সাম্প্রতিক

টেড হিউজের কবিতা । হাসান শাহরিয়ার

কাক-রঙে থিওলজি পৃথিবী

টেড হিউজের কবিতায় শব্দ বা ইমেইজের খেলা নাই। এমনকি এস্থেটিকের কারসাজিও খুব কম। বরং তার শব্দ সময়ের ভিতর সকাতরে ছুটতে থাকে ইতিহাসের দিকে। টেড আপনেরে একটা এক্সিবিশনে নিয়া যাবে। সেইখানে আপনেরে বাই ডিজাইন অপদস্থ করবে। আপনের ভিতরে থাকা সমস্ত জ্ঞান আর আস্থায় ঠোকর দিতে শুরু করবে। এবং তার তৈরি করা ইমেইজে একসময় আপনে পুরাপুরি ধরাশায়ী হইবেন। এইভাবে মুহুর্মুহু আঘাতের এত এত আপেক্ষিক বাস্তবতার ভিতর আচমকা আপনের মনে হইতে পারে, কবি সিলভিয়া প্লাথের এই প্রতারক স্বামীর মনে আপনে খুব গভীরভাবে আছেন। ভালবাসায় আছেন। যেই ভালবাসা জাগুয়ারের মত। যেই ভালবাসা বাজ পাখির মত, কাকের মত, মশার মত, সাপের মত। টেডের ভালবাসা ইবলিশের মত।

টেডের ‘Crow’s First Lesson’ কবিতাটা শুরু হইছে এইভাবেঃ

God tried to teach Crow how to talk
‘Love’ said God, ”Say, Love”

বলেন দেখি, এইখানে কোন ব্যপারটা ইন্টারেস্টিং? খোদা একটা কাউয়ারে ‘ভালবাসি’ বলা শিখাইতেছে, এইটা? না। টেডের বলার ধরণটা খেয়াল করেন। God tried to teach Crow…. দেখেন, সর্বশক্তিমান চাইলে একটা কাক খুব সহজে ‘ভালবাসি’ বলে ফেলতে পারে, তাই না? তাইলে এইখানে খোদা ‘চেষ্টা’ করতেছেন মানে কী? ঠিক এই জায়গায় টেডের কবিতা আপনেরে মোচড়াইয়া দিবো। আপনের সনাতন মাস্তানিরে ফুঁ দিয়া উড়াইয়া দিবো। টেডের এই মকারি, ফানি এক্সপ্রেশন রিড করার পর মনে হইতে পারে, টেড উদ্ধত। টেড ব্লাসফেমি করতেছে। কিন্তু দিনের শেষে তার কবিতায় এইরকম কিছু মোটেও থাকে না। অলরাইট, আপনে এইবার এইটা লইয়া ভাবতে শুরু করেন।

কবিতা আগাইতে থাকে। দেখা যায়, গড যতবার কাউয়ারে ‘ভালবাসি’ শিখানোর চেষ্টা করছে, ততবার একটা দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রথমবার কাক হা করতেই একটা শাদা হাঙ্গর এর মুখ থেইকা বাইর হইয়া আসছে। তারপর একটা মশা, একটা নীল মাছি, একটা বিষাক্ত আফ্রিকান মাছি বাইর হইয়া আসছে। গড ফের কাকরে বললেন- বল, ‘ভালবাসি’। কাক হা করতেই নতুন দুর্ঘটনা। এইবার তার মুখ থেইকা বাইর হইলো একজন অসম্পূর্ণ পুরুষ যে একজন নারীর যোনিমুখে আটকানো ছিল। পৃথিবীতে আইসাই এরা মারামারি শুরু কইরা দিলো। অনেক চেষ্টা কইরাও এই মারামারি থামানো গেল না। গড বিরক্ত হইলেন। তাদের অভিশাপ দিলেন। আর এইদিকে মনের দুঃখে ‘ভালবাসি’ না শিইখাই কোথাও উইড়া গেল কাউয়াটা। 

‘কাক’ কালো। ময়লা খায়। তার স্বর কর্কশ। দেখতে কুৎসিত। কাক মোটেও একটা সুখকর ছবি না। কবিতার ভাষা অনুসরণ করলে দেখা যায়, এমন কি গডের পক্ষেও এরে ‘ভালবাসি’ শিখানো সম্ভব হয় নাই। ভালবাসা হইলো মানুষের সবচেয়ে গাঢ় আবেদনের জায়গা। একটা মায়াবী শব্দ। একটা এক্সপ্রেশন। একটা আকুতি। যার ভিতর ভালবাসা নাই, সে কি খলিফা হইতে পারে? অতএব, কাক এইখানে ডেভিলের সিম্বল। যার ভিতর ভালবাসার কোন চিহ্ন থাকতে পারে না। কাক হইলো একজন টাইরান্টের সিম্বল, যার নিয়তি হইলো ধ্বংস করা। কাকের প্রতিটা উচ্চারণে শুধু ধ্বংসই হইছে। শাদা শার্ক, মশা, বিষাক্ত মাছি- সব বিপদের চিহ্ন। কিন্তু মানুষ? কাকের বমির ভিতর মানুষও নাইমা আসছে পৃথিবীতে। মানুষ কি ক্ষতিকর? মানুষে মানুষে লড়াই কিছুতেই থামানো যাইতেছে না। এইভাবে আপনে যখন হিউজের কবিতার মুখোমুখি হইতেছেন, আপনে অস্বস্তিতে পইড়া যাইতেছেন। টেড আরো সাহসী। আবছাভাবে যেন বলতেছে, সৃষ্টির এই পুরা প্রকল্প একটা ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু না।

আনন্দ। পূর্ণতা। মধ্য রাতে গহিন বনে নিঃশ্বাস নেয়। সময়ের নিঃসঙ্গতার এক পাশে। কিছু নাই, তবু বলতেছে সব কিছু আছে। নক্ষত্রশূন্য জানালার অসীমে না। বরং কাছে কোথাও। ভয়াল অন্ধকারে কারা দলে দলে হল্লা করে? মনে হয়, এক ধূর্ত শিয়াল সব প্রশ্নের উত্তর হইয়া হাজির হইতেছে ধীরে। সকাতরে। পৃথিবীর সব সহজ উত্তর যেন জু-কিপার টেডের খেয়ালে আসা ওই ধূর্ত শিয়ালের অবয়ব। সফেদ তুষারে এইবার খুইলা যাবে লুকাইয়া থাকা সকল অবহার, তামাশাও।

বিবলিকাল হিস্ট্রি বা মিথের এইরকম ইন্টারপ্রিটেশন কিন্তু ওই সময়ের অভিজ্ঞতা থেইকা ধার করে নাই টেড। বরং তার এই ইন্টারপ্রিটেশন টেডের সময়ে থাকা মানুষজনের কার্যকলাপ থেইকা বাইর হইছে। টেড বিশ শতকের একজন ইংলিশ কবি। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারে তার অংশগ্রহণ ছিলো। তারে জেট প্লেন থেইকা অন্য মানুষের উপর বোমা মারার অভিজ্ঞতা সহ্য করতে হইছে। অতএব টেডের কবিতা একধরণের তিতা সত্য। মানুষ হিসাবে, মহান আল্লাহর প্রতিনিধি হিসাবে আপনের ব্যর্থতার এক করুণ সিন হইলো টেডের কবিতা।

শিকারের মঞ্চে টাইরান্ট বাজপাখি

সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়া বিবলিকাল যে ন্যারেটিভ, টেড হিউজ একটা ভিন্ন চিন্তা লইয়া এর মুখোমুখি হয়। তার চিন্তা আক্রমণাত্মক না, তবে এই চিন্তা আঘাত করতে পারে। দৃশ্যের মুখোমুখি আরেকটা রঙ্গিন দৃশ্যের মত। মঞ্চে বালথাসারের মুখোমুখি ডন আন্দ্রেয়া। এগামেমননের হুঙ্কারের বিপরীতে অদম্য একিলিস। বাংলা পুঁথির সবুজ নাবালক মনোযুদ্ধে বিপুল নিপীড়ক রাজার মুখোমুখি বাদশাহ খিজির। তার কবিতা ‘Theology’ এবং ‘Apple Tragedy’ হইলো এইরকম দুই স্ট্রং মেটান্যারেটিভ। 

হিউজ যখন একজন কিশোর, তখন পুরা পৃথিবীর সাথে তারেও লড়াই করতে হইতেছিল ভয়ংকর ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে। ফ্যাসিস্ট হিটলারে টালমাটাল পৃথিবী। সৃষ্টিশীল হিউজ মানুষের আত্মহত্যাপ্রবণ করুণ এই পরিণতি দেখতে থাকে। এইভাবে হিউজ মুখোমুখি হয় ফ্যাসিস্টের মনোজাগতিক ভাষার। হিউজ বুঝতে চায়, কীভাবে একজন ফ্যাসিস্ট নিজের জন্য এক ধ্বংসাত্মক ভাষা তৈরি করে এবং ওই ভাষার বাইরে তার অস্তিত্বের কিছুই আর খুঁইজা পাওয়া যায় না। ফলে তার ‘Hawk Roosting’ এমন এক ভাষার ঝিল্লি নিয়া হাজির হয় যেইখানে মানুষের উপস্থিতি নাই অথচ সকল আঘাত যেন মানুষের ওই পরাজিত মুখের দিকে। অবধারিত ভাবে কীটের দল, পশুর দল, পাখির দল হিউজের কবিতা দখল কইরা নিতে থাকে। যেহেতু এইসব এনিম্যাল আর তাদের ভাষা প্রকৃতির অস্তিত্ববাদিতারে সকাল সন্ধ্যা সাক্ষ্য দিতেছে। এদের স্বভাবের ভিতর হোঁচট খাইতে খাইতে হিউজরে দেখা যায় তার পরিচিত পরাজিত বিপুল মানুষের জন্য আশ্রয় খুঁইজা বেড়াইতে।

কবিতাটা শুরু হইছে এইভাবে,
I sit in the top of the wood, my eyes closed.
Inaction, no falsifying dream
Between my hooked head and hooked feet
Or in sleep rehearse perfect kills and eat.(1-4)

এই ‘I’ একটা বাজপাখি। শিকারি বাজপাখি। যারে সারাদিন উইড়া বেড়াইতে হয় আকাশে আকাশে। তার তীক্ষ্ম দুইটা চোখ। তার ভয়াল নখ, হিংস্র থাবা। উড়ন্ত এই বাজপাখি পৃথিবীরে খুবই করুণ ভাবে দেখে। যেহেতু পুরা পৃথিবীটা তার উর্বর শস্যক্ষেত্র। পুরা পৃথিবীতে শিকারের অধিকার কেবল তার। বাজের নিঃসঙ্গ, ড্যামকেয়ার উড়ন্ত শরীর এমন এক টাইরান্টের ইমেইজ তৈরি করে, শুধুমাত্র নৃশংসভাবে শিকার করা যার নিয়তি। এই স্বৈরাচার বাজপাখির মত নিঃসঙ্গ। বাজপাখির মত তার সকল স্বপ্ন, বাস্তবতার নিষ্ঠুরতায় আরো বেশি পোলিশ করতে থাকে নিজেরে।

একটা উঁচু ডালে বাজপাখিরে বিশ্রাম নিতে দেখা যাইতেছে। ক্লান্ত কি? তার স্বপ্ন তার রোমাঞ্চকর বাস্তবতার মত। স্বপ্নের ভিতর বাজপাখি আরো নিখুঁত, আরো হিংস্র। স্বপ্নের ভিতর বাজপাখি শুধু শিকারের দৃশ্যটাই বারবার দেখতে থাকে। যেন আর কোন ফ্যান্টাসি নাই, আর কোন পৃথিবী নাই। ফলে ঘুম ভাঙ্গার পরে এই বাজপাখি আরো বেশি শাণিত, আরো বেশি ক্ষুধার্ত, আরো বেশি জল্লাদ, আরো বেশি আততায়ী, আরো বেশি খুনি। গাছের উঁচু ডাল, বাতাসের প্লবতা, সূর্যের বেগুনি আলো, পৃথিবীর সমর্পিত মুখ- বাজপাখির ঢাল। তার শিকারের মঞ্চ। বাজপাখির অধিকার। এইখানে সে যেইভাবে খুশি দুলতে পারে, উড়তে পারে। হিংস্র থাবায় শিকার ধরতে পারে। চক্কর দিতে পারে। বাতাসে বাতাসে তার নিষ্ঠুরতার চিহ্ন রাইখা যাইতে পারে। এইখানে সে যারে ইচ্ছা শিকার করতে পারে, যখন খুশি তখন। মৃত্যুর জল্লাদ এই বাজপাখি। তার ইচ্ছাই হইলো পৃথিবীর নিয়ম। এর বাইরে কোন তর্ক, কোন প্রতর্ক কে তুলতে পারে?

‘The sun is behind me.
Nothing has changed since I began.
My eye has permitted no change.
I am going to keep things like this.’ (21-24)

টেডের কবিতায় সূর্য-শক্তিরে মোটেও খর্ব করা হয় নাই। বরং সূর্য এখনো পরিচিত প্রকৃতিতে শক্তির একমাত্র সোর্স।  কিন্তু এই টাইরান্ট বাজপাখির কাছে, সূর্য ওই অনড় নিয়মের অংশ যেই নিয়ম তার স্তুতির বাইরে যাইতে পারে না। যেই নিয়ম তার উপাসনার বাইরে যাইতে পারে না। টাইরান্ট বাজ সবাইরে শুধু তার হিংস্র নখ আর ঠোঁটে শিকার হইবার অধিকার দিবে।

থট- ফক্স, বাক্সের বাইরে সত্য অথবা মিথ্যা

‘দ্য থট-ফক্স’ কবিতাটা লইয়া একটা পপুলার ধারণা হইলো, কবি এইখানে এমন এক সংকটের মধ্যে আছে যেইটা অনেকটা রাইটার্স-ব্লকের মত। সারাক্ষণ ভনভন করতেছে মাথা কিন্তু কিছুই লেখা যাইতেছে না। কবিতার একটা লাইনও আসতেছে না। যেন সৃষ্টি করতে না পারা’র যন্ত্রণা। চারপাশটা তখন বিষ-ভর্তি এক বন্ধ্যা সন্ধ্যা… আবছা আলো-আঁধার এমন এক পাজল হইয়া ওঠে যেইখানে পথ দেখাইতে ব্যর্থ হয় বেপরোয়া নাবিকের চতুর কম্পাস। কিন্তু আমি এইভাবে ভাবতে চাই না। আমার ধারণা, টেড হিউজ এত ছোট স্পেইস লইয়া জিকির করতে পারে না। তার হু আরো বড় স্পেইসে মাতম করে। যেইখানে আচমকা তুমুল এক সংঘর্ষ ঘটে, যার আঘাত অস্তিত্বের শৃঙ্খলা আর বিশৃঙ্খলারে পাশে রাইখা সময়রে ব্যবচ্ছেদ করতে চায়। সময়রে ব্যবচ্ছেদ করে। সময়ের মুখ ও মুখোশ তখন হোয়াইট স্নো… এট্রাক্টিভ কিন্তু রিভিলড।

আচ্ছা, কবিতার একটা অর্থ থাকতে হইবো, এইটা কি দরকারি কিছু? এই দেশে এক আহাম্মক জেনারেশন তৈরি হইছে যারা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নৈতিকতার ঝোল মাখা কবিতার অর্থ উদ্ধার করতে করতে লাইফের একটা পার্ট খতম করে। তারপর অফিসে ওস্তাদের গোলামি আর বাইরে নীতিবাগীশ এক হারামি। এদের বাদ দিলাম। ইন ফ্যাক্ট আই এম নট শিওর, কার সাথে কথা বলতেছি আমি। হয়ত খুব কাছের এক ভবিষ্যতের লগে। যেই ভবিষ্যৎ তৈরি করবো আমি নিজে। আমার অস্তিত্বের সব যন্ত্রণা দিয়া। আমার মুখের মত। আমার চোখের পানির মত। আমার স্বপ্নের কাশবনে এক শ্বেত কাশফুল সে। পৃথিবী এখনো যার মুখ দেখে নাই। So its for you, my love….

অর্থ থাকা আর অর্থ না থাকা— এই প্যারাডাইমের বাইরে যাইতে চাই। নিউটনের জগতের বাইরে। ভাষা আছে, ভাষা নাই— এই শর্তের বাইরে। ভাবনা আছে, ভাবনা নাই— এর বাইরে। একটা আপেক্ষিক শর্তে ভর কইরা। যেইখানে এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ মাত্রার পরে ব্রেইনের প্রসেসিং সিস্টেমে ডিজঅর্ডার দেখা দেয়। কিন্তু অসংখ্য মাত্রার অস্তিত্বরে কি ডিনাই করা যাবে? যেন মেরাজ! মূহুর্তে এক অসীম দিদার। অতএব ওইখানে কী? সুন্দর। সুন্দরের অর্থ নাই? সুন্দরের ভাষা নাই? ভাবনা নাই? আছে। আবার নাই। ফের এইসবের বাইরে কোথাও একটা টোকা, যে আঘাত দেয়… যে যোগাযোগের বিলাপ তোলে— আমি সেইখানে অসহায়। সেইখানে আমি পইড়া থাকতে চাই।

I imagine this midnight moment’s forest:
Something else is alive
Beside the clock’s loneliness
And this blank page where my fingers move.

Through the window I see no star:
Something more near
Though deeper within darkness
Is entering the loneliness… (01- 08)

অর্থের বাইরে কবিতার এই কন্সট্রাকশন হইলো তোমার ছুঁইতে না পারা ঘোর। হাহাকার। শূন্যতা। অথবা জ্ঞান। আনন্দ। পূর্ণতা। মধ্য রাতে গহিন বনে নিঃশ্বাস নেয়। সময়ের নিঃসঙ্গতার এক পাশে। কিছু নাই, তবু বলতেছে সব কিছু আছে। নক্ষত্রশূন্য জানালার অসীমে না। বরং কাছে কোথাও। ভয়াল অন্ধকারে কারা দলে দলে হল্লা করে? মনে হয়, এক ধূর্ত শিয়াল সব প্রশ্নের উত্তর হইয়া হাজির হইতেছে ধীরে। সকাতরে। পৃথিবীর সব সহজ উত্তর যেন জু-কিপার টেডের খেয়ালে আসা ওই ধূর্ত শিয়ালের অবয়ব। সফেদ তুষারে এইবার খুইলা যাবে লুকাইয়া থাকা সকল অবহার, তামাশাও।

‘Till, with a sudden sharp hot stink of fox
It enters the dark hole of the head.
The window is starless still; the clock ticks,
The page is printed.’ (21-24)

টেডের কবিতা ট্র‍্যাডিশনের মুখ চাইপা ধরে। ওইসব দোহাই-মার্কা ঐতিহ্যের রঙ আর সঙ— আহাম্মকদের লুকাইয়া থাকার জায়গা। টেড হিউজ এইসবে গোত্তা খাইতে রাজি না। বরং ঐতিহ্যের বাইরে, সকল মিমাংসা আর অ-মিমাংসারে পিছে রাইখা, সব প্রশ্ন আর উত্তরের লেইম মাহফিল বাদ দিয়া, টেড আরেকটা স্পেইস বানাইতে চায়। অথবা নো স্পেইস। ভাষা-শূন্যতার আর কোন ঠিকানা। টেডের শিয়াল এইভাবে এমন এক সম্ভাবনা হইয়া ওঠে, একটা আশার মত। কোথাও মিটমিট কইরা জ্বলে। যেন নক্ষত্র। দূরের মশাল। টেডের শিয়াল হইলো এক বিনীত দাবাঘর। যেইখানে মূহুর্তে মূহুর্তে মরণরে বানাইতে হয় বোকা। টেডের শিয়াল যুদ্ধের পরে আবছা দুইটা পা। আস্তে আস্তে হাঁটতে শুরু করে। টেডের শিয়াল সকল অপনিয়তির মুখোমুখি একক দুর্ধর্ষ নিয়তি।

হাসান শাহরিয়ার

জন্ম ৮ নভেম্বর ১৯৮৫, একটি কবিতার বই রেরিয়েছে ‘বালির ঘর’ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ jhs.phy@gmail.com

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

লেখকের সোশাল লিংকস:
Facebook

Tags: , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি