়ালগুলি নির্মাণ করেছ তুমি। 

**
তুমি যাকে খোঁজো সে তোমাকে খুঁজতেছে। 

**
আমার প্রথম প্রেমের গল্পটি শোনামাত্র আমি তোমাকে খুঁজতে শুরু করেছিলাম। আমি জানতাম না প্রেম কতটা অন্ধ। 

**
দুঃখ পেয়ো না। যা-কিছু হারিয়েছ সবই আসবে তোমার কাছে, অন্যভাবে। 

**
গতকাল আমি চালাক ছিলাম তাই আমি পৃথিবীকে বদলাতে চেয়েছিলাম। আজ আমি প্রাজ্ঞ তাই নিজেরে বদলাচ্ছি। 

**
নাচো নিজের রক্তের মধ্যে। নাচো, যখন তুমি চরমভাবে মুক্ত, স্বাধীন। 

**
ঘঘা খেতে বিরক্ত হলে তোমার আয়না ঝকঝকে হবে কীভাবে?

**
তুমি জন্মগ্রহণ করেছ ডানা নিয়ে। হামাগুড়ি দিতে চাও কেন, জীবন জুড়ে? 

**
নিরাপত্তার কথা ভুলে যাও। যেখানে বাস করতে ভয় পাও সেখানেই বাস করো। নিজের সুনাম ধ্বংস করে দাও আর দুষ্ট হয়ে ওঠো। 

**
কারো জীবনের গল্প শুনে সন্তুষ্ট হয়ো না। খোলো তোমার নিজের পুরাণ। 

**
আত্মা দিয়ে কিছু করলে তুমি টের পাও তোমার ভেতর একটা নদী প্রবাহিত হচ্ছে, একটা আনন্দ। 

**
তোমার কথাটি শোনাও, কণ্ঠ না। কারণ তোমার কথাটি হচ্ছে সেই বৃষ্টিধারা যা ফুল জন্মায়, বজ্র না। 

**
নিজের চালাকিকে বিক্রি করে দাও। ক্রয় করো দ্বিধা। 

**
নীরবতা হচ্ছে ঈশ্বরের ভাষা। বাকি সব দুর্বল অনুবাদ। 

**
তাদেরকে এড়িয়ে চলো যারা তোমাকে ভয় দেখায় আর দুঃখিত করে। কারণ এই ভয় আর দুঃখ তোমাকে জরা আর মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। 

নিজেরে নিঃসঙ্গ মনে করো না। পুরো মহাবিশ্বই আছে তোমার ভেতরে।

ধৈর্য়ের কান দিয়ে শোনো। সহানুভূতির চোখ দিয়ে দেখো। ভালোবাসার ভাষায় কথা বলো।

অহং হচ্ছে মানুষ আর ঈশ্বরের মাঝে পরদা।

দুঃখ পেয়ো না। যা-কিছু হারিয়েছ সবই আসবে তোমার কাছে, অন্যভাবে।

**
তোমার আলোয় আমি জেনেছি কীভাবে ভালোবাসতে হয়। তোমার সৌন্দর্য়ে আমি জেনেছি কীভাবে কবিতা লিখতে হয়। তুমি আমার বুকের ভেতর নাচো কিন্তু কেউ তা দেখে না। মাঝে মাঝে আমি তোমার নৃত্য দেখি। এই দেখা শিল্প হয়ে যায়। 

**
প্রেমিকরা সবসময় একজন আরেক জনের পাশে পাশে হাঁটে। কোথাও তারা এক হয় না। 

**
ধ্বংসের মধ্যেই সম্পদের আশা করো। 

**
মহাবিশ্বের সবকিছুই তোমার মধ্যে আছে। অতএব সবকিছু নিজের কাছেই চাও। 

**
হৃদয়কে ভেঙে যাও যতক্ষণ না তা খুলছে। হৃদয়কে ভেঙে খুলতে হয়। 

**
সুস্থ হতে হলে বেদনা সহ্য করতে হয়। বেদনা ভোগ করছ মানে তুমি সুস্থ হচ্ছ। 

**
পাহাড় প্রতিধ্বনিকে তার গভীরে ধারন করে। এইভাবে আমি ধারন করি তোমার কণ্ঠকে। 

**
আমি আমার মুখটি বন্ধ করি আর তোমার সাথে কথা বলি একশোরকম নীরব ভাষায়। 

**
যা তোমাকে ব্যথা দেয়, খুশি করে। অন্ধকারই হচ্ছে তোমার মোমবাতি, আলো। 

**
যতভাবে পারো আমাকে নিয়ে গবেষণা করো। কিন্তু আমাকে তুমি জানতে পারবে না। কারণ তুমি আমাকে যেভাবে দেখো তার চেয়ে একশো রকম ভাবে আমি আলাদা। আমার চোখের পিছনে তোমাকে বসাও এবং দেখো আমি আমাকে যেভাবে দেখি। কারণ আমি বসবাসের জন্য যে জায়গাটাকে বেচে নিয়েছি তুমি তা দেখতে পারো না। 

**
যেভাবে ঈশ্বর গোলাপকে হাসতে বলেন আর গোলাপ তার পরিপূর্ণ সৌন্দর্য় নিয়ে হাসে, ঠিক একই ভাবে ঈশ্বর আমাকেও বলেন আর আমার হৃদয় হয়ে যায় গোলাপের চেয়ে একশো গুণ বেশি সুন্দর। 

**
ভোরের বাতাসের আছে তোমাকে বলার বহু গোপন কথা

আর ঘুমাতে যেয়ো না। তোমাকে জিজ্ঞেস করা হবে তুমি সত্যিই কী চাও। 
আর ঘুমাতে যেয়ো না। 

**
তুমি সুন্দর হতে চাও এবং মাঝে মাঝে হয়ে যাও নিষ্ঠুর। 

তুমি আমারই। আমাকে তুমি ছেড়ে চলে যাও। 
তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারি না। 
তুমি চলতে থাকলে আমি তোমার পায়ের ছাপ হয়ে যাই। 
তোমার অনুপস্থিতিতে আমি খসে পড়ি 
তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারি না। 
তুমি আমার ঘুমকে ডিস্টার্ব করেছ। 
তুমি আমার ছবিকে ধ্বংস করেছ। 
তুমি আমাকে ফেলে রেখে গেছ দূরে 
তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারি না। 

**
সকল বেদনাই এক-একটা দূত। দূতগুলো কী বলে শোনো। 

**
সৌভাগ্যবান কে? যে পানির জন্য হৃদে এসে দেখতে পায় চাঁদের প্রতিবিম্ব। 

**
হে আত্মা তুমি খুবই উদ্বিগ্ন। 

তুমি দেখেছ তোমার নিজের শক্তি। 
তুমি দেখেছ তোমার নিজের সৌন্দর্য়। 
তুমি দেখেছ তোমার সোনালি ডানা। 
কেন তুমি উদ্বিগ্ন? 
তুমি সত্য হে আত্মার আত্মা আত্মার আত্মা। 

**
তুমি জন্মগ্রহণ করেছ সম্ভাবনা নিয়ে। 

তুমি জন্ম নিয়েছ মহত্ব আর বিশ্বাস নিয়ে। 
তুমি জন্ম নিয়েছ আদর্শ আর স্বপ্ন নিয়ে। 
তুমি জন্ম নিয়েছ মহান হয়ে। 
তুমি জন্ম নিয়েছ ডানা নিয়ে। 
তুমি জন্ম নাওনি মাটিতে হামাগুড়ি দেওয়ার জন্য। 
তোমার আছে ডানা। 
ডানার ব্যবহার শেখো 
আর ওড়ো। 

**
অতি আনন্দে চঞ্চল-তুমিই মহাবিশ্ব। 

**
ক্ষত দিয়েই আলো তোমার ভেতরে প্রবেশ করে। 

**
হীরের নেকলেসের জন্য তুমি এই রুম থেকে ওই রুমে যাও 

অথচ নেকলেসটি তোমায় গলায়ই আছে। 

**
একমাত্র হৃদয় দিয়েই তুমি আকাশকে স্পর্শ করতে পারো। 

**
সুস্থ হওয়ার আশা করলে আগে নিজেরে অসুস্থ হতে দাও।

**
নারী হচ্ছে ঈশ্বরের আলো। 

**
নতুন ভাষায় কথা বলো যাতে পৃথিবী একটা নতুন পৃথিবী হয়। 

**
আগুন দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করো না। রক্ত দিয়ে ধুয়ে দিও না ক্ষত। 

**
ঈশ্বরের হাতে একটা আয়না ছিলো। আয়নাটি ছিলো ‘সত্য’। আয়নাটি ঈশ্বরের হাত থেকে পড়ে গেল। পড়ে, ভেঙে টুকরো-টুকরো হয়ে গেল। পৃথিবীর সব মানুষ এক টুকরো করে কুড়িয়ে নিলো। নিয়ে, তাকালো আয়নাটির দিকে। আর ভাবলো, তারা সত্যকে পেয়েছে। 

কেউ যদি সুর শুনতে অপারগ হয় তবে তার মাথায় ধূলি দাও আর ঘোষণা করো যে সে মরা। 

আমি অনেক মানুষ দেখেছি যাদের শরীরে কোনো পোশাক নাই। 
আমি অনেক পোশাক দেখেছি যেগুলোর ভিতর কোনো মানুষ নাই। 

জীবন অন্ধকার থেকে শুরু হওয়া একটা জল-প্রবাহ। অন্ধকারটিকে খুঁজে বের করো, পালিয়ে যেয়ো না। 

আমার মাঝে যে সৌন্দর্য় দেখো তা আসলে তোমার প্রতিবিম্ব। 

প্রেম একটা নদী। পান করো। 

বেদনাই ওষুধ। 

**
সাগর তার প্রতিটি ঢেউকে যত্ন নেয় যতক্ষণ না তারা তীরে পৌঁছেছে। 

**
পাখিরা আকাশে বিশাল একটা বৃত্ত তৈরি করে তাদের স্বাধীনতার জন্য। 

.
**
সিংহ যখন খাদ্যের খুঁজে বের হয় তখন সবচেয়ে সুদর্শন দেখায়। 

**
শুধু তৃষ্ণার্তরাই পানিরে খোঁজে না, পানিও তৃষ্ণার্তদের খোঁজে। 

**
ভালোবাসা একটা ছুরি নিয়ে আসে। 

**
তুমি মহাসমুদ্রের একফোঁটা পানি নও। একফোঁটা পানির মধ্যে তুমিই হচ্ছ মহাসমুদ্র। 

**
একই বাতাস গাছকে উপড়ে ফেলে আর ঘাসকে উজ্জ্বল করে। 

**
পা পথ সৃষ্টি করে। 

**
দেবদূতেরা তাদের জ্ঞানের কারণে মুক্ত। 

পশুরা মুক্ত তাদের অজ্ঞতার কারণে। 
দেবদূত ও পশুর মাঝখানে মানুষের পুত্রটি সংগ্রাম করতেই এসেছে। 

**
আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।

তোমার নীরবতাকে ভাঙার জন্য।
তোমার হৃদয়কে কাঁপিয়ে দেয়ার জন্য।
তোমার ভালোবাসাকে জাগিয়ে দেয়ার জন্য। 

**
কবিতা বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে সুন্দর কবিতা, কারণ, সুন্দর কবিতা বিভ্রম তৈরি করে। সুন্দর কবিতা পড়ে আপনি যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন বলে ভাবেন আসলে সেই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আপনি কখনো যাননি। 

**
এমনভাবে জ্বলে ওঠো যেন পুরো মহাবিশ্বটাই তোমার। 

**
মহাবিশ্বের একজন নাগরিক তুমি। তুমি এই ধূলির পৃথিবীর একজনও। অথচ ধূলির পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তুমি সৃষ্টি করেছ তোমার একটা ব্যক্তিগত ইমেজ। এবং ভুলে গেছ তোমার সত্যিকার উৎসের মর্মার্থ। 

**
শাখায়-শাখায় যা খুঁজতেছ তা হয়তো শুধু শিকড়েরই দেখা যায়। 

**
তোমার হৃদয়ের আয়তন একটা মহাসমুদ্রের সমান। যাও, মহাসমুদ্রের গোপন গভীরতায় নিজেরে খোঁজো। 

**
পৃথিবী একটা স্বপ্ন। শুধু ঘুমন্তরাই এটাকে বাস্তব মনে করে।একদিন মৃত্যু আসবে ভোরবেলার মতো আর তুমি এতদিন যাকে তোমার দুঃখ মনে করে আসছো তার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে তুমি জেগে উঠবে। 

**
হাঁটতে থাকো, যদিও কোথাও পৌঁছার নেই তোমার। দূরত্বকে দেখার চেষ্টা করো না। এটা মানুষের কাজ না। চলতে থাকো। কিন্তু এমন ভাবে হাঁটো না যেভাবে ভয়ার্ত মানুষ হাঁটে। 

**
তোমার দুর্বলতা তুমি তাকেই দাও যে তোমাকে সাহায্য করে। 

**
ভুল ও শুদ্ধের বাইরে একটা বাগান আছে। সেখানেই আমি তোমার সাথে মিলিত হবো। 

**
তোমার জন্য আমার যে ভালোবাসা তার ভেতর আমি এমনভাবে মরি যেভাবে এক টুকরা মেঘ গলে যায় সূর্য়ালোকের ভেতর। 

**
নীরবতা তোমাকে জীবনের কেন্দ্রে নিয়ে যাবে। 

**
ভালোবাসা বলে, আমরা আকাশে যাবো। তুমি কি আসছো? 

**
হৃদয়ের সৌন্দর্য়ই চিরকালের সৌন্দর্য়। 

**
তুমি তোমার নিজের অভিজ্ঞতার প্রেমিক। আমার অভিজ্ঞতার না। তুমি ‘আমি’ হয়ে যাও যাতে আমি অনুভব করতে পারি তোমার আবেগ। 

**
জীবনের শেষ মুহূর্তে যখন মাত্র একটা শ্বাস বাকি তখনো যদি তুমি আসো আমি উঠে বসবো এবং গান গাইবো। 

**
প্রেমিকের ঘরের সংগীত কখনো থামে না। ঘরটির দেয়ালগুলি গান আর মেঝেটি নৃত্য দিয়ে তৈরি। 

**
মহাবিশ্ব এবং নক্ষত্রের আলো আমার ভেতর দিয়েই আসে। 

**
জানো তুমি কে? তুমি হচ্ছ একটা ঐশ্বরিক চিঠির খসড়া। তুমি একটা আয়না আর দেখাচ্ছ একটা মহৎ চেহারা। মহাবিশ্ব তোমার বাইরে নয়। নিজের ভিতরে তাকাও। তুমি যা চাও সবই তুমি নিজে। 

**
সৌন্দর্য় আমাদের ঘিরে রেখেছে। 

**
রাতকে ছেড়ে যায় না বলেই চাঁদ উজ্জ্বল। 

**
আমার ছোটো হৃদয়ে তুমি অত বড় দুঃখ কীভাবে রাখবে? 

–দেখো তোমার চোখ কত ছোটো কিন্তু সে দেখতে পায় পুরো পৃথিবীকে। 

**
তোমাকে দেয়ার জন্য কেউ যখন স্বর্ণ গুণে তখন তুমি নিজের হাত বা স্বর্ণের দিকে তাকিয়ো না। তাকাও যে দিচ্ছে তার দিকে। 

**
চান্দ্রলোকে ভেসে যায় সারা আকাশ। কিন্তু তোমার ঘরে কতটুকু যাবে সেই আলো তা নির্ভর করে ঘরটির জানলার ওপর। 

**
আমাকে একবার জানলে হবে না। বারবার জানতে হবে। কারণ আমি চাঁদের মতো। প্রতিদিন আমাকে দেখা যায় নতুন একটি মুখে। 

**
গোলাপের বিরলতম সৌগন্ধটি থাকে কাঁটায়। 

**
নিজেরে নিঃসঙ্গ মনে করো না। পুরো মহাবিশ্বই আছে তোমার ভেতরে। 

**
ধৈর্য়ের কান দিয়ে শোনো। সহানুভূতির চোখ দিয়ে দেখো। ভালোবাসার ভাষায় কথা বলো। 

**
কবিতায় কী বলতে যাচ্ছি তা আমি কখনোই জানি না। 

**
অহং হচ্ছে মানুষ আর ঈশ্বরের মাঝে পরদা। 

**
পৃথিবীর বাগানের কোনো সীমা নাই। 

**
তুমি বরং আমাকে ছেড়ে যাও। আমার কথাগুলো আসলে আগুন। 

**
এটা খুবই খারাপ যে তুমি অন্যের মতো হতে চাও। তুমি তোমার নিজের মুখ দেখো না, নিজের সৌন্দর্য় দেখো না। যদিও তোমার মুখের চেয়ে সুন্দর মুখ আর নাই। 

**
মানুষ নিজের দিকে তাকায় না। ফলে তারা একে অন্যকে অপরাধী ভাবে। 

**
গাছের পা যদি মাটির সাথে বাঁধা না থাকতো তাহলে গাছ আমাকে নিয়ে যেতো। কারণ আমি ফুলে-ফুলে ভরা। আমি বাগানকে হিংসা করি। 

**
আলো যাদের আলোকিত করেছিলো উৎসে ফিরে যাওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে কিছুই নিয়ে যায় না। আলো তার উৎসে ফেরে শূন্য হাতে। 

**
ভালোবাসা হচ্ছে মেঘ যা মুক্তা ছড়ায়। 

**
আমি যখন নীরব তখন আমার ভিতর লুকিয়ে রেখেছি বজ্র। 

**
আমার বৃষ্টিফোঁটাগুলো পৌঁছানোর জন্য তোমার সূর্য়কে চাই। তোমার উত্তাপই পারে আমার আত্মাকে মেঘের মতো ভাসিয়ে দিতে। 

**
আমি পাথর হিসেবে মরে গিয়ে একটা গাছ হয়েছিলাম। 

আমি গাছ হিসেবে মরে গিয়ে একটা পশু হয়েছিলাম। 
আমি পশু হিসেবে মরে গিয়ে মানুষ হয়েছিলাম। 

**
নোংরা মানুষটিকে পানি বললো, ‘‘এসো।’’ 

নোংরা লোকটি বললো, ‘‘আমি খুবই লজ্জিত।’’ 
প্রতিউত্তরে পানি বললো, ‘‘আমি ছাড়া কে তোমার লজ্জা দূর করবে?’’ 

**
প্রেমের পথে আমরা আমাদের জীবনের প্রভুও না, মালিকও না। আমরা একজন মাস্টার পেইন্টারের হাতের তুলি। 

**
প্রেমের ধর্মের কোনো বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী নেই। ভালোবাসা সবাইকে আলিঙ্গন করে। 

**
মুখোশ ছিঁড়ে ফেল। তোমার মুখটি অনিন্দ্য সুন্দর। 

**
সময়ের বৃত্তের বাইরে চলে এসো। চলে এসো ভালোবাসার বৃত্তের ভিতর। 

**
গলতে থাকা তুষার হও। ধুয়ে ফেল তোমার তোমাকে। 

**
দুঃখ তোমার হৃদয়ের শাখা থেকে হলুদ পাতা ঝরিয়ে দেয় যাতে সবুজ পাতা জন্মাতে পারে। 

**
দুঃখ/কষ্ট আসলে একটা উপহার। এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে ক্ষমা। 

**
আমাকে কবরের নিয়ে যাওয়ার সময় কেঁদো না। বলো না, ‘সে চলে গেছে।’

সূর্য় ডোবে। চাঁদ অস্ত যায়। কিন্তু তারা চলে যায় না। 

**
ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানেই লুকিয়ে থাকে সম্পদ। গরিব আর ভাঙা হৃদয়ের মানুষের হৃদয় ভেঙো না। 

**
যখন তুমি সবখানে তখন তুমি কোথাও নেই। 

যখন তুমি কোথাও, তখন তুমি সবখানে। 

**
নিজের চিন্তা থেকে নিজেকে রক্ষা করো। 

**
আলো ছাড়া (অন্ধকারে) সিংহও বন্দি হতে পারে ইঁদুরের হাতে। 

**
আলো আর ছায়া দুটোই হচ্ছে ভালোবাসার নৃত্য।

**
আমি সবকিছু হারিয়েছি। আমি নিজেকে পেয়েছি। 

**
তুমি যদি রত্নের খনি হতে চাও তবে হৃদয়ের গভীর সমুদ্রটি খুলে দাও। 

**
যা-কিছু সুন্দর আর মনোরম 

সবই তৈরি করেছেন তিনি, যিনি দেখেন। 

**
এক পলকে আমি বিশ্বকে জয় করতে পারি। আমি একটা হাসি দিয়ে সুস্থ করতে পারি একটা ভগ্ন-হৃদয়কে। 

**
তোমাকে পাঠানো হয়েছে মানুষকে এক করার জন্য, বিভক্ত করার জন্য না। 

**
তোমাকে দেখে যারা খুশি হয় তাদের জন্য হাসো। 

**
নারী হচ্ছেন স্বর্গীয় আলোর হাসি। তিনি ক্রিয়েটর। ক্রিয়েচার না। তিনি অসীম ভালোবাসা। 

**
দুইটা বাতি আলাদা আলাদাভাবে জ্বললেও তাদের আলো একে অন্যের সাথে মিশে যায়। 

**
শরীর একটা পোশাক মাত্র। পোশাকটি যে পরিধান করেছে তাকে খুঁজে বের করো, পোশাককে না। 

**
ভালোবাসা আমাদের জন্মদাত্রী। ভালোবাসা আমাদের মা। 

**
আমি স্বর্গীয় বাগানের পাখি। এই ধূলির পৃথিবীর না। কিছুদিনের জন্য এই শরীর পাখিটার খাঁচা। 

**
প্রতিরাতে চাঁদ গোপনে চুম্বন করে সেই প্রেমিক/প্রেমিকাদের যারা গণনা করে তারাদের সংখ্যা। 

**
মহাবিশ্বের সবকিছুই এক-একটা পাত্র। পাত্রগুলো প্রজ্ঞা আর সৌন্দর্য়ে পরিপূর্ণ। 

**
ভালোবাসা হচ্ছে একটা ধর্ম। মহাবিশ্ব একটা গ্রন্থ। 

**
গান গাইতে চাই। পাখি যেমন গায়। কে শুনবে বা কে কী মনে করবে তাতে আমার কিচ্ছু যায়-আসে না। 

**
তোমার হৃদয়ে একটা মোমবাতি আছে। জ্বলে ওঠার জন্য প্রস্তুত। 

তোমার আত্মায় একটা শূন্যস্থান আছে। পূর্ণ হয়ে ওঠার জন্য প্রস্তুত। 

**
মানুষ একটা অতিথিশালা। 

আনন্দ, হতাশা, লজ্জা, দুঃশ্চিন্তা সবই আসে অপ্রত্যাশিত অতিথির মতো।
সবাইকে তুমি হাসিমুখে গ্রহণ করো। আনন্দিত করো। সবাইকে সম্মান দেখাও। 
সবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। কারণ তারা আসে তোমার পথপ্রদর্শক হিসেবে। 

**
সৌন্দর্য় আর ক্ষমার জন্য সূর্য়ের মতো হও। 

অন্যদের ভুলগুলোকে লুকানোর জন্য রাতের মতো হও। 
দয়ার জন্য বহমান পানির মতো হও। 
ক্রোধের জন্য মৃত্যুর মতো হও। 
ভদ্রতার জন্য পৃথিবীর মতো হও। 
তুমি যা, ঠিক তার মতো উদ্ভাসিত হও। 
যেভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে, তুমি ঠিক তাই হও। 

**
দুইজন লোক কখনো সন্তুষ্ট হতে পারে না। একজন পৃথিবীর প্রেমিক। অন্যজন জ্ঞানের প্রেমিক। 

**
তুমি যদি একজন সাহায্যকারী বন্ধু হও তাহলে তুমি একটা সবুজ গাছ হবে যে গাছে সবসময় নতুন নতুন ফল ধরে।
**
যত শান্ত হবে তত বেশি শুনতে পাবে। 

**
নীরবতায় বাস করো। 

**
আমার মাঝে যে সৌন্দর্য় দেখো তা আসলে তোমার প্রতিবিম্ব। 

**
যেখানেই দাঁড়াও না কেন স্থানটির আত্মা হয়ে যাও। 

**
প্রেম একটা নদী। পান করো। 

**
মোমবাতির সৌন্দর্য় দিয়ে আলোপতঙ্গরে বিচার কর। 

**
বেদনাই ওষুধ। 

**
ভেঙে পড়ো। 

যেখানে পড়বে বুনো ফুল ফোটে সেখানে। 
অনেক অনেক বছর ধরে তুমি পাথুরে হয়ে আছো। 

**
সবাইকে প্রবেশ করতে হয় সেই নীড়ে যে নীড়টি তৈরি করেছে অন্য একটা অ-পরম পাখি। 

**
মধ্যপন্থাই হচ্ছে প্রজ্ঞায় যাওয়ার পথ। 

**
পৃথিবী একটা পাহাড়। যা-ই বলো না কেন কথাটির প্রতিধ্বনি তোমার কাছে ফিরে আসে। কখনো বলো না যে, আমি গান গাইলাম সুন্দর আর পাহাড় প্রতিধ্বনি পাঠালো কুৎসিত। এটা সম্ভব না। মানুষের বুদ্ধি হচ্ছে এমন একটা স্থান যেখানে শিকড়িত হয়ে আছে সংশয় আর অনিশ্চয়তা। প্রেমে পড়া ছাড়া এই সংশয়কে জয় করা সম্ভব না। 

**
তুমি যা চাও তারে সন্দেহ করো। 

**
আমি মাছ। তুমি চাঁদ। তুমি আমাকে স্পর্শ করতে পারো না কিন্তু তোমার আলো আমার বাড়ি সমুদ্রকে পূর্ণ করতে পারে। 

**
দুইটা পাখিকে একসাথে বেঁধে রাখলে তাদের চারটি ডানা হয়ে যায়; কিন্তু তারা আর উড়তে পারে না।

**
সত্যিকার মানুষ হওয়ার জন্য আমরা অবশ্যই মরবো। 

**
কৌটায় বন্দি মুক্তা সাগরকে স্পর্শ করতে পারে না। মুক্ত মুক্তা হও। 

**
সকল পণ্যের দাম জানো তুমি। জানো না তোমার নিজের আত্মার দাম। কী বোকা তুমি! 

**
কেউ যদি সুর শুনতে অপারগ হয় তবে তার মাথায় ধূলি দাও আর ঘোষণা করো যে সে মরা। 

**
বুদ্ধিমানরা আশা করে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ। শিশুরা চায় চকোলেট। 

**
তুমি আমার পতন দেখেছ। এখন দেখো আমার উদয়। 

**
ছায়ার মতোই। আমি আছি। আমি নাই। 

**
আমি অনেক মানুষ দেখেছি যাদের শরীরে কোনো পোশাক নাই। 

আমি অনেক পোশাক দেখেছি যেগুলোর ভিতর কোনো মানুষ নাই। 

**
ভালোবাসা একটা অসীম সমুদ্র যেখানে স্বর্গ ফেনা ছাড়া কিছু না। 

**
একটা শরীরের জীবনীশক্তি অসীম। 

**
জীবন অন্ধকার থেকে শুরু হওয়া একটা জল-প্রবাহ। অন্ধকারটিকে খুঁজে বের করো, পালিয়ে যেয়ো না। 

অনুবাদ : মুহম্মদ ইমদাদ

Comments

comments

মুহম্মদ ইমদাদ

মুহম্মদ ইমদাদ

কবি ও অনুবাদক, কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে দুইটি, জন্ম সিলেটে ৬ জানুয়ারি ১৯৭৮, মৌলভীবাজার। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি ও লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর। পেশায় শিক্ষক। প্রকাশিত বই : কবিতা— অন্ধ পৃথিবীর জানলাগুলি ● নদীমাতৃক পৃথিবী মেঘমাতৃক আকাশ ● প্রেগন্যান্ট পাগলি ও অন্যান্য কবিতা। অনুবাদ—দূরাগত স্বর ● চূর্ণচিন্তন ● আর্থার শোপেনহাওয়ারের কথাগুলি। প্রবন্ধ— আধুনিক কবিতা বিষাদবৃক্ষের ফুল ও অন্যান্য প্রবন্ধ। সম্পাদিত ছোটকাগজ— ‘হরমা’ । ই-মেইল : esthetic00@yahoo.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি