সাম্প্রতিক

তুমি, অবিরত ও আমার শহরে । ফজলুররহমান বাবুল

আমার শহরে

আমার শহরে শুধু তোমার জন্য ফুল ফোটে, পাখি বসে গাছে গাছে, সূর্য ওঠে, রাত্রি নামে। তুমি জান না। আমার শহরে থাকলে তুমি, বাতাসে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, বিদ্যুৎবাতির সমূহ আলো গোলাপ হয়ে ফোটে। তুমি থাকলে এই শহরে সব রাতই তারাভরা রাত। তুমি ছাড়া আকাশ ঢেকে রাখে আকাশ, বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আমার শহরে অজস্র মানুষ; কে আছে তোমার মতো? 

রৌদ্র আঁকে তোমার ছায়া

আমি যখন সূর্যের মুখোমুখি দাঁড়াই তখন রৌদ্র আঁকে তোমার ছায়া। ছায়া নয়, আমি দেখতে চাই তোমার তোমার মুখ। তোমাকে দেখতে সাঁতার কাটি রৌদ্রে আর ফিরে আসি ঘরে। নৈঃশব্দ্য, প্রকৃতি তোমাকে মনে রেখে গান গায়। বহুদূরে একা একা তুমি মনে রাখ কাকে? কত সকালে দুপুরে এবং সন্ধেবেলায় তুমি আমার উলটো হাওয়া। আমি দাঁড়াই সূর্যের মুখোমুখি একা, রৌদ্র আঁকে তোমার ছায়া। তুমি কতশত  স্বপ্ন-প্রহর, কত অবেলায় বিষণ্ন মেঘমালা। কত-যে দুরন্ত হাওয়ায় ব্যাকুল স্বপ্নের পাখিরা উড়ে যায় তোমার ঠিকানায়। 

তুমি, অবিরত 

১.
যদি ঘুমিয়ে না-থাকি, হৃদয়ের আকাশপথে ভাবনার উড়োজাহাজ তোমাকে নিয়ে উড়ে অবিরত। কত রৌদ্র ও মেঘে, কত ঝড়ঝাপটায় উড়েছে জাহাজ, তোমাকে নামায়নি কোথাও। হৃদয়ে তুমি, অবিরত। একবার ঘুমানোর আগে দশবার মনে পড়ে তোমাকে। আর, তোমাকে মনে পড়ে না কেবল ঘুমানোর আগে কিংবা ঘুম থেকে ওঠবার পরে। সূর্যালোকে মনে পড়ে তোমাকে, মনে পড়ে আঁধারে, যদি না ঘুমিয়ে থাকি। আমার তুমি অরাজক, রাশি রাশি সাদা মেঘ, উত্তাল সমুদ্রের জল। হৃদয়ে তুমি অজস্র সূর্য থেকে ঝরে পড়া অগ্নিশিখা। তোমাকে ভাবতে ভাবতে কেটে গেল কতশত বছর। কত বয়সি স্বপ্নের রং মুছে গেল। ভোলা গেল না তোমাকে।

২.
তুমি সেই আশ্চর্য বৃষ্টিফুল, যে কভু ঝরে না কারও বাগানে! তোমাকে দেখতে দেখতে নীল আকাশ আর আমি ঘুমিয়ে পড়ি। তোমাকে দেখি প্রকাশ্যে ও গোপনে, বার বার! তুমি আমার রক্তকোষে, নৈঃশব্দ্যের সিঁড়ি ভেঙে কেবল প্রস্ফুটিত হও। আমি এক ক্লান্ত পক্ষী, মেঘ-রোদ্দুর ভাঙতে ভাঙতে ঘুমিয়ে পড়ি তোমার পাপড়িতে। দিন মাস বছর গত হয়, ফোরায় তোমার না সৌরভ। হাজার বছর পরে আমি তোমারই আকাশে সাদা-সাদা মেঘ হতে চাই, আর বৃষ্টি হয়ে ঝরতে চাই তোমার কপোলে।

৩.
কখনও তোমার মতো দেখিনি আর কিছু। পৃথিবীর সব রং দিয়ে আঁকতে পারিনি তোমার নৌকোখানি, আমার বুকের নদীতে যা বয়ে চলে অবিরাম।

 

 

ফজলুররহমান বাবুল

জন্মসাল ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ। জন্মমাটি ও বাসস্থান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলাধীন উত্তর-মিরেরচর, মালদারবাড়ি। মাঝেমধ্যে কবিতাবিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখেন। মূলত কবি। 'ঋতি' নামের একটি কবিতার কাগজ সম্পাদনা করেন । বই, ভ্রমণ এবং নিসর্গপ্রেমী। প্রকাশানুক্রমে ফজলুররহমান বাবুল বিরচিত কবিতাবইগুলো : ঋণী হব সোহাগি জলে (১৯৯৯), সখিকাব্য (২০০৪), সপ্তস্ফুট (২০১২), থেঁতো ফর্দ (২০১৪) জন্মতীর্থভূমি (২০১৬) তুমি তেমনই বৃক্ষ (২০২০) এবং প্রবন্ধবই ‘কবিতার পথে’ (২০১৭) ভাষামুখী নিবন্ধ (২০২০) বই ।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি