সাম্প্রতিক

ফরিদা,মানুষ একটি মাংসাশী প্রাণি । আবু মুস্তাফিজ

মানুষ একটি মাংসাশী প্রাণি

রোদ পর্যাপ্ত ছিল
আর তুমিও
আমাদের কথা হইতে ছিল
ব্যথা লইয়া
আমরা কি ব্যথা পাই
গোপন বিরহে
অহরহ হাসির ছলে?
যদি না পাই
তবে কি আমরা মানুষ নই?
কথা হয়
নদী লইয়া
নদী আঁকাবাঁকা
তথাপি স্থির না
নদী ঢেউ তুলিয়া দূরে গিয়া বসে
আমরা তখন ভাবি
বয়স ফুরাইয়া গেলে
নদী চলচ্ছক্তিহীন হইয়া পড়িবে
নদী হাসে
কাছে আসিয়া বসে
কয়, তখন কি ভালোবাসিবা না?
বোধহয় না
নদীর কি মন খারাপ হয়?
কে জানে
ম্যালাক্ষণ বাদে কহে, ক্যানে?
কই, মানুষ কি মানুষরে ভালোবাসে?
মানুষ কেবল মাংস ভালোবাসে
নদীর কি মন খারাপ হয়
মানুষের প্রতি ঘেন্না?
নদী কি জানে না মানুষ তার মাংস খেয়ে চলে গেলে
তার হাড্ডিগুড্ডিরে ভালবাসিব
নাকি বাসিব না?

নদী

একটা দুষ্প্রাপ্য নদীর কিনারে বসে আছি
এমনভাবে যেনবা আমি নিজেই একটা নদী
একদা প্রচুর ঢেউ ছিল
এখন শ্যাওলা জমে জমে থির
মাছ ছিল প্রচুর
সাথে ছিল কুমির আর শুশুক
সেসবই আজ বিলুপ্ত প্রায়
এখন কেউ কেউ মাছ চাষ করে কেউ বা কুমির
কেবল শুশুকহীনতায় কী এক অসুখ বিসুখের ন্যায় ধাওয়া করে
মাওয়া ঘাট অবদি, তারপর নদী, চরের মেয়েরা হাড়িপাতিল মাজতে মাজতে গোসল করে
তাদের ন্যাঙটা শরীর ভেজা কাপড়ে ঢেকে থাকে বলে
দুষ্প্রাপ্য নদীর কিনারে বসে থাকি
এমন ভাবে যেনবা আমিও একটি নদী।

নিকারাগুয়ার শেষ বাঘ

নিকারাগুয়ার সর্বশেষ বাঘটাও মরে পড়ে রইল
শহরের মগডালে
যদিও শহরে কোনও বৃক্ষ নাই, তাতে কী
উঁচু দালানই তার মগডাল
ফলে সেখানে বাঘ কীভাবে গেল
কেন গেল
সেইটা একটা প্রশ্ন হইতে পারে
কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের যুগে এইসব প্রশ্ন আমরা ধরব কেন?
তাই বাঘ যে কোনও কারণেই হোক মগডালে মরিয়া পড়িয়া রইল
এবং সে ছিল সর্বশেষ
তার কোনও বাচ্চা ছিল না
না ছিল কোনও কাচ্চা
সঙ্গী সাথী অথবা প্রেমিকা
কিংবা তার আব্বা
কেহই জীবিত ছিল না আর
এ রকম পরিস্থিতিতে বাঘ কেন
মানুষই বাঁচিয়া থাকে না আর
তবু সে বাঁচিয়া ছিল
আর মরিয়া গেল শহরের মগডালে
তবে কি মরিবার জন্যই সে বাঁচিয়া ছিল এতকাল?
নাহলে সে কেনই বা মরিয়া যাইবে
আর কেনইবা বাঁচিয়া ছিল এতকাল?
সেসব প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নফাঁসের এই যুগে পাওয়া যাইবে না জানি
তেমু করিতে ইচ্ছা করে বলিয়া করি।
এইজন্যই যে বাঘ সাধারণত মারাই যায়
বাঁচিয়া থাকিতে তাহারে চেনা যায় না বলে।

ফরিদা

ফরিদাকে আমার ভালো লাগে
তার রুটির মতো শুকনো ঠোঁট
বল্লার কামড় মেরে ফুলিয়ে দিতে ইচ্ছা করে
এমন তো নয়
বরং তার মৃদুমন্দ কথাসমূহ
ফুক ফুকিয়ে বিড়ি টানা
ধূমায় কথাদের জড়িয়ে যাওয়া
দেখতে ভালো লাগে
চুমু খাওয়া যায়
চাইলেই
ঈষৎ জড়িয়ে ধরা
কখনো সখনো
অথচ সঙ্গমে না
আরও সময় লাগবে তার
বলে চিক্কন খাটে শুয়ে পড়ে
একটা ডেকি মুরগির মতো
আমি তারে জড়িয়ে ধরি
শুয়ে থাকি শিঁয়ালের মতো করে
ফোকর খুঁজি
খাব বলে
সে দেয় না
খেতে
নাক ডেকে ঘুমিয়ে পড়ে
অপেক্ষা করতে করতে করতে করতে
করতে করতে করতে করতে
আমিও ঘুমিয়ে পড়ি।
ঘুম ভেঙে যায় ফরিদার আর্ত চিৎকারে
পৃথিবী মরে যাচ্ছে
পৃথিবী মরে যাচ্ছে
ধড়মড় করে জেগে উঠি
মরে যাওয়া পৃথিবীকে বাঁচিয়ে তুলতে যাই
আর তখনই কে যেন আমার পিঠে ছুরি মারে
আমারই ভাই আমারই বন্ধু আমারই প্রেমিকা যত
আমি মরে পড়ে থাকি
ফরিদার কোলে
রক্তাক্ত
ফরিদা আমারে সারিয়ে তোলে
তার সমস্ত বেদনা দিয়ে
বেঁচে ওঠে দেখি
একটা সবুজ পেঁয়ারা দুলিতেছে
পৃথিবীর আকাশে

বিড়ালের বিড়ালহীনতা

বিড়াল সন্দেহাতীতভাবেই বিড়াল
এ কথা জোরের সাথে বলা যাবে না
এজন্যই যে বিড়াল ইদানিং মাছ খাচ্ছে না
এমন না যে বাজারে মাছ নাই
এবং অন্য বিড়ালেরা তা খাচ্ছে না
যথেচ্ছই খাচ্ছে
কিন্তু এই বিড়ালটি খাচ্ছে না
কারণ তার টাকা নাই
ফলে সে বিড়াল থাকে কী করে?

ব্যাধ

এমন তো না
আমরা চাইলেই পারি
পক্ষী শাবক হতে
ব্যাধ বধিবে বলে হই না
বরং আমরা পক্ষী শাবক হইতে চাই না
চাই না পাখি হইতেও
কেবল তার ডানা চাই
উড়িবার তরে
আর তার কাছে গিয়া
তারে যানি বধিতে পারি

গোলাপফুলের বাগানে বসে আছি প্রেম ধরব বলে

প্রেম
বৃহস্পতিবার ধরা দিতে পারে
না শুক্রবারে
কে জানে?
তবু আমি শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষায় রাজি
তারপরও যদি ধরা না দেয়
তাহলে আমি কী করিতে পারি?
অপেক্ষা
তা না হয় করলাম
তারপর?
তারপরও যদি ধরা না দেয়?
না দেউক, অপেক্ষা করতে আছি, করতে থাকি।
প্রেম ধরা দিলে দিবে, না দিলে নাই
কী যায় আসে?

 

আবু মুস্তাফিজ

জন্ম ১৭ অক্টোবর, ১৯৭৬, টাঙ্গাইল। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, সরকার ও রাজনীতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা : ব্যবসায়। প্রকাশিত বই : গল্প— লুহার তালা [শুদ্ধস্বর, ২০১০] একটি প্রাকৃতিক সাইন্স ফিকশন: শিন্টু ধর্মাবলম্বী রাজা, সবুজ ভদ্রমহিলা ও একজন অভদ্র সামুকামী [গুরুচণ্ডা৯, কলিকাতা, ২০১২] ট্যাকারে ট্যাকা [শুদ্ধস্বর, ২০১৪]

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি