সাম্প্রতিক

গোবিন্দগঞ্জ নয় আমার তাহিতি পাপিতি । অদিতি ফাল্গুনী

প্রিয় বন্ধু, যদিও তুমি লিখেছো যে তোমার স্বাস্থ্য খুব খারাপ আর স্বাস্থ্যোদ্ধারের জন্য হলেও একবার অন্তত: তুমি ইউরোপেস্পেনে ফিরতে চাও, আমার বিবেচনায় না ফেরাই ভাল হবে। কারণ তোমাকে নিয়ে জনচিত্তে যে কিংবদন্তী আর সমীহ তৈরি হচ্ছে তাভেঙ্গে যাবে। বর্তমানে তুমি মানুষের কাছে এক অনন্য কিংবদন্তীতূল্য শিল্পী যে কিনা সেই দূর দক্ষিণের মহাসমুদ্র থেকে অশান্ত আর অনণুকরণীয় সব ছবি এঁকে পাঠায়। সেই সব ছবি এমন এক মহান মানুষের স্বতন্ত্র সৃষ্টি যে মহান মানুষটি ইতোমধ্যে আমাদের পরিচিত পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আপাতত: তোমার শত্রুরা— যেহেতু তুমি সেই বিরলদের একজন যারা সবসময়ই মধ্যমেধার অসংখ্য মানুষকে বিড়ম্বিত করেসেই শত্রুরা আপাতত: নিশ্চুপ; তারা তোমাকে আক্রমণ করার সাহসও করে না, আক্রমণ করার কথা ভাবতেও পারে না। যেহেতু তুমি অনেক দূরে রয়েছো। তোমার ফেরা উচিত নয়। পরলোকগত সব মহান মানুষের মত তুমি আজ ধরাছোঁয়ার অনেক উর্দ্ধে; ইতোমধ্যেই তুমি শিল্পের ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছো।’ 

‘কি পড়ছিস এত মন দিয়ে? কফি করবো তোর জন্য?’

রেস্ট হাউসটা ভালই। অন্তত: আমাদের মত দুই ফ্রি-ল্যান্সার, তরুণ চিত্রশিল্পী বন্ধুর জন্য সস্তাই বলতে হবে। ডাবল বেড রুমটির ভাড়া প্রতি রাতে মাত্র এক হাজার টাকা। দু’জন মিলে দিন দশেক থাকবো। ঢাকায় আমাদের সাঁওতাল বন্ধু বেঞ্জামিন মুর্মুই ওদের গ্রামের পাশের মিশনারি প্রতিষ্ঠানটির রেস্ট হাউজে আমাদের জন্য এই ডাবল বেডের রুমটি ঠিক করে দিয়েছে। সাথে লাগোয়া বাথরুমে কমোড, শাওয়ার ও ট্যাপ ভালই কাজ করে। টেবিলে মিনারেল ওয়াটার আর গ্লাসের পাশাপাশি ফ্লাক্সও রয়েছে। কয়েকটি কালো কফির মিনি প্যাকেট আর কয়েকটা মিনি প্যাক গুঁড়ো দুধ আর চিনিও। আজ বিকেলেই আমরা ঢাকা থেকে পৌঁছেছি। এসেই খানিকটা সময় রেস্ট নিয়ে, ফ্রেশ হয়ে শহরের একটা হোটেলে ভাত-ডাল-মুরগী খেয়েও এসেছি। এখন কফি বানানোই যায়।

‘গগ্যাঁকে লেখা মনফ্রিডের চিঠিটা পড়ছি আর ভাবছি মানুষ কত নিষ্ঠুর হতে পারে!’ আশরাফ বলে কেমন একটা ঘোরের ভেতর থেকে। সার্টিফিকেটের নাম মোহাম্মদ আশরাফউদ্দিন বেপারি হলেও সৌম্য আশরাফ নামে সে ছবি আঁকে, বইয়ের প্রচ্ছদ করে ইত্যাদি। আমার নাম আব্দুল করিম খান মুন্সী হলেও আমিও তন্ময় করিম নামে ছবি আঁকি, বইয়ের প্রচ্ছদ করি প্রভৃতি। 

‘যেমন?’

‘যেমন আর কি? এই গগ্যাঁ লোকটার যদি ছবি আঁকার তাড়া না থাকতো…সোজা বাংলায় কারুবাসনা না থাকতো, সে এক সফল ব্যবসায়ী হতো। বউ-বাচ্চা নিয়ে সুখে থাকতো। সেসব কিছুই হলো না। ব্যবসা লাটে উঠলো। বউয়ের সাথে ঘর ভাঙ্গলো। গেল তাহিতি দ্বীপে। সেখানেও কি কষ্ট— কি স্ট্রাগল! শেষ জীবনে আহা বেচারা একবার নিজ সমাজে ফিরতে চাইলো— ঘরের ছেলে ঘরে ফিরতে চাইলো- সেটাও কিনা এক বন্ধু মানা করলো…তারপর ত’ দুম করে মারাই গেলো!’

‘তা’ নিজ সমাজে ফিরতে হবে ক্যানো? সে ত’ ঘোষণা দিয়েই তাহিতি দ্বীপে গেল! এই পশ্চিমা, সাদা সভ্যতা সে আর নিতে পারছে না। শিল্পের জন্য শুদ্ধতম নির্জনতা, একদম অচেনা দেশ ও সংস্কৃতিই তার দরকার। আমার কি মনে হয় জানিস? গগ্যাঁ তাহিতি দ্বীপে পরে যতই থাকুক, আসলে সে ভেতরে ভেতরে সাদা বহিরাগতই ছিল।’

‘সেটা তোমার মনে হতে হবে কেন?’ আশরাফ বই বুকে চিত শোয়া থেকে উঠে বসে। আশরাফের সাথে বন্ধুদের কোন বিষয়ে মতানৈক্য হলেই সে ঝট করে ‘তুই’ থেকে ‘তুমি’তে উঠে যায়। যেমন এই মূহুর্তে সে উঠেছে, ‘অনেক সিনিক সমালোচকই তেমনটা লিখেছে। কিন্তÍ তাকে কি সাদা বহিরাগত বলা যায়? সে ত’ ঐ দ্বীপের নিরক্ষর আদিবাসী মেয়েদের বিয়ে করেছে…সুশিক্ষিত পশ্চিমা বউ ফেলে এসে…আদিবাসী মেয়েদের সাথেই তার বাচ্চা-কাচ্চাও হয়েছে।’

‘হাহ্— একটা লোক তার বউ-বাচ্চাদের ফেলে এসে তাহিতি দ্বীপে গিয়ে প্রায় মেয়ের বয়সী তেরো-চোদ্দ বছরের মেয়েদের একের পর এক বিয়ের নামে রক্ষিতা করে রাখছে, ভোগ করছে। তখনো মর‌্যাল ভ্যালুজের প্রশ্নে রিজিড সাদা খ্রিষ্টান সমাজের আইন-কানুন থেকে পালিয়ে এসে এই পেডোফেলিয়াক …এই শিশু নিপীড়ক লোকটা আসলে অবাধ ভোগ আর ফূর্তিই করতে চাইছে। ওকে পশ্চিমা নারীবাদীরা এমনি এমনি ঘেন্না করে না।’

আমি দাঁত-মুখ খিঁচাই।

‘তুই মাঝে মাঝে একদম পাদ্রি-পুরুতদের মত কথা বলিস। একদম কাঠ মোল্লা তুই! একজন শিল্পী হিসেবে সে ডিফারেন্ট এক্সপিরিয়েন্স, ডিফারেন্ট নেচার, ডিফারেন্ট ওমেন চেয়েছে তার বিষয়বস্ত হিসেবে— এতে দোষের কি আছে?’

‘হুম— সাদা মানুষের কাছে, সভ্য মানুষের কাছে আদিবাসী  ত’ সবসময়ই অবজেক্ট। তার ক্যামেরার লেন্স, তার রং-তুলি সদা প্রস্তত আদিবাসীর নগ্ন মেয়ের ছবি তুলতে, আঁকতে। এটা যে কি ভয়ানক অবজেক্টিফিকেশন…এই যেমন তুই এসেছিস আর তোর পাল্লায় আমিও ত’ এলাম সাঁওতাল গ্রাম দেখতে। সাঁওতালি মেয়েকে পরখ করে দেখতে বাঙ্গালী বাবু-সাহেবদের সবসময়ই ভাল লাগে। বুভুক্ষু, কালো সাঁওতাল মেয়েদের এক্সোটিক সৌন্দর্য দেখতে আমরা দুই নাগরিক বাঙ্গালী হাজির!’

‘তবে আসলি ক্যানো? পা ধরছিলাম নাকি তোর?’
‘অনেকদিন একই ঢাকায়। একটু হাওয়া বদলাতে এলাম আর কি। খরচও  ত’ কম হবে না। দু’জনেই ত’ চাকরি ছেড়ে ফ্রি-ল্যান্সিং করছি।’
‘উফ…আর ঝগড়া করতে ভাল লাগছে না। মাল খাবি? মেয়ে মানুষের মত কফি বানিয়েছিস দেখি।’
‘খবরদার আশরাফ!মুখ ঠিক কর। ভাল হবে না।’
‘স্যরি দোস্ত— স্যরি— বলছি মাল খাবি?’
‘না— সিগারেট খাবো। আর রিজিয়াকে ফোন করতে হবে।’
‘ওহ্— কি নিবিষ্ট চিত্ত প্রেমিক। ঘরে বসেই কর ফোন। আমি কাণে হেডফোন লাগিয়ে নিচ্ছি। তোর বারান্দায় যেতে হবে না।’
‘ভাগে-জোখে এক হাজার টাকায় যখন ছোট একটা ব্যালকনি পাওয়াই গেছে, তখন সদ্ব্যবহার করি। রুমানার সাথে ব্রেক-আপ কি আর জোড়া লাগবে না?’

‘না— মুহাহাহাহা— আমি আমার গুরু গগ্যাঁর মতোই নগর ও নাগরিক নারীতে ক্লিষ্ট। কাল কারাম পূজায় যাই চল্— নন্দলাল, জয়নুল- কে আঁকে নি সাঁওতাল নারী?’

আশরাফ তার ঘন কোঁকড়া চুলে আঙুল বুলায় চিরুনীর মত করে। ফর্সা, টকটকে রং ওর। খানিকটা ভারি লেন্সের চশমা ওর চোখে। লম্বায় আমরা দু’জনেই কাছাকাছি। পাঁচ আটের মত। এসব ভাবতে না ভাবতেই রিজিয়ার ফোন আসে।

‘একটু থাক— আসছি।’

২.

হাস্য উপহাস্য শেষ হইলে, নৃত্যের উদ্যোগ আরম্ভ হইল। যুবতী সকলে হাত ধরাধরি করিয়া অর্দ্ধচন্দ্রাকৃতি রেখা বিন্যাস করিয়া দাঁড়াইল। দেখিতে বড় চমৎকার হইল। সকলগুলিই সম উচ্চ, সকলগুলিই পাথুরে কাল; সকলেরই অনাবৃত দেহ, সকলের সেই অনাবৃত বক্ষে আরশির ধুকধুকি চন্দ্রকিরণে এক একবার জ্বলিয়া উঠিতেছে। আবার সকলের মাথায় বনপুষ্প, কর্ণে বনপুষ্প, ওষ্ঠে হাসি। সকলেই আহ্লাদে পরিপূর্ণ, আহ্লাদে চঞ্চল, যেন তেজ:পুঞ্জ অশ্বের ন্যায় সকলেই দেহবেগ সংযম করিতেছে।

গাইবান্ধা শহর থেকে গোবিন্দগঞ্জ খুব দূরে নয়। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকেও অনেকটা ভেতরের এক গ্রামে এসেছি আমরা। আশরাফ তার ছবির জন্য নতুন বিষয় চায়। নাগরিক ক্লিষ্টতা থেকে ওর কিছুটা দূরের যাত্রায় সঙ্গী আমিও। এদিকের অধিকাংশ সাঁওতালি জনপদই খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। তবু কোন কোন গ্রামে আজো কারাম পূজা হয়। আমাদের আসতে আসতে অবশ্য কিছু দেরি হয়ে গেছে।

‘শুন্ বেটা বেটিরা— তুদের কারাম পূজার কাহিনী আমি কহি। সে ম্যালা ম্যালা বচ্ছর আগে এক দেশে ছিল সাত ভাই। উয়ারা  ত’ জমিনে দিনভর ম্যালা কাজ করিত। উয়াদের দুপুরে ভাতটি খাহিবার পর্যন্ত সময় ছিল্য না। তা’ উয়াদের বহুরাই দুপুর বেলা রোদের ভিতরে উয়াদের জন্য ভাত লইয়া যাহিত। কিন্ত একদিন কি হইলো— বহুগুলা উয়াদের মরদদের জন্য ভাত লইতে ভুলিয়া গেল। তা’ মরদগুলা ত’ সারাদিন ধরিয়া রোদের তাতে বহুত পুড়িলো বঠে! সানঝ বেলায় উয়ারা বাড়ি ফিরিয়া দ্যাখে কি উঠানে একটা কারাম গাছের ডাল পুঁতিয়া সাত বহু গাইতে আর লাচিতে লাগিয়াছ্যে। সাত মরদখানার ভেতর একজন তখন কারাম গাছের ডালখানা উপড়াইয়া নদীতে ফেল্যে দিলো। ইহাতে কারাম দেবতা খুবই গোস্বা হইলেন। উ সাত ভাইয়ের সংসারে তখন আসিলো অভাব, আসিলো শনি।  দেখিতে দেখিতে উয়াদের ঘরে শুধু ভুখা। তারপর একদিন এক পুরুত ঠাকুর আসিয়া সব কাহিনী শুন্যে কহিলেন কি তুরা কারাম পূজা কর। তখন সাত ভাই মিল্যে কারামের খোঁজে বাহির হইল্যো। ম্যালা ম্যালা দিন ইদিক উদিক ঘুরে‌ পরে কিনা উয়ারা পাইলে কারাম গাছের ডাল আর পূজা করিতে লাগিলো। দিখিতে দিখিতে উয়াদের অভাবও ঘুচিলো।’

আকাশে চাঁদ উঠেছে। একাদশ ভাদ্রের পূর্ণিমায় সাঁওতালদের এই কারাম পূজা। একটি গাছের ডাল কেটে পোঁতা হয়েছে উঠোনের মাঝখানে। সত্যি বলতে একটু আগেও এই কালো, ঘর্মাক্ত আর মলিন শাড়ির সাঁওতাল মেয়েগুলোকে আমার আহা মরি কিছু মনে হচ্ছিল না। যদিও মেয়েগুলো সবাই চুলে ফুল পরেছে। কিন্ত এখন একটু একটু করে আকাশে চাঁদ চড়ছে আর মাটির কলস থেকে হাড়িয়া ঢেলে আমাদের সবার হাতে হাতে গ্লাসে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে, মাদলে বোল উঠেছে, দিগন্ত ব্যপী বাতাস চিরে বাজছে অবোধ্য ভাষায় গানের ধুয়া আর সাথে যুবক-যুবতীদের সম্মিলক গীত ও নৃত্য। হাড়িয়া যেন ভেতরটা ভিজিয়ে দিচ্ছে। গত রাতে রিজিয়ার সাথে মোবাইলে আলাপ খুব সুখকর হয়নি। আমার পরপর কয়েকটা চাকরি ছাড়ায় রিজিয়া ক্লান্ত ও বিরক্ত। সে তার পরিবারের সাথেও আর আমার বিষয়ে লড়াই করতে পারছে না। এর ভেতর আমি কোন্ চুলায় এসেছি কে জানে? আমি যেন তাড়াতাড়ি ঢাকায় ফিরি ও রিজিয়ার সাথে গোটা বিষয়টা ফয়সালা করি। সে আমাকে একটি শেষ সুযোগ দিতে চায়। এটুকু শুনে মাঝরাতে আধা বোতল সাবাড় করা আশরাফ বলেছে ঢাকা শহরের ঐসব নাগরিক কুটিলাদের কথা কেন আমি মাথা থেকে তাড়াচ্ছি না (মানে আশরাফ আরো মন্দ ভাষাতেই বলেছে আর কি— সে অশ্রাব্য সব গালি)? আশরাফ ত’ আমাকে প্রকৃতির কাছে— বিশুদ্ধ প্রকৃতি আর বিশুদ্ধ নারীদের কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব নিয়েছেই।

৩.

রাতে আমি আর আশরাফ কারাম পূজার উঠানেই আরো কিছু হড় বা সাঁওতাল নর-নারীর সাথে ঘুমিয়ে গেছিলাম মনে হয়। ঘুম ভাঙ্গলো ফোনে মেসেজ আসার শব্দে। রিজিয়ার মেসেজ।

‘মাই আকদ উইল বি হেল্ড দিস ইভনিং। ফাদার হ্যাড আ স্ট্রোক টু মান্থস এ্যাগো। ফরগিভ মি।’
কিচ্ছু বলার নাই। রোদ উঠেছে। সকাল সাড়ে আটটার মতো বাজে মনে হয়।
‘কি হইছে? তব্দা খাইয়া বইসা আছিস?’

আশরাফেরও যে ইতোমধ্যে ঘুম ভেঙ্গেছে এবং দিব্যি দুই চোখ কচলে সে আমার পাশে এসে বসেছে তা’ খেয়াল করিনি। কিছু না বলে মোবাইলটা এগিয়ে দিলাম। মেসেজটা পড়ে খ্যাক খ্যাক করে হাসলো।

‘গগ্যাঁরে না মেয়েরা গাইলায়? ওর বউও ত’ ওরে কম কিলায় নাই। বেচারা বাধ্য হইছে তাহিতি দ্বীপে পলাইতে। চল তেহাম্মানাকে খুঁজি!’

‘তেহাম্মানা কে?’

‘ভাহিন— তাহিতি দ্বীপের ভাষায় ‘ভাহিন’ মানে ‘নারী’—ও হয়, বউও হয়। তাহিতি দ্বীপে গগ্যাঁর প্রথম বউ— একটা তেরো বছরের মেয়ে। গগ্যাঁর বাচ্চার জন্ম দিছে।’

‘থাম্— ব্রুট লাগছে শুনতে। শালার শিশুকামী কোথাকার!’

‘ওহ্— রিজিয়ার লাত্থি খাইয়াও নাগরিক ট্যাবু ভাঙ্গছে না!’

‘রিজিয়া আমাকে লাত্থি মারুক কি না মারুক— তাতে পেডোফিলিয়া জাস্টিফাই হয় না, শিশুকাম বৈধতা পায় না। সে গগ্যাঁই হোক আর যত বড় শিল্পীই হোক!’

‘শোন্— এখানে সরকারের একটা চিনি কল সাঁওতালদের অনেক জমি বহু বছর আগে অধিগ্রহণ করছিল। সেই আখকলটাও এখন বন্ধ। সাঁওতালরা জমি ফেরত চাচ্ছে। পাচ্ছে না। পরিস্থিতি একটু গরম। আমি এদের সাথে আন্দোলনে আছি। অবশ্য সাঁওতালদের পাশাপাশি বাঙ্গালী…মুসলিম বাঙ্গালীও অনেকের জমিই বেহাত। চাষীদের আন্দোলন আর কি। এই আন্দোলনের নেতারাই আসছে। গেলাম।’

‘আপনারাই ত’ ঢাকার আর্টিস? কারাম পরব দেখ্যিতে আসিছ্যেন? জোহর!’ মাঝবয়সী এক ধূতি আর নীল শার্ট পরা সাঁওতাল পুরুষ আমাদের সামনে নমষ্কারের ভঙ্গিতে হাত জোড় করে।

‘জ্বি-’ আমরা ব্যস্তসমস্ত বলি।

‘খুব ভাল। উ বেঞ্জামিন হামাকে ফোন করে‌ছিল। বল্যেছে আপনাদের দিখা-শুনা করিতে। বেঞ্জামিনরা খ্রিষ্টান হইলেও হামরা হড় ধর্মই ইখনো পালন করি। বেঞ্জামিনের হামি গ্রাম সম্পর্কে কাকা হই! হামার নাম হংস বদন কিস্কু।’

‘ওহ্—’
‘কিমন লাগলো হামাদের পরব?’
‘জ্বি— খুব ভাল।’
‘ইখানে আস্যে কুথায় উঠ্যেছেন?’
‘গাইবান্ধা শহরে। বেঞ্জামিনদের অফিসের একটা রেস্ট হাউস আছে।’

‘ওহ্— সি ভাল। আর লয়তো মনে করিল্যে হামাদের ইখানেও থাকিত্যে পারেন। ই পূজার থানের পাশেই উ টিনের ঘরটাই হামার। গরীবের ঘরেও থাকিত্যে পারেন।’

‘না— না— ঠিক আছে।’
‘রাতে ইখানেই ছিলেন?’
‘জ্বি।’
‘হাত-মুখ ধোওয়া— সকালের নাশতা করে‌্যছেন?’

‘জ্বি মানে— কাল সন্ধ্যায় ঐ ব্যাগে এক সেট কাপড় নিয়ে, রেস্ট হাউজে রুম লক করে চলে আসছি। আপনাদের গ্রামটা ঘুরে দেখব একটু। আর এখানে একটু টিউব-ওয়েলে হাত-মুখ ধুতে পারলে আর কোন চায়ের দোকান থাকলে একটু চা-পরোটা খেতে পারলেই হয়ে যায়।’

‘চায়ের দোকান কেন? হামার বাসায় চল্যেন?’
‘বাপা— ডেকেছিস কেনে?’

এক বছর পনেরো/ষোলর কিশোরী গলার ডাক। চোখ তুলে তাকাতেই বিষ্মিত হতে হয়। কুচকুচে কালো রঙই বটে, তবে কি যে ডাগর চোখ বলার নয়! এত বড় চোখ আগে কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ে না। দুই চুলে সস্তা লাল ফিতার বিনুনী। সালোয়ার-কামিজই পরা তবে কাণের কাছে মস্ত বড় একটি ঝুমকা জবা গোঁজা। দুম করে সহসা মনে পড়ে গেল ছোটবেলায় বড় আপার মুখে ওর আবৃত্তি ক্লাসের রিহার্সাল হিসেবে শোনা একটি কবিতার কয়েকটি লাইন। কবিতার নায়ক ট্রামে কমলা নামে এক সুশ্রী মেয়েকে দেখে প্রেমে পড়ে। তক্কে তক্কে থাকে। যদিও কমলা বিশেষ পাত্তা দেয় না তাকে। কমলার পরিবার সাঁওতাল পরগণায় গরমের ছুটি কাটাতে গেছে শুনে আমি সর্বনামের ফুটবল খেলোয়াড় দীর্ঘদেহী নায়কও গেল। দার্জিলিংয়ে অবশ্য এক ভক্ত বন্ধুর রোগা-পটকা,পড়–য়া বোণ একটি ‘ক্যামেলিয়া’ গাছের চারা দিয়েছে নায়ককে। নায়ক সে দান পুরো বুঝে উঠতে পারেনি যেমন কমলাও হয়তো তাকে বুঝে বা না বুঝে অন্য এক যুবকের পাশে বসে আনপনে শ্বেতজবার পাঁপড়ি ছিঁড়ছে (এখানে আমাদের নারীবাদী বান্ধবী ইভানা শুনলে বলতো, কেন— একটি মেয়ে কোন ছেলের পাশে বসে একদিন ফুলের পাঁপড়ি ছিঁড়লেই তাহারা প্রেমিক-প্রেমিকা বা ভবিষ্য দম্পতি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়? রবীন্দ্রনাথও দেখি তোদের মতই। ছেলেটা ওদের বহুদিনের পারিবারিক বন্ধু হতে পারে এমনকি কাজিনও হতে পারে। এই যে তোরা ছেলেরা একটা মেয়েকে কোন ছেলের সাথে কথা বলতে দেখলেই বিছানা পর্যন্ত কল্পনা করে ফেলিস— কিভাবে পারিস তোরা? সবই দেখি সুরঞ্জনা-যেও নাকো ঐখানে সিনড্রোম- বাবা, ইভানা পারেও! আমি ওকে ভয় পাই)। তা’ কবিতার নায়কের দশা হলো আমার মতই।

মুহুর্তে বুঝলেম এই সাঁওতাল পরগনার নির্জন কোণে
    আমি অসহ্য অতিরিক্ত, ধরবে না কোথাও।
তখনি চলে যেতেম, কিন্ত বাকি আছে একটি কাজ।
আর দিনকয়েকেই ক্যামেলিয়া ফুটবে,
পাঠিয়ে দিয়ে তবে ছুটি।
সমস্ত দিন বন্দুক ঘাড়ে শিকারে ফিরি বনে জঙ্গলে,
সন্ধ্যার আগে ফিরে এসে টবে দিই জল
   আর দেখি কুঁড়ি এগোল কত দূর।
 সময় হয়েছে আজ।
   যে আনে আমার রান্নার কাঠ
     ডেকেছি সেই সাঁওতাল মেয়েটিকে
      তার হাত দিয়ে পাঠাব
           শালপাতার পাত্রে।
তাঁবুর মধ্যে বসে তখন পড়ছি ডিটেকটিভ গল্প।
   বাইরে থেকে মিষ্টি সুরে আওয়াজ এল, ‘বাবু, ডেকেছিস কেনে।
                 বেরিয়ে এসে দেখি ক্যামেলিয়া
                  সাঁওতাল মেয়ের কানে,
                          কালো গালের উপর আলো করেছে।
সে আবার জিগেস করলে, ‘ডেকেছিস কেনে।
       আমি বললেম, ‘এইজন্যেই।’
               তার পরে ফিরে এলেম কলকাতায়।’

‘ইটি আমার বিটিয়া। সুখমণি কিস্কু। কিলাস নাইনে পড়া-লিখা করছ্যে।’
উফৃট্রাউজারের পকেটে মোবাইলটা বিপ্ বিপ্ করছে।

‘ভাইয়া? আম্মা আজ সকালবেলা স্কুলে যাবার সময় এ্যাকসিডেন্ট করছে। ’ জুয়েল কাঁদছে,‘তুমি এ্যাজ আর্লি এ্যাজ পসিবল ঢাকায় চলে আসো।’

হাত-মুখ ধোওয়া, নাশতা খাওয়া সব মাথায় উঠলো! আশরাফকে সব বলে তখনি ছুটতে হলো।
‘যাও যাও— টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত! রবীন্দ্রনাথের মতই আদিবাসী জীবন তোমার দু’দন্ডের চোখ ভোলানো।’

‘তুই থাক— আমি ভাগলাম। আমি এসকেপিস্ট মিডল ক্লাস। তুই পল গগ্যাঁ হ।’

৪.

‘করিম,

কি খবর? ঢাকায় কোন কাজ পেলি? রিজিয়া তবে বিয়েটা করেই ফেলেছে, না? তুই চলে যাবার পর পাঁচ দিন থেকে গাইবান্ধা শহরের রেস্ট হাউজটা ছেড়ে দিলাম। একা দশদিন দৈনিক এক হাজার করে টাকা গোণার মত অত টাকা কই? দু’জন মিলে না হয় কয়েকদিন থাকতাম।

তবে এখন আরো ভাল হয়েছে। আমি জয়পুর গ্রামেই চলে এসেছি। এখানে স্কুলের পাশে একটা টিনশেড ঘরে থাকি। পাশে টিউবওয়েল আছে। হংস বদন কিস্কুর বউ আর মেয়ে এসে রান্না করে দিয়ে যায়…নাহ্, ভয় পাস না…এখনো কোন নাবালিকা মেয়েকে ‘ভাহিন’ করিনি। তবে,   হ্যাঁ…ভাল টয়লেট নেই, নাগরিক কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। তবে, আমরা যদি একবার ভাবি যে কিভাবে পল গগ্যাঁ পাশ্চাত্য জীবন, প্যারিস শহর ত্যাগ করে প্রথমে গেলেন তাহিতি দ্বীপের রাজধানী পাপিতি-তে… সেখানে ইতোমধ্যে পাশ্চাত্য জীবনধারা শুরু হয়ে গেছে… তখন গেলেন তাহিতিতে। একটা কাঠের কুঁড়েঘরে থাকা শুরু করলেন। অবশ্য পাপিতিতে তাঁর টাকা-কড়ির টানাটানিও ছিল। পাপিতিতে থাকতে ত’ খরচও ছিল বেশি। এই আমি যেমন গাইবান্ধা ছেড়ে দিলাম!

তুই থাকলি না। কি হতো আমরা দুই বন্ধু কিছুদিন একসাথে না থাকলে? অবশ্য না থেকে ভালই হয়েছে। হয়তো গগ্যাঁ আর গঘের মতোই মারামারি হতো আমাদের। আমার মোবাইলে তোলা গত এক মাসের আঁকা কিছু ছবি পাঠালাম।’

…ফেসবুকে আশরাফের দীর্ঘ মেসেজের সাথে কিছু ছবি। সত্যি অন্য রকম রেখা আর রঙের একটা বুনোট মিলছে ওর ছবিতে। সার সার আখ গাছের ছবি। সাঁওতাল নর-নারী-শিশু-বৃদ্ধদের ছবি -নাহ্- আশরাফকে কুর্র্ণিশ করতেই হয়। ছবির জন্য শহর ছেড়ে দূরে গিয়ে থাকা, কাজ করা! তবে…আবার ভাবি…আমার জীবনের যুদ্ধটাই কি কম? পার্ট টাইম কিছু কাজ করছি। তবে তাতে চলে না। মাঝে মাঝেই ছোটভাই জুয়েলের গাছে হাত পাততে হয়। শীত আসছে। বাসার এক চিলতে বারান্দায় দু/তিনটা টবে গাঁদা ফুটে আছে। আম্মার একমাত্র শখ।

‘আশরাফ,

 আমার চলছে একরকম। এখনো কোথাও ফুল টাইম জয়েন করিনি। সংসার জুয়েলই দেখছে- ছোট ভাই হয়েও। গত কয়েকদিন মেরিগোল্ড সিরিজের কিছু ছবি আঁকলাম। তোকে দিলাম এখানে।’

এরপর কয়েকদিন ফেসবুকে চুপচাপ থাকে আশরাফ। কোন পোস্টও দেয় না, কিছু বলেও না। আবার একদিন মেসেজ আসে,

‘কেমন চলছে সন্ত? তোর আইডল ত’ ভ্যান গঘ দ্য ইনোসেন্ট সেইন্ট আর আমার আইকন পল গগ্যাঁ দ্য ডেভিল। গগ্যাঁ নিজেই নিজেকে রঙ চড়িয়ে মনস্টার বানিয়েছে নিজের নানা লেখায়। অথচ, সে কিন্ত তাহিতি দ্বীপের অন্য সাদা ঔপনিবেশিকদের পথে হাঁটেনি। আঠারোর নিচে একাধিক শিশুকে বউ বা ‘ভাহিন’ করেছে ঠিকই মাঝবয়সী গগ্যাঁ— তেহাম্মানা, আন্নাহ। কিন্ত তাঁর গোটা লড়াইটা ভাবলে আর ঘেন্না আসবে না। ইউরোপে বউয়ের কাছে ফেরার চেষ্টা কি করে নাই লোকটা? ১৮৯৫-এ ফিরলো একবার, ছবি বিক্রি হয় না। বউ ক্ষুব্ধ। টাকা-পয়সা নিয়ে ঝগড়া লাগে। আবার তাহিতি দ্বীপে ফিরবে সেই পয়সাও নাই। বন্ধুরা কোনমতে জাহাজে একটা সস্তার টিকিট দিলো। তারপর আর ছয় বছর বাড়ির মুখ দেখতে পারে নাই। দেশে ফিরে পাইছিলেন শুধু সমালোচকদের তিক্ত বিদ্রুপ। আমি যেমন গত মাসে ঢাকা গিয়া দেখি অবস্থা আরো খারাপ। ত’ তাহিতিতে ফিরা পুনাউইয়াতে একটা খড়ের বাড়ি বানাইলো গগ্যাঁ। জড়ায় গেলো স্থানীয় রাজনীতিতে। যে পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করলো, সেখানে ফরাসী সরকারের অনেক সমালোচনা শুরু করলো। শরীর ত’ খারাপ হতে থাকলোই…একটু খাড়া। ‘বাগদা ফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার কমিটি’-র লোকরা আসছে। আমার ‘বাহা’ সিরিজের তিনটা ছবির সফট কপি তোকে আপলোড করলাম। ‘বাহা’ মানে বসন্ত।’

স্ক্রিনে খোঁপায় রক্তগাঁদা গোঁজা দু’টো সাঁওতালী মেয়ের ছবি ভেসে উঠলো।
‘হুম…এটা ত’ গগ্যাঁর নেভ নেভ মো – পবিত্র বসন্ত, মিষ্টি স্বপ্ন’ ছবি দিয়া প্রভাবিত তুই!’
উত্তর নেই।
‘কই গেলি?’

‘শোন্— এখানে সরকারের একটা চিনি কল সাঁওতালদের অনেক জমি বহু বছর আগে অধিগ্রহণ করছিল। সেই আখকলটাও এখন বন্ধ। সাঁওতালরা জমি ফেরত চাচ্ছে। পাচ্ছে না। পরিস্থিতি একটু গরম। আমি এদের সাথে আন্দোলনে আছি। অবশ্য সাঁওতালদের পাশাপাশি বাঙ্গালী…মুসলিম বাঙ্গালীও অনেকের জমিই বেহাত। চাষীদের আন্দোলন আর কি। এই আন্দোলনের নেতারাই আসছে। গেলাম।’

‘তোর লিভারের ব্যথাটা কেমন? হাড়িয়া খুব বেশি টানিস না।’
‘হাড়িয়া, কেরু…সব চলে! মরলে মরবো। এখন যাই বেটা।’
‘ওকে- আয়!’

৫.

ফুল টাইম জব কোথাও মিলছে না। অথচ, আমার চারুকলা থেকে ভালই রেজাল্ট। ইংরেজি পারি। তুলনামূলক অনেকের থেকেই ভাল পারি। তবু, ফুলটাইম কাজ কই? সকালবেলা ঘুম ভেঙ্গেই দেখি পত্রিকায় তিন কলাম হেডলাইন:

রংপুরে চিনি কলের জমি নিয়ে সঙ্ঘর্ষ: নিহত সাঁওতাল, ১০০০ পরিবার পলাতক।’ 

হেডিং দেখেই মাথা ঘুরে যায়। আশরাফ না ওখানেই থাকে? ক’দিন ধরেই ‘চিনিকল— চিনি কলের জমি— ভূমি পুনরুদ্ধার কমিটি’ এসব লিখতো মেসেজে। ফোনে ফোন দিই। রিং হলো তবে কেউ ধরলো না। আশরাফ কি সত্যি আমাদের থেকে অনেক বড় কিছু করছে? যদিও আমার মনে হতো এসবই আশরাফের রোমান্টিসিজম— এ্যাডভেঞ্চারিজম। ছবি আঁকার জন্য অত দূরে কেন যেতে হবে? সামনের বাড়ির প্রতিবেশী মেয়েটি বা তার ছাদের বাগানের বাগানবিলাসও ত’ ছবির বিষয় হতে পারে। তবে আজ মনে হচ্ছে আশরাফই যেন সঠিক।

… ইন্টারনেটের টাকা শেষ। জুয়েল অবশ্য এই সকাল নয়টার ভেতরেই শাওয়ার নিয়ে, ব্রিফকেস হাতে বের হচ্ছে। খানিকটা ইত:স্তত করেই বলি, ‘ইন্টারনেটের কার্ডটা শেষ হয়ে গেছে মনে হয়।’

‘সমস্যা নেই, ভাইয়া। আমি অফিস যাবার পথে তোমাকে রিচার্জ করে দেব।’
তাই করেও জুয়েল। ফেসবুকে লগ-ইন করি।
‘আশরাফ— আছিস?’
‘হুম।’
‘কি অবস্থা ওখানে?’

‘শোন্— আপাতত: মর্গে আছি। ‘ভূমি রক্ষা কমিটি-র এক মাঝবয়সী সদস্যকে খুন করা হয়েছে। তাকে দাহ করতে তার ফ্যামিলির মানুষজন সাথে করে এসেছি বডি আইডেন্টিফাই করতে।’

‘বলিস কি?’
‘কথা বলা যাচ্ছে না এখানে। তবে ফোনে নেট দেখতে পারছি।’
‘আশরাফ— ছবি আঁকতে গিয়ে কত বড় ঝামেলায় পড়ে গেলি?’

কোন রিপ্লাই আসে না। মেসেজ আনসীন। খুব অস্থির লাগে। পত্রিকা জুড়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আখ চাষের জমিতে দাউ দাউ আগুন জ্বলার দৃশ্য। এক সাঁওতালের মৃতদেহ ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছে ৩০ জন। সাঁওতালদের ধান-পাট,  গবাদিপশু লুট করা হয়েছে। অবাস্তব স্যুররিয়ালিস্টিক সব ইমেজ পত্রিকার পাতায় ছড়নো যেমনটা রোজ থাকে। আশরাফকে আবার ফোন করার চেষ্টা করি। ও ধরে না। তবে ঘণ্টা খানেক পরে তার একটি ছোট্ট কবিতা ফেসবুকের সাদা-নীল পর্দায় মনিটরে ভেসে ওঠে,

মায়েস্ত্রো পল গগ্যাঁ,
 তোমার মতই শহুরে জীবন ছেড়ে এসেছি দূর লোকালয়ে,
ভেবেছি আঁকব যত নীল নির্জন আদিবাসী ঘর,
খড় বাঁশের ঘরে বসে তুলিতে ফুটিয়ে তুলব
সাঁওতাল কিশোরীর শ্যাম দেহরেখা।
কোথায় শ্যাম দেহ আর সবুজ মৃত্তিকা?
সার সার আখ ক্ষেতে বারুদ সন্ত্রাস,
হড় কৃষকের রক্তভেজা দেহ
আর আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতবাড়ি
গোবিন্দগঞ্জ নয় কোন নীল, নির্জন দারুচিনি দ্বীপ!
গোবিন্দগঞ্জ নয় আমার তাহিতি পাপিতি।’

Comments

comments

অদিতি ফাল্গুনী

অদিতি ফাল্গুনী

জন্ম: ১৮ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে সম্মানসহ ¯œাতকোত্তর। কাজ করেছেন ও করছেন একাধিক সংবাদপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায়। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০ (প্রবন্ধ-গবেষণা-গল্প-কবিতা-অনুবাদ সহ)। পুরষ্কার সংখ্যা: ৩। email : audity.falguni@gmail.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি