সাম্প্রতিক

অনিক-উজ্জামান বাপ্পি

“দা বর্ন লিগ্যাসি”  (২০১২)

971523_480594902053014_351902635_n

“জেমস বন্ড” সিরিজের পর এই “জেসন বর্ন” আমার কাছে অনেক প্রিয় একটা সিরিজ। রকেটের স্পিডের থেকেও দ্রুত গতির গল্প, টান টান উত্তেজনা, দুঃসাহসীক অ্যাকশন স্ট্যান্ট সব মিলিয়ে যখন বর্ন মুভি দেখতে বসি তখন মনে হয় আমি নিজেই “জেসন বর্ন”।

দুনিয়ার কোন দিকেই তখন আর মন থাকে না। এর জন্য অনেকটা ক্রেডিট “ম্যাট ডেমন” এবং ডিরেক্টর “পল গ্রিনগ্রাস” এর। “ম্যাট ডেমন” যেভাবে “জেসন বর্ন” কে ফুটিয়ে তুলেছে যে তাকে ছাড়া আর কাউকেই এই চরিত্রে কল্পনাও করা যায় না। আমার মনে হয় সে যদি “জেমস বন্ড” চরিত্রটাও করতো তবে সিরিজের সব থেকে সেরা বন্ড হতে পারতো। বন্ড হবার সব যোগ্যতাও তার আছে। আর “পল গ্রিনগ্রাস” যেভাবে প্রতিটি বর্ন মুভি বানিয়েছে যে একটা সিন মিস দিলেই আবার শুরু থেকে দেখার জন্য বসতে হবে। এক সেকেন্ডের জন্য মনে হবে না যে এই সিনটা বোরিং। পুরা মুভি যদি বকবক দিয়ে ভরা থাকে তবুও যে টান টান উত্তেজনা পাওয়া যাবে তা কোন হাই অ্যাকশন মুভি দেখেও পাওয়া যাবে না। এখন আমরা যে “ডেনিয়েল ক্রেগ” এর বন্ড মুভি দেখি তা অনেকটাই এই বর্ন সিরিজ থেকে অনুপ্রানিত হয়ে বানানো। বিশেষ করে অ্যাকশন গুলো। কারন এই বর্ন সিরিজের অ্যাকশন ডিরেক্টর “ড্যান ব্র্যাডলি” এখন কাজ করে বন্ড মুভিতে (“ক্যাসিনো রয়্যাল”, “কোয়ান্টাম অফ সোলেস”, “স্কাইফল”)।

তাই কেউ মানুক বা না মানুক “জেসন বর্ন” কে আমি সব সময় “জেমস বন্ড” এর উপর রাখবো।

“বর্ন আল্টিমেটাম” দেখার পর অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে ছিলাম পরের পর্ব “বর্ন লিগ্যাসি” এর জন্য। কিন্তু যখন শুনলাম যে “ম্যাট” এবং “পল” দুজনেই এ পর্ব থেকে সরে গেছে, তখন চরম হতাশ হয়ে ছিলাম। পরে শুনলাম “ম্যাট” এর বদলে নেয়া হয়েছে “জেরেমি রেনার” কে। তখনো “জেরেমি” কে চিনতাম না। পরে যখন “হার্ট লকার”, “এম আই ফোর” এবং “অ্যাভেঞ্জারস” দেখলাম ততদিনে আমি তার রিতিমত ফ্যান হয়ে গেছি। তার চেহারা, এক্সপ্রেশন পুরাই অসাম।আমার মতে সে বন্ড চরিত্রের জন্যও পারফেক্ট হবে। আমি ভেবেছিলাম বন্ড মুভির মত এখানেও নায়ক চেঞ্জ হয়ে গেছে, মানে এখন থেকে “জেরেমি” করবে “বর্ন” এর চরিত্র। শুরুতে খুশি হলেও পরে যখন জানলাম যে এটা পুরাই অন্য গল্প নিয়ে বানানো। তখন আবার হতাশ হলাম। সব মিলিয়ে “বর্ন লিগ্যাসি” পুরাই হতাশায় পরিপুর্ণ। কাল মুভি্টা দেখলাম। এর গল্প এক আউটকাম এজেন্ট “অ্যারন ক্রস” এর সারভাইবল অ্যাডভেঞ্জার নিয়ে, যা ঘটেছিল “বর্ন আল্টিমেটাম” এর সময়ে। আমার কাছে গল্প মোটেও শক্তিশালী লাগেনি, বরং এটা বর্ন সিরিজের সব থেকে দুর্বল মুভি। এত সস্তা গল্পকে কখনই বর্ন সিরিজে আশা করা যায় না এবং এ মুভিকে একটি একক মুভি হিসেবে মেনে নেয়া যায় কিন্তু বর্ন সিকুয়াল হিসেবে মেনে নেয়া যায় না। গল্পে মো্টেও সাস্পেন্স ছিল না। আমার চরম বোরিং লেগেছে। “এডোয়ার্ড নরটন” বেশ ভাল অভিনয় করলেও তার চরিত্রটাকে খুব ভাল মত প্রকাশ করা হয় নাই। “র‍্যাচেল ওয়েজ” কে খুব ভাল লেগেছে। সে আমার বেশ প্রিয় একজন অভিনেত্রী। আমার আফসোস এর আগের পর্বগুলোতে যদি সে থাকতো। “জেরেমি রেনার” নতুন হিসেবে খুব ভাল করেছে। শুধু মাত্র “জেরেমি”র সিন গুলোই এঞ্জয় করেছি, বাকি অংশ দেখে ঘুম আসছে। বকবক সিন গুলোতে যে কি হচ্ছিলো তার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝি নাই। এ মুভির একমাত্র পজিটিভ দিক হল “জেরেমি রেনার” এবং হাতে গোনা কিছু দুর্দান্ত অ্যাকশন সিন (বিশেষ করে শেষ বাইক অ্যাকশন সিন)।

তবে একটা বিষয় খুব বিরক্তিকর লেগেছে যে সব গুলো বর্ন মুভি একই স্টোরি ফরম্যাটে বানানো। নায়ক মোস্ট ওয়ান্টেড হয়ে যাবে, হটাৎ করে নায়িকার সাথে দেখা হবে এবং নায়িকা নায়কের হেল্প করতে গিয়ে নিজেই মোস্ট ওয়ান্টেড হয়ে যাবে, দুজনে মিলে পালিয়ে বেড়াবে এবং শেষে নায়ক ও নায়িকাকে মারার জন্য এক কিলারকে পাঠানো হবে। এই একই গল্প “আইডেন্টিটি” ও “আল্টিমেটাম” এ আছে। একমাত্র “সুপ্রিমেছি” ব্যতিক্রম। আবার “লিগ্যাসি”তেও এই একই গল্পের পুনরাবৃত্তি দেখলাম। যেহেতু “লিগ্যাসি” সম্পুর্ণ নতুন গল্প নিয়ে বানানো, তাই মেকারদের উচিত ছিল একটু মৌ্লিকতা দেখানো। এখানেও আমি হতাশ। অবশেষে, মুভির শেষ সিনে বর্ন সিরিজের থিম সংটা শুনে একটু নস্টালজিক হয়ে গেলাম। শুধু এক্টাই আফসোস, এ মুভিতে “ম্যাট” নেই এটা খুব একটা প্রবলেম না, “জেরেমি”কে দিয়ে চলবে কিন্তু মুভিটা যদি “পল গ্রিনগ্রাস” ডিরেক্ট করতো তবে এমন বোরিং লাগতো না।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত “বর্ন ৫” আসছে। “জেরেমি রেনার” তার “অ্যারন ক্রস” চরিত্র নিয়েই ফিরে আসবে এবং এই মুভি ডিরেক্ট করবে “ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস” সিরিজ খ্যাত “জাস্টিন লিন”।

এখন দেখা যাক, পরবর্তী মুভিতে কতটুকু প্রত্যাশা পুরণ হয় আর কতটুকু আশা ভঙ্গ হয়…

Bappi Anik copy

লেখকেন অন্য লেখার লিঙ্কঃ-  http://rashprint.wordpress.com/2014/01/30/%E0%A6%9C%E0%A7%9F-%E0%A6%B9%E0%A7%8B-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A7%E0%A7%AA-%E0%A6%9C%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%9F-%E0%A6%85/

মোঃ অনিকউজ্জামান

শিক্ষার্থী ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে আইন নিয়ে পড়ছেন, জন্ম ১৪ মার্চ ১৯৯১ । aneecque@gmail.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি