সাম্প্রতিক

ছাতিম ফুলের জন্মদিন ও জীর্ণ ঘুড়ি । হাসান মসফিক

ছাতিম ফুলের জন্মদিনে

একাত্তর বর্গমাইলময় এ’নগরে
.                                ছড়িয়ে গিয়েছি;
.                                    ছিটিয়ে
.                                            গুটিয়ে গিয়েছ
.                                 বলে—

অনেকগুলো না-দেখা থেকে অনেকদূরে জন্ম নিচ্ছে নরম ভোর, পোয়াতি-যবগাছের ফাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে দৃষ্টিবান সব ফুলের রেণু

মিনার

কাকে রেখেছ মনে? আর, কাকে গিয়েছ ভুলে! টলটলে, ঘনায়মান এই কালোর দিকে চেয়ে থেকে আবারো আজ , একবার কাকেই বা স্মরণ করলে!

তাদের;
শুধু দৈর্ঘ্য আর প্রস্থে যারা মাপতে চেয়েছে মিনারের তরজমা

অমরাবতীর তীর

অমরাবতীর তীরে আমার কখনো যাওয়া হয়নি। সেখানে বড় কোন গাছের ছায়ায় বসে তিন দানাওয়ালা বাদাম খাওয়া হয়নি; হয়নি আশে পাশে অহেতুক খোসা ছড়িয়ে দেওয়াও। এমন একটি বাসনা অনেকদিন আঙ্গুলের পাকে গুণে গুণে সময় কাটিয়েছি।

এখন সময়ও ঠিক কাছের মনে হয়না। ছোট ছোট মনোবাসনা যেন আরও দূরের। এমন একটি মেঘকালো লগ্নের কথাই জোড়া-তালি দেওয়া ঝোলা-পাগল চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলেছিল। এখন চোখের নিচেই কত কত তীর জেগেছে!

সে অনেক আগের কথা! এখন কারো কারো কথায় কলকল করে অবিকল নদীর জল বয়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়! জানিনা তাদের ভেতরে কত কত নদী জমে গেছে!

না যাওয়া হোক- ওই বাসনার বাগানে কোনো কোনোদিন ঠিক নদীচাষ তো করা যাবে!

জীর্ণ ঘুড়ি

সমস্ত লক্ষ্যই আজ দূরবর্তী মনে হচ্ছে। ভেবেছিলাম চাইলেই ভিড়িয়ে নেওয়া যাবে। জিরিয়ে নিতে নিতে সমস্ত ক্লান্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর মন্ত্রভর্তি খাতা ফেলে এসেছি বহুদূরে। শেখা কৌশলও জমা দিয়েছি কিছুকাল হল।  বন্দরের ইতিহাসকেও অনেকবার আপন ভাবতে চেয়েছি। অথচ, সেই কাঙ্ক্ষাগুলো বন্ধক দিতে হয়েছে কোথাও কোথাও, বিনাসুদে।

এমন নয়, গাছ থেকে পাতা ঝরা এই প্রথম দেখছি। শুনেছি, আমার পিতামহও লাগিয়েছিল বেশ আদুরে কিছু গাছ। তবু, কোন বনাঞ্চলেই আমাদের মালিকানা নেই। রোপিত গাছে এখন ফলেছে কিছু হাহাকার। অথচ, তার সাথে আত্মীয়তা ছিন্ন হয়েছে শৈশবে।

এখন শৈশব বলতে ঘুড়ির নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী, বিসদৃশ শ্যালো নৌকা। না, রঙিন পালও আর নেই। তবু, ভাবছি ওই আকাশেই নোঙর করবে এই জীর্ণ ঘুড়ি

অনেকদিন দ্যাখা হবে না

অনেকদিন দ্যাখা হবে না ভেবে গুছিয়ে নিচ্ছি জলপাই রঙের ছাতা আতাফলের বীজ মসৃণ জবার মতো তপ্ত অভিমান।

তুমিও ফুরিয়ে ফেলো জমিয়ে থাকা ভ্রমণ। ঢেকে দাও ক্লান্তিগান। বাগানে লাগাও কিছু সুনিপুণ স্তব্ধতা। জাগিয়ে তোল লাল মোরগের ঝুঁটি। কার্নিশে লেগে থাক বর্ষার বাড়াবাড়ি কিছু নমুনা।

আমরা বরং আলাদা আলাদাভাবে চাষ করি অনেকদিন দ্যাখা না হওয়ার সুসংহত কিছু ডানা, জলফুলের মৃদু ঘ্রাণ মৌসুমি চূর্ণ

হাসান মসফিক

জন্ম : লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ । স্বভূমি, মেঘপত্র, সংকাশ, কাব্য সরোবর, ক্রুশিয়াল, সবুজ আড্ডা সহ বেশ কিছু সংকলন ও ছোট কাগজে লেখা প্রকাশিত হয়েছে । এর বাইরে সাহিত্য ব্লগ : ক্ষেপচুরিয়ানস, বিভুঁই, গল্প ও কবিতা, জলভুমি ও দৈনিক নিউজপোর্টাল বাংলা নিউজ এবং বিডি ২৪ লাইভ-এ বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত । বর্তমানে ওয়েবজিন বিভুঁই’র সম্পাদনা পর্ষদের সাথে জড়িত ।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি