সাম্প্রতিক

রক্তাক্ত নাকফুল ও বনফুরলের ফুল । সুফি সুফিয়ান

বনফুরলের ফুল

পৃথিবীর কোথায় কোনখানে কেন নামে রাত
কেন চক্কর দিয়ে জ্বলে ওঠে লউয়ের ভাঁজে সূর্যডানা
কেন শরীরে আগুনমেখে বিরান হয়ে মরে মাটি
কেন বর্ষায় উতলে ওঠে নদী, কেঁদে মরে আকাশ
কেন ঝরে পড়ে পাতা
মানুষের মতো কেউ কি আয়ু লিখে রাখে তার সবুজ গালিচায়?

কিছুই জানে না সে

বোকা চাঁদের মতো আলো— আঁধারির খুনসুটি
ছনের চালায় ছুঁইয়া পড়া বৃষ্টিদানার মতো প্রেম
আগুনে চুমুক দেওয়া রোদের ছায়ার মতো ভাবনার কারুকাজ
হজম হয় না যে চাঁদের
তারেও একদা একখণ্ড অন্ধকার গিলে খায়
উদোম গায়ে দেখে বাঁশবন, ঘন আঁধারের হুতুমপ্যাঁচা
আর ঘাসবনের আনকোরা পোকাদল
কেন দেখে
                  কেন দেখার
                                  জন্য এই নগ্ন  প্রভাতবেলা?

 ঘরে ফিরে আদুরি

গোরস্তানে পাঠানো লাশের মতো
ধরাধরি করে বাড়ি নেয় তাকে
দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখে চান
তার অনালোকিত বদন মধ্যাহ্নের সূর্যালোকে
চাপা পড়ে কুঁকড়ায়। কতটা বেকুব সে।
লালাঝরা কুকুরের মতো—মুখভরতি পচা শামুকের ঘ্রাণ
পিচুটিমাখা চোখ— তবু বুকে আছে কামনার নীলাভ শিখা
যে শিখা তাকে প্রেমিক করে তোলে
সারাদিন বাউস্যাজীবন তবু আদুরিদের
বাড়ির সামনের গাছে উঠে বসে
আদুরি দেখলে হাসে সে
আদুরি হাসলে না— মাজা দাঁত উন্মোচন সেও হাসে
আজ হাসি নেই, আদুরির বড়ো বিপদ
সে জানে আদুরিকে কে মেরেছে?
ঘরভরতি সুন্দরী তরুণী আছে গ্রামে
কেউ তারে টাইন্না বনে নেয় না
এতে পাপ হয়, বড়ো পাপ!
চান জানে এটাই সত্য
জানে না লোভাতুর মেম্বারপুত!
যে সাহেবি ঢঙ্গের দুলদুলে চড়ে বেড়ায়
উঠতি জালাধান খেতে দেয় ঘোড়াকে
কেউ কিছু কয়, কেউ কয় না
গ্রামের ইজ্জত ফেরি করা ঘোড়া তার
চোখের পলকে দৌড়ায়
ছোটো ছোটো ছেলেদের সোয়ার বানায়
লোভ দেখাইয়া পিঠে তোলে, মাঝে মাঝে বনে নেয়
কেউ কিছু কয়, কেউ কয় না।
নীরবে কাইন্দা মরা পোলাদের হাতে
তুলে দেয় কাঠের শিল
খুশিতে ভখলায় পোলাপাইন
বিকালে ঘোড়া নিয়ে মাঠে যায়
কলাগাছ গেঁথে দিয়ে চক্কর বানায়
চক্করে চক্করে বদলায় সোয়ার
আহ্লাদিত হয়ে কেউ চক্কর শেষ করে
কেউ পড়ে যায় খেতে
মেম্বারের পুত বেদনা ঝেড়ে দিয়ে খোয়াব দেখায়
শিল দিবে আসছে মেলায়
ঘরে এ কালো কাঠের টুকরো থাকা মানে
আভিজাত্য, আহ আভিজাত্য…!

এই মেম্বারপুত তুলতুলে মাখনছানায় লাগিয়েছে মুখ
চানের ইচ্ছে করে কারণ জানার
কিন্তু সাহসে কুলায় না
সে জানে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেবে
অথবা ঘোড়ার চাবুকে তুলে দেবে পিঠের ছাল
ছাতার দাশায় সুতা প্যাঁচিয়ে চাবুক বানায়
গোড়ায় অন্নার গল্লা, সম্মুখে সুতার গিট্টু
এ বড়ো ব্যথা দেওয়া অস্ত্র
এক আঘাতেই ফেটে যায় দেহ
ঘোরার শক্ত পাছা ফেটে পড়ে লউ
তীব্র ব্যথায় তাই আরও জোরে আরও জোরে দৌড়ে
দৌড়ে নাকি পালাতে চায়?
ঘোড়াই জানে!
তার ইচ্ছা হয় শক্তপুক্ত লাঠি দিয়ে পাছায়
বাড়ি দিয়ে কাবু করবে মেম্বারের পুতকে
কালো চামড়া ফেটে লাল লউ বের হলেই
তিন কলাগাছ ফেলে দেওয়া দূরত্বে দৌড়াবে সে।

পিলপিল পায়ে হাঁটা পিপিলিকার মতো ধীর লয়ে হাঁটে চান
ভাবনার শরীর রক্তাক্ত করে পৌঁছে আদুরির উঠানে
মরাবাড়ির নীরবতা, বাতাস ভারী করা দীর্ঘশ্বাস
পাটিতে শুইয়ে গোসল করাচ্ছে আছিরুন
দলা পাকানো কষ্টে ফুসফুস বন্ধ হয়ে গেছে তার
বেওয়ারিশ কুকুর তাড়ানোর মতো তাড়িয়ে দেয় আছিরুনের স্বামী
গরম জলে শুইয়ে মরা মাইনষের
মতো স্নানপর্ব দেখে বড়ো পীড়িত হয় চান
দৌড়ে গোরস্তানে যায়। কবর খুঁড়ছে না কেউ।
তার মানে মরেনি আদুরি
নাকে আঙুল দিয়ে দেখার স্বাদ হয় তার
কিন্তু পাশে গেলে বকে তার বোন
                                          বোনপত্নী।

চর্যাহরিণীর সুগভীর হৃদয়

একটা করুণ জীবনের গল্প শুরু হয়
যেখানে প্রাণ আছে প্রাণ নেই
যেন মৃত নদীর গতিপথ বাড়ানোর মতো
আষাঢ়ে বৃষ্টির নিনাদ।
ঝড়ো সন্ধ্যা— ঝড়ো রাত আচমকা বজ্রপাত
সবই যেন মিশে গিয়ে একাকার
ব্যথা বেদনায় বোবাপ্রায় নারীর হাতে
জীবনের জটিল হিসাব না— বোঝা প্রেমিক
যে জানে না দেহের  গোপন ভাষা
কী করে ভোর্জপাত্রে পাঠ করতে হয়
চর্যাহরিণীর সুগভীর হৃদয়
ছুটে ছুটে চলা, আর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া

তবু এক করে দিল সমাজ
এক করে দিল—
সুরম্য প্রাসাদের ভাবমূর্তিতে উজ্জ্বল রাখার দায়ে
বড়ো জটিল অঙ্ক— কাদায় লেপটে গেলে দিতেই হয়
মাটির উদর বেয়ে চলা পোকায়
যেভাবে ঠুকরে ধরে হাড়িচাচার দল
বিস্ময়ের উনুনে পাটকাঠি দিয়ে
উল্লাস তোলে সুদর্শন পাখা, বুক-পিঠ-তীক্ষè-চঞ্চু
কিন্তু পোকা? কী বেদনায় বিলাপ করে পোকায়?

কবে তুলে নেবে চানের বাড়ি
এ নিয়ে বৈঠক হতে পারে
একটা উচ্ছ্বাসমাখা উৎসব হতে পারে
হাঁস— মুরগি কিংবা ছাগল জবাই দেওয়া উৎসব
শোয়ার শীতলপাটি খাবার থালা রান্নার বাসনকোসন
মাছ কুটার বটি, সব লাগবে বিয়েতে খুব লাগে
আছিরুন তো কত কিছুই পেয়েছিল
কিন্তু তার বোন?
বড়ো ইচ্ছে করে তার বাড়ি যেতে
অবশিষ্ট কোনও জায়গাজমি থাকলে বিক্রি করে
জিনিসপত্র কিনে দিত কিন্তু যাবে কে? দেবে কে?
আছিরুন জানে এগুলো হবার নয়
তবু অবাক করে উঠোনের জামগাছ বেচে দেয় সুরত
গঞ্জ থেকে কিনে আনে পোশাক
লাল কাতানের শাড়ি, বাসনকোসন
এখন শুধু আদুরি সুস্থ হবার পালা

আদুরি সুস্থ হতে সময় নেয়
চান আরও তাগড়া জুয়ান হয়ে ওঠে
লালাপড়া মুখটাও নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হয়
প্রতিদিন—বেলা—অবেলা ঘর ছেড়ে এসে
ঘুরঘুর করে আদুরিদের বাড়ি
আদুরির পাশে আসতে চায়, কিছু বলতে চায়
আদুরি কথা কয় না, মেম্বারপুত তার জিহ্বায় কামড়েছিল
কামড়েছিল বাম স্তনে, বোঁটার পাশে এখনও দুই দাঁতের
দগদগে দাগ, পানি লাগলেই জ্বালায়
তাই আড়ালে রাখতে হয়! স্যাঁতসেঁতে কাপুড়ে অন্ধকার
কাবু করেছে—সুস্থ হতে দেয় না।
ভাতের ফেন, চালের মাড়ি আর বনবাদাড়ের অচেনা
ঔষুধি পাতা থ্যাঁতলে, তেতু জল দিয়ে
জিহ্বার দাগ সারায়—গলায় কথা ফোটে
আছিরুন জিগায়—কে করছিল ই-কাম?
আদুরি কথা কয় না। আবার জিগায়, বারবার জিগায়
উত্তর শুনেই বলে—মাতিস না!
জন্মের মতো চুপ মার, বোবা মাইনষের মতো
পার কইরা দে এ জীবন
এ নারীজন্মের নিয়তি বইন
নাইলে কেন বাপের বাড়ির হক্কলে মরে?
এ গেরামে একটা পোকও মরল না, সংগ্রাম আইল না?
আদুরি কয়—বাড়িতে পাঠাইয়া দে বইন
—কত দূর যাইবে ক? একটা বুইত্তামারা হাওর
একরাত একদিন লাগে
পানির ওপর চইড়া বেড়ায় পানিডাকাত
একলা পাইলে এরাও ছিঁইড়া খাইতে চাইব
তারচে এইখানেই থাক
তরে আমি দেখমু, আমারে তুই!
আদুরি কান্দে-কেনে কেনে ঠকাইমু বোকা লোকটারে
—তুই তো ঠকাইসস না? ঠকাইছে সমাজ।
মাইরল বিছালের মতো খ্যাপাটে এ সমাজ
কখন কারে দুশিং দিয়ে গুঁতিয়ে লউ বার করে
কেউ জানে না
—সমাজ মানে কি কতিপয় ধূর্ত মানুষ?
—সমাজে মানে কি দীপ্তিমান আলোর নিচে
জমাট বাঁধা অন্ধকার?
—সমাজ মানে কি একদল কামুকপুরুষ
যারা নারীস্তন খাবে যোনি খাবে
গর্ভে আগুন দিয়ে রুইয়ে দেবে নষ্ট জন্মের বীজ।
এমন কিছু বলতে চায় আদুরি
লাত্থি দিতে চায় সমাজের ঘাড়েপিঠে
আছিরুন মুখ চেপে ধরে, বহতা নদীর গায়ে
শরীর এলিয়ে দেওয়াই নারী জন্ম!
—এ জন্ম ঘিন্না করি  ঘিন্না করি
একখান দড়ি দে বইন ঝুইলা পড়ি মান্দার ডালে
একেকটা ছটফটানিতে কাঁটা ফুটবে আর
মরার আগে দোজখের স্বাদ হজম করমু
সমাজের সামাজিক পুত্রধন
আর হামলে পড়ত না শইল্লের খেতে
এইটা তো কাদা হইয়া গ্যাছে
ফুলফল কিছুই ফলবে না!
—কে কইছে তরে কে কইছে?
নারীদেহ বিলেতি মাটির বাসন এখানে ফসল ফলেই
তোরও ভাণ্ডে লুকিয়ে আছে বীরপুরুষ, ডালিমকুমার

একথা— ওকথা কোনও কথায় মন ভরে না তার
গতজন্মের পাপের কথা কয় আদুরি
আছিরুন সান্ত¡না দেয়
বাহিরে তখন চান চিৎকার করছে
—আমার বউ দেখতাম।
কেউ ফিরায় না তারে। সমাজঘোষিত বউ যখন তখন
দেখার সাধ হয় তার, যখন তখন বাড়ির উঠান থেকে
ডাক দিয়ে ফিরে যায়
চানের মা প্রবোধ দিয়ে ফিরিয়ে নেয়
আর কাঁদে। মনুষ্যজন্মে ঘৃণা এসেছে তার
সমাজস্বীকৃত অসতীর হাতে
ফুটন্ত ভাত মুখে দিয়ে মরতে হবে
এ—যে বড়ো কষ্টের, বড়ো লজ্জার!

চানের অস্থিরতা আর বারবার
এদিক—ওদিক ছোটাছুটির জন্য
তার হাতে তুলে দিতেই হয় আদুরিকে
একটা পুরোনো পাঞ্জাবি আর ধার
করা সেন্ডেল পরে চান আসে
রাজহাঁসের আস্ত রান—মাথা খেয়ে বিদায় হয় কনে নিয়ে
নদীর এপার থেকে ওপারে।
একই গ্রাম। একই নাম
মধ্যে একটা নদী আলাদা করেছে তাদের বাড়ি।
আছিরুন আদুরিকে ঘর থেকে
বের করে দিয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠে।
লক্ষ জন্মের পাপ মুছন হচ্ছে তার
তবু কান্দন কেন?
শত হোক বোন তো। বোন বলেই
বোনের বান্দি হয়ে এসেছিল এ গ্রামে।
কত আর বয়েস ছিল ছয়সাত
একটা ফুটফুটে শৈশব
একটা গোলাপমাখা বয়ঃসন্ধি
তার ম্লান করে দিয়েছে সে
এ অপরাধের ভাগি নিজেকেই করে বসছে বারবার
কেন তার সঙ্গে দিয়েছিল আদুরিকে
না হয় বাবা—মায়ের চোখে চোখ রেখে মরতো
তবু এ নরক জ্বালায় মনের
বিপক্ষে গিয়ে পাততে হত না আখাটা সংসার।
কত কিছুই হতে পারত তার বিয়েতে
পাড়াসুদ্ধ মানুষ গীত গাইত
পানসি আসত হাওরের বড়ো বড়ো ঢেউ গুনে
সে ফিরত বরের বাড়ি—কান্নায় কান্নায় স্বপ্ন বুনত।
কিছুই হল না তার, কিছুই না
আদুরি গীত গায়, তার দহন নিংড়ানোর গীত
তারপর বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখে
নদী পার হয়েই আদুরির নতুন ঘরে কী করে ঢুকছে
তার কণ্ঠের গীত থামে না
বাক্যনদীর ঢেউ জেগেছে তার কলিজায়
                ওরে মরা গাঙের জল
                দুই পরানে ঢেউ তুলিয়া
                 করবানি শীতল

                আমি জ্বলি এক কিনারায়
                সে পুড়ছে অন্য পারে
                দেহের ভেতর উজায় ব্যথা
                কলিজা মাংস হাড়ে
                ছলাৎ ছলাৎ আইয়া পানি
               পরানে নাও দখল
                দুই পরানে ঢেউ তুলিয়া
                করবানি শীতল

রক্তাক্ত নাকফুল

রাত নামে বনবাদাড় ডিঙিয়ে
চানের জীবনে অন্যরকম রাত
শেয়ালকণ্ঠে তাল দেওয়া নিশাপাখির বিরহী গীতিময়
মাঘসন্ধ্যা নামে আদুরির জীবনে
একমুঠো ভাত টিনের থালায় দিয়ে
বিড়বিড় করে চানের মা
তার ঠোঁটের কোনায় অভিসম্পাৎ
হিরার টুকরার মতো সহজ চানের বুকে
কেন তারা তুলে দিয়েছে সাপের লালামাখা বনফুরলের ফুল!
আদুরি কথা কয় না
চপচপ হাসের ছানার মতো গিলে খায় ভাত
এখনও জিভে ব্যথা পায়
এখনও মশলার ঝেং নিতে পারে না জিভ!

দুয়েক ঢোক জল খেয়ে
ঘরের কোণে পাটি বিছিয়ে বসে থাকে
চান খেয়ে বারান্দায় ক্ষুধার্ত সিংহের মতো নাদুসনুদুস হাঁটছে।
অন্ধকারে তার চোখ জ্বলজ্বল করে
প্রদীপের মিটমিট আলো শুধু টিকি বাড়াচ্ছে
রক্তাক্ত নাকফুলের মতো বিন্দু বিন্দু
লাঠিমের বিচি যেন
কখনও কালো মনে হয় আবার মনে হয়
ক্ষরণ মিশিয়ে লাল হয়ে নাচছে

চানের মা ছেঁড়া শতছিন্ন কাপড় ঘরের মধ্যে টেনে দেয়
চান বোঝে না কেন এ কাপড়ের বেড়া
আদুরি তো এখন তার
হাজার মানুষের সামনে সে যা ইচ্ছে করতে পারে
বিচারসভা তার পক্ষে বলে গেছে
আদুরি তার বউ
মায়ের পাশে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে চান
কী করবে কিচ্ছু বোঝে না
কথায় কথায় ভোলতার হুল ফোটায় তার মা
চান হাসে মা রেগে বলে— শইল্লো কুত্তায় মুতি দেয়
 তর হাসি হুইন্না, যা ভাগ বউর কান্দাত যা

বসার খাট নিয়ে আদুরির পাশে যায় সে
এই খাটই তার শিথানের বালিশ। 

 

 

 

সুফি সুফিয়ান

নাটকে স্বপ্ন ও আদর্শের সবক দেন। রাজনৈতিক অসংগতি কিংবা সামাজিক গোঁড়ামি মিথপুরাণের পাঠ থেকে জীবন্ত করেন। ইতিহাসের দীর্ঘপাঠ, প্রাসাদ-রাজনীতি খণ্ড খণ্ড আখ্যানের মতোই লোকচোখে আলো ফেলে-তাই তাঁর নাটকগুলো বরাবরই মঞ্চসফল। দর্শন ও সমকালীন জীবনাদর্শের মিথস্ক্রিয়া কাব্যিক সংলাপের সমন্বয় ঘটে বলে নাটকপাঠে গল্প-উপন্যাস কিংবা দর্শনের মতোই মুগ্ধতা তৈরি করে। লেখেন গল্প-উপন্যাস। এর মধ্য দিয়ে খুঁজে ফেরেন লোকজদর্শন ও গ্রামীণ ঐতিহ্য। লেখেন গান। শিশুদের ভালোবেসে তৈরি করছেন ছড়াগানের টুডি কার্টুন চ্যানেল ‘মিউ’, ছোটোদের বায়োস্কোপ। বিভিন্ন সময় মঞ্চস্থ হওয়া নাটক-বৃশ্চিক, ভূত, জৈন্তেশ্বরী, দোপেয়ে দৈত্য, আদিম পৃথিবীর আহ্বান, শিকার, একটি দীর্ঘশ্বাসের ডালপালা, ব্যাঙ, দ্বিতীয় জন্ম, বন্দি নম্বর ৭৩। প্রকাশিত গ্রন্থ : সুফির গল্প (গল্প, ২০১০), দুইটি নাটক (২০১৩), পরিবন্ধু (উপন্যাস, ২০১৪), কিশোরপুরাণ (উপন্যাস, ২০১৮), সৈয়দ শাহনূর (গবেষণা, ২০১৮), নাটকসমগ্র-১ (২০১৮), ছোটোদের নাটক (২০২০)

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি