সাম্প্রতিক

অনিক-উজ্জামান বাপ্পি

সুপার ম্যান এবং ক্রিস্টোফার নোলান

564524_466074303505074_2075108282_n

না… আমি এখানে ম্যান অফ স্টিল এর রিভিউ লিখতে আসিনি, বরং অন্য কিছু বলতে এসেছি। ম্যান অফ স্টিল দেখার সুযোগ এখনো আমার হয় নাই। আমি শুধু টেইলর গুলো দেখেছি। তাই, এ মুভি নিয়ে কেউ কোন রিভিউ লিখলে আমি সেটা মনোযোগ দিয়ে পড়ি। এ পর্যন্ত আমি যত লেখা পড়েছি সেখানে এক্টা কমন অভিযোগ ছিল যে এ মুভির ভয়াবহ অ্যাকশন কারো কাছেই ভালো লাগেনি। এবং অনেকেই ব্যাট ম্যান এর বাস্তব-ধর্মী গল্পের সাথে তুলনা করে এ মুভি টা হজম করতে পারেনি। নোলানের কাছে তারা এটা আশা করেনি। ইত্যাদি… ইত্যাদি…

এখন আমি এ বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই। আপনারা সবাই বোঝেন না কেন ? নোলান তার লাইফ এ সব বাস্তব-ধর্মী মুভি বানিয়েছে, এমন কি ব্যাট ম্যান এর মত সুপার হিরো কেও বাস্তব বাদী বানিয়ে দিয়েছে। এবার হয়তো সে চেয়েছিলো যে লাইফ এ এতো দিন সে যা বানায় নাই, এবার সেটাই সে বানাবে… এক্টা চরম সুপার অ্যাক্শন মুভি আর সেটা সুপার ম্যান ছাড়া বানানো সম্ভব হত না। এর আগে সুপার ম্যান কে এমন ভয়াবহ রূপে দেখেছেন কখনো ? ক্লাসিক সুপার ম্যান & সুপার ম্যান রিটার্ন্স দেখে তো আমার দুঃখে কান্তে ইচ্ছা করছিলো। সুপার ম্যান এর সুপার পাওয়ারের পুরাই ইজ্জত ডুবাইছে। আর ভিলেন হিসেবে দেখাইছে এক টাক্লা রে যে কিনা এক পাথর দেখাইলেই সুপার ম্যান এর আন্ডার-ওয়ার ভিজে যায়, সেই আন্ডার-ওয়ার আবার প্যান্ট এর উপর পরা !!! সেই দিক থেকে নোলান সুপার ম্যান কে ভেঙ্গে চুরে নতুন রূপে উপস্থাপন করেছে এবং সে এই প্রথম সুপার ম্যান এর অরিজিনাল পাওয়ার দেখিয়েছে। এবার আম্রা দেখেছি যে সুপার ম্যান ইচ্ছা করলে পুরা শহর ভাইঙ্গা তামা বানায় দিতে পারে। আপনারা এইটা কেনো দেখেন না যে এইবার ভিলেন হল কোন পাথর-ওয়ালা টাক্লা না বরং জেনারেল জড, যে হল সুপার ম্যান এর থেকেও শক্তিধর। তো… এই খানে কি আপনারা ব্যাট ম্যান & ব্যান টাইপ অ্যাক্শন আশা করেছিলেন ? তাইলে যান মুড়ি খান গিয়া। আমি যখন সুপার ম্যান ২ তে জেনারেল জড এর সাথে সুপার ম্যান এর অ্যাক্শন দেখেছিলাম তখন খুব হতাশ হয়েছিলাম। ভেবে ছিলাম এই অ্যাক্শন যদি আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে দেখানো হত তা হলে কতই না ভালো হত। আমি এখন নোলান কে হাজার টা ধন্যবাদ জানাই, আমার স্বপ্ন কে সত্যি করার জন্য। আমি বুঝি না আপনারা সবাই সব সময় ব্যাট ম্যান এর গল্পের সাথে সুপার ম্যান এর তুলনা করেন কেন ? ব্যাট ম্যান পুরাই জল-জ্যান্ত মানুষের গল্প আর সুপার ম্যান হল এলিয়েন এর গল্প। এই খানে যদি আপনারা চরম অ্যাক্শন আশা না করেন তাইলে যান সারা জীবন খালি ব্যাট ম্যান দেখে কাটায় দেন। নোলান মানে কি শুধুই প্রেজটিজ, ইনসেপ্শন আর ব্যাট ম্যান এর মত রহস্য-ময়, ভাব-গম্ভীর, ক্রিটিক্যাল আর বাস্তব-ধর্মী মুভি ? না… নোলান মানে আরো অনেক কিছু। নোলান মানে এখন সুপার ম্যান এর সুপার পাওয়ার এবং ধংসাত্তক রূপ। আপনার এইটা ভাবেন না কেন যে সব সুপার হিরোর গল্প যদি ব্যাট ম্যান এর লেবেলে চলে আসে, তা হলে ব্যাট ম্যান কে আলাদা ভাবে কেউ মনে রাখবে ? ব্যাট ম্যান এর রেপুটেশনের তো পুরাই ১২ টা বেজে যাবে। আর এই সব বিষয় আমার আপনার থেকে নোলান স্যারের মাথায় খুব ভালো মতই আছে। মনে রাখবেন সে বাংলাদেশের মেকার দের মত ঘাস খেয়ে মুভি বানায় না। সব ধরণের ভ্যারিয়েশনের ই দরকার আছে। আর এক্টা কথা… এ পর্যন্ত অন্য মেকার রা যা করে দেখাতে পারে নাই, এক মাত্র নোলান ই তাই করে দেখিয়েছে। ব্যাট ম্যান এবং সুপার ম্যান এর অরিজিনাল পাওয়ার ফুটে উঠেছে এক মাত্র নোলানের হাতেই। এবং অবশ্যই জ্যাক স্পাইডার কে ধন্যবাদ। তার জাদুময় পরিচালনা ছাড়া সুপার ম্যান এর এমন সুপার ও ধংসাত্তক লুক আম্রা দেখতে পেতাম না।…

#  #  #

শুদ্ধ দেশী রোমান্স (২০১৩)

1382429_458286064283898_1310047746_n

অনেকের কাছে পুরাই ফাল্তু লেগেছে আবার কারো কারো কাছে ভালো লেগেছে। তবে, যার যাই লাগুক না কেন, আমি অন্তত এমন চমৎকার মুভি এর আগে দেখি নাই। আমি পুরাই ইম-প্রেস্ড ! সবাই বলবেন যে, এতে কোন গল্প নাই বা ফাউল গল্প, কিন্তু বিলিভ করুন, আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত হুবহু এটাই হচ্ছে যা এই মুভি তে দেখানো হয়েছে। অল্প বয়সের টি-নেজার ছেলে মেয়েরা প্রেম করে, ছ্যাঁক খায়, আবার প্রেম করে, ছ্যাঁক দেয়। তারা জানেই না এবং বুঝতেই পারে না, এক্টা সম্পর্কের মানে কি, গুরুত্ব কতোখানি। আর যখন বিয়ের মতো এক্টা বিশাল সত্য সামনে এসে দাড়ায়, তখন তারা সিদ্ধান্ত হীনতায় ভোগে, লাভ ম্যারেজ নাকি এরেন্জ্ড ম্যারেজ ? বউ নাকি প্রেমিকা ? আরো কতো কিছু ! সেই পুরনো যুগের প্রেম ভালবাসার দেখা এখন সার্চ লাইট জালায় খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। এই সব বাস্তব সত্য এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে। তাই, আমি পার্সোনালই এর গল্প কে ১০ এ ৮ দিব।
এবার বলি হিরো-হিরোইন দের কথা। প্রথমেই রিশি কাপুর, সে তার অসাধারণ অভিনয় দিয়ে প্রধান ৩ টা চরিত্রের মাঝে খুব সুন্দর ও সফল কম্বিনেশন তৈরি করেছে। সে না হলে পুরা মুভিটা একেবারে মাঠে মারা যেত। আর এ বছর সেরা নতুন নায়কের এওয়ার্ডের জন্য নিশ্চিত ধানুশ এবং সুশান্ত সিং রাজপুত (কাই পোঁছে ও শুদ্ধ দেশী রোমান্স) এর সাথে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে। এমন কি সুশান্ত সব এওয়ার্ড নিয়ে গেলেও অবাক হবো না। তবে এক্টা কথা নিশ্চিত যে, সুশান্তের হাতে যে মুভি গুলো আছে (আমীর খান এর সাথে ‘পিকে’, ক্যাটরিনা এর সাথে ‘ ফিতুর ‘, যশ রাজ ও দিবাকর ব্যানার্জী এর ‘ডিটেক্টিভ ব্যোমকেশ বক্সী’, আশুতোষ গোয়ারিকর এর মুভি এবং ‘পানি’) সেগুলো দেখলেই বোঝা যায়, ভবিষ্যতে রনবীর, ইমরান দের কপালে দুঃখ আছে। নতুন নায়িকা বানী কাপুর কে খুব ভালো লেগেছে। সে অভিনয় ও খুব সুন্দর করেছে। যশ রাজ ফিল্মস এর সাথে তার ৩ টা মুভি কন্ট্রাক্ট হয়েছে, তাই যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে ভবিষ্যতে সে খুব ভালো এক্টা অবস্থানে চলে যাবে। আর ‘পরিণীতা চোপ্ড়া’… !!! সেই ‘ইশাক্জাদে’ এর পর এই মুভি দেখে আমি আবার তার প্রেমে পড়্লাম। আমারে কেউ মাইরালা…
এই মুভি রিলিজের আগে গুজব হইছিল যে এই মুভি তে নাকি ৩৭ টা কিস আছে ! কিন্তু, আমি তো পুরা মুভি তে মাত্র ৭ টা কিস খুঁজে পেলাম, তাইলে বাকি ৩০ টা গেল কোই ? মুভির বাথ-রুম ও কোল্ড ড্রিন্ক্স জোক গুলো খুব উপভোগ করেছি। চরম সিচুয়েশনে বাথ-রুম ও কোল্ড ড্রিন্ক্স যে কতটা কাজে দেয়, সেটা এই মুভি না দেখলে জ্যান্তেই পারতাম না ! মুভির গান ও মিউজিক এক কথায় অসাধারণ। বিশেষ করে ‘গোলাবী’ গান টা শুনেত আমার পুরাই মাথা নষ্ট। মোট কথা, শুদ্ধ দেশী রোমান্স এখন আমার অন্যতম প্রিয় এক্টা মুভি। এর থিম আমাকে এতটাই নাড়া দিয়েছে যে, আমি এখন নিজেই কন-ফিউস্ড হয়ে গেছি যে লাইফে বিয়ে কর্বো কি না, কারণ আমার অবস্থাও যে এই মুভির হিরো সুশান্তের মতই। মনে হয় ভবিষ্যতে বিয়ের আসর থেকে পালানো ছাড়া উপায় নাই, আর তখন পালানোর জন্য বাথ-রুম খুব কাজে দেবে ! থ্যাংকস শুদ্ধ দেশী রোমান্স, যশ রাজ ফিল্মস, ‘মনিষ শর্মা’ (ডাইরেক্টর) এবং ‘জয়্দীপ সাহানি’ (রাইটার) পার্সোনালই। অবশেষে, যারা মুভিটা দেখেন নাই, জাস্ট এন্টার-টেইন্মেন্ট হিসেবে দেখে ফেলুন। খারাপ লাগ্বে না। তবে পার্সোনালই নিতে যাবেন না, তাইলে আমার মত বিপদে পড়বেন, আর তখন কিন্তু কোল্ড ড্রিন্ক্স ও বাথ-রুম ছাড়া উপায় থাকবে না !

Bappi Anik copy

লেখকেন অন্য লেখার লিঙ্কঃ-  http://rashprint.wordpress.com/2014/01/30/%E0%A6%9C%E0%A7%9F-%E0%A6%B9%E0%A7%8B-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A7%E0%A7%AA-%E0%A6%9C%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%9F-%E0%A6%85/

মোঃ অনিকউজ্জামান

শিক্ষার্থী ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে আইন নিয়ে পড়ছেন, জন্ম ১৪ মার্চ ১৯৯১ । aneecque@gmail.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি