সাম্প্রতিক

চাঁদের ছায়ায় ও লাইটহাউজ গুলো । তানভীর আকন্দ

প্রত্যাশা

বাতাসে হাপড় টেনেছে সাজুন্তি ডানা, চারিদিকে প্লবমান নীরদ কুহার;
অগ্নিকুণ্ড ঘিরে যেই ফুল টেনে নেয় ওম, প্রবর কুসুম—
ইশারা আখ্যানে যেন কিছুটা মলিন সে-ও!

ময়ূরের পুচ্ছ এক অরণ্য-পিঙ্গল; জল থেকে নদী—

অক্ষ ও কেন্দ্র বিভেদ,
বিমূর্ত খঞ্জনা জানে কতোটা ব্যাঞ্জনাময় বাতাসের দূরন্ত হুংকার,
তবু এই অপ্রচল মুদ্রার সঙ্গীত, সুমধুর সংরাগ—
কতোটা উল্লাসে টানে, শৈল ও সমুদ্র পানে?

প্রশান্তি

কতোটা প্রশান্তি আছে ঘুমের আলিঙ্গনে- পেয়ালা ভর্তি আছে
কৃষ্ণচূড়ার লাল, বারান্দায় গুটিসুটি পড়ে আছে চাঁদ—
অথবা চাঁদের ছায়ায়—প্রতিটি ঘামের গ্রন্থি উড়ে যায় মিনারের ছাদে,
ভেঙে পড়ে দৃশ্যকতক, একেকটি তোমার চোখ- নীল নীল ময়ূরের ডানা,
চতুষ্কোণ প্রণয়ের গানে সিক্ত হয়েছে তারা জ্বলজ্বলে আকাশের ছবি।

কালকূট

জেগেছে তাসের রজনী
পরাশ্রিত হ্রস্বতার নিশ্চল ডায়ালে।
বয়নের উর্ধ্বশ্বাস
নির্জন তর্জনী ঘিরে—

যেন এই অন্ধবীক্ষা
পাতার বেষ্টনী ভেঙে ঢুকে যায়
গহীন বনের পথে!

সুরের প্রমাদে আছে সুর
জলের স্ফটিকে আছে
জলহীনতার কূটাভাস
তাই এই হাওয়ার বিভ্রমে দেখি
জেগেছে অভ্রময়ূর?

কেন যেন প্যাচারাও ভূলে যায়
ঘুমের নির্যাস! বনমহুয়ার ডালে
শুয়ে আছে বিকট রজনী
তার ধারে সাকী আর সূরার প্রভেদ!

দ্বিধাজ্বর ভুলে তাই,
অবসাদ ছুড়ে মারি আকাশের পানে।

লাইটহাউজ

তবু ভুল করি পথ, স্নান ও আহার শেষে
যেই পাখি ফিরে আসে ঘরে,
ঘুমঘোরে কেঁপে উঠে পাখা তার পালক গিয়েছে খসে,
খড়ের বিছানা ভেসে যায় শীতল জলোচ্ছ্বাসে, স্বপ্ন কেমন নীল?

ভেঙে গেছে পাটাতন
ছিন্নভিন্ন পাল, মাস্তুলে ঝুলে আছে কিঞ্চিৎ সংশয়।

ডুবন্ত জাহাজ জানে প্রতিটি লাইটহাউজই একেকটি জীবনসীমানা।

দেবযানী

টুটে গেছে নিদ্রালেশ, চুতরা’র ফাঁদে দেখি সুরের প্রগত দৃশ্যায়ন-
অভিশাপে জীর্ণ প্রতিতী, পুনঃজাগরণ মন্ত্র শেখাবে নাকি?
মুছে যাক মৃণাল সাধনা, স্ত্রস্ত পায়ের স্কন্দন-
তবু এই অন্ধকূপে গভীর হয়েছে আশা,

ভোর যতদূর ঠিক ততটাই দূরে থাক প্রলয় সাধনা।

সপ্তস্বর

মৃত্যুর কাছাকাছি এসে কতোবার জেনেছি
নৈশব্দ কতোটা ঘনিষ্ঠ নিবিড়
শূন্য থেকে শূন্যতার দিকে
ভ্রমনের পথ আছে অবারিত খোলা
তবু এই স্থব্ধতা বিকিরিত রশ্মির তীক্ষতা নিয়ে
প্রবেশ করেনি মজ্জায়, এতোটা দুঃখ নেই
যাত্রী ছাওনিতে আছে অপেক্ষা যতটুকু
যতোটা সুর আছে বেহালার পরাজিত তারে
আছে মোহ আর বিদ্বেষ, গ্লানি আছে— পলায়ন
নিখিল নিয়মে আছে জাল বুনে যাওয়া,
ক্লান্তিবিহীন মাকড়সা যেন, সময়ের সিন্ধুসৈকতে
অস্তমিত কী গভীর রক্তপিপাসা!

সারথি বিহীন যেই রথ গেছে ছুটে
বেগুনে মেঘের তীর ঘেষে নোঙর ফেলেছে বুঝি,
মুছে দাও সুবর্ণরেখা তার— পরাজিত হোক
অলীক দরজা, আমি যার অতন্দ্র প্রহরী চিরকাল।

Comments

comments

তানভীর আকন্দ

তানভীর আকন্দ

কবি, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ পড়ছেন ।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: 

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি