সাম্প্রতিক

আমরা বিক্রি করি । আহমদ মিনহাজ

ব্যস্ত সড়কের মোড়ে বিলবোর্ডটি শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি। সময়ের সাথে যুদ্ধ করে বেচারা এখন ক্লান্ত। তার গায়ে সাঁটা অতিকায় প্যানাফ্লেক্সের সবটাই ঝাপসা আর দুর্বোধ্য হতে চলেছে। চেষ্টা করেও কিছু ঠার করা যায় না। প্যানাফ্লেক্সের কোণ ঘেষে দাঁড়ানো মেয়েটি নরোম হাসির ছটায় আকাশের দিকে মুখ করে তাকিয়ে রয়েছে। তার কোমর ঘেষে মোটা হরফে আধখাওয়া অসমাপ্ত বাক্য ‘আমরা বিক্রি করি…’ ছাড়া কিছু টিকে নেই সেখানে।

একপশলা বৃষ্টি শেষে ঝকঝকে রোদ উঠেছে এরকম সকালে রাস্তার জ্যামে আটকা পড়েছিলাম। বাইকে বসে থাকার মুহূর্তে বিলবোর্ডে চোখ আটকে গেল। পেল্লায় লোহার ফ্রেমে সাঁটানো বিজ্ঞাপনের কিছু অবশিষ্ট নেই এখন! রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সব ফকফকা। মেয়েটি শুধু চোখের তারায় দুর্বোধ্য আলোর নাচন নিয়ে সটান দাঁড়িয়ে রয়েছে। কচি লেবুপাতার মতো প্রসন্ন মুখ। আকাশের মতো সুদূর। এখনো সতেজ। এতটুকু কুঁচকায়নি কোথায়ও। তার কোমর ঘেষে ধাবমান লাল হরফের বাক্যটি অদ্ভুত! ‘আমরা বিক্রি করি…’—এই ইশারাটুকু ছাড়া লেখার বাকি অংশ সময়ের ঝাপটায় উবে গিয়েছে। আধখাওয়া বাক্যটি কী কারণে সেখানে টিকে আছে তার কিনারা করা যদিও কঠিন!  

মেয়েটির পেছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে ছিল বোঝা যায়। পুরুষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রোদে পুড়ে জ্বলে যাওয়ার কারণে তার চেহারা আন্দাজ করা সম্ভব নয়। ভূতুড়ে কালো রেখাগুলো বিলবোর্ড জুড়ে বাতিল হাইফেনের মতো ছেতরে পড়েছে। মেয়েটিকে ঘিরে আর কী কী দ্রষ্টব্য ছিল সেগুলো এখন বিবেচনার বাইরে। ধূলিধূসর লোহার খাঁচায় লটকানো প্যানাফ্লেক্সের বিদঘুটে সাদা রংয়ে সবজে হলুদ ছোপছোপ দাগগুলো বেয়ে বৃষ্টির জল চুঁইয়ে পড়ে। মেয়েটি ছাড়া তার চারপাশটা ভীষণরকম কুশ্রী হয়েছে দেখতে। জ্যাম ছুটে গেলে আমি বাইক ছোটাই।

গুঁড়ো দুধের ফেরিওয়ালা হলেও স্ত্রীকে দুগ্ধবতি দেখার সাধ পুরা হওয়ার নয়। নাদুসনদুস শিশু ওর স্তনের বাঁট কামড়ে ধরেছে আর সাদা দুধের ফেনা স্তন বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে, আমার বেলায় দৃশ্যটি কাল্পনিক মানতে হয়। গুঁড়ো দুধের চৌকস ফেরিওয়ালা হলেও স্ত্রীকে সন্তান উপহার দেওয়ার ক্ষমতা দুর্বোধ্য কারণে হারিয়ে ফেলেছি। স্বপ্নে দেখি আমরা দুজন দুধনদীর পাড়ে বসে রয়েছি। নদীর ওপর দুধের মতো ধবধবে সাদা নৌকাগুলো ভাসছে।

সেলসে কাজ করি বলে হয়ত মেয়েটির কোমর ঘেষে ঝুলে থাকা বাক্যটি আমায় তাড়া করে ফিরে। হাতের কাজ সেরে চায়ের স্টলে বসে মনে-মনে ভাবি কী পণ্য বিক্রয়ের গল্প সে শোনাতে চেয়েছিল! সে কি তবে আমার মতো গুঁড়ো দুধের ফেরিওয়ালা ছিল? আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়াবার ভঙ্গিটা এই অনুমানকে সমর্থন করে না। গুঁড়ো দুধের বিজ্ঞাপনগুলো অন্যরকম হয়ে থাকে। মেয়েটির মধ্যে ‘মা’ ভাবটা নেই যাকে এ্যানক্যাশ করে গুঁড়ো দুধওয়ালারা বিজ্ঞাপনের গল্প ফেঁদে থাকে।

পণ্যটি তাহলে কী হতে পারে? শ্যাম্পু? সাবান? হেয়ার ওয়েল বা কসমেটিক্স? ছবির সাথে একটাও মিলছে না! তাহলে কি স্যানিটারি প্যাড? মাসের অস্বস্তিকর সময়ে ভারমুক্ত থাকার অমোঘ পণ্য? হতেও পারে। মেয়েটির চোখেমুখে এরকম কিছুর আভাস টের পাচ্ছি মনে হয়। স্যানিটারি প্যাডের বিজ্ঞাপনের পক্ষে তার বয়স অবশ্য বেশি। এই বয়সে ওটা অভ্যাস হয়ে যায়। মাসের বিশেষ দিনগুলোয় কী করে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হয় বিলবোর্ডের মেয়েটির সেটা অজানা থাকার কথা নয়। প্যাডের বিজ্ঞাপন বরং কমবয়সী কোনো মেয়েকে দাবি করছে। আকস্মিক মুহূর্তে ঘটনাটা আবিষ্কার করে মেয়েটি খানিক ঘাবড়ে যাবে আর তাকে নির্ভার রাখবে এই প্যাড। বিলবোর্ডের মেয়েটি সেরকম বয়স অনেক আগে পেরিয়ে এসেছে।

চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে হাজারটা পণ্যের কথা ভেবে চলি। চিপস-চকোলেট থেকে শুরু করে রকমারি খাদ্যদ্রব্য, কাপড় থেকে ঔষধ, তৈজসপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, দাঁতের মাজন, মোবাইল কোম্পানির মিনিট অফার, এমনকি রড-সিমেন্ট আর কিস্তিতে বুকিং দেওয়া ফ্ল্যাট সেই ভাবনা থেকে বাদ পড়ে না। একটি পণ্যও মেয়েটি বা অসমাপ্ত বাক্যে লুকিয়ে থাকা গল্পের হদিশ দিতে বিফল হয়। কিছু অনুমান করতে না পেরে মনে-মনে প্রচণ্ড হতাশ হই।

তাহলে কি জন্ম-নিরোধক পিল অথবা কনডমের গল্প বলে সে? কনডমের গল্পে নারীকে ছাপিয়ে পুরুষ মুখ্য হয়ে ওঠে। তাকে প্রবোধ দিতে চায়,—মিলনের মুহূর্তে ওটা ব্যবহার করলেও ‘রাজা’, ‘প্যানথার’ বা ‘টাইগার’ হতে তার কিছু আটকাবে না। পিলের ক্ষেত্রে ঘটনা উল্টো। গল্প তখন নারীকে অভয় যোগায়, —মিলনের পর ‘সুখী’, ‘মায়া’ বা ‘ফেমিকন’ নামের ছোট্ট গুটিকা ভক্ষণে নিজের রতিসুখ ও সন্তান জন্মদানের ক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা নেই। বেসামাল ও কাণ্ডজ্ঞানহীন শুক্রাণুকে প্রতিরোধের জন্য এই গুটিকা। মিলন শেষে যথারীতি সে সুখী ও মায়াবতী থাকবে। ছবির মেয়েটি তার পেছনে পুরুষের অস্পষ্ট উপস্থিতি সত্ত্বেও জন্মনিরোধের স্বস্তিতে আকাশপানে তাকিয়ে রয়েছে বলে বিশ্বাস করতে মন ওঠে না।

বিলবোর্ডে লটকানো বিজ্ঞাপনে হারিয়ে যাওয়া গল্পের কথা ভাবতে-ভাবতে আজগুবি কল্পনা মাথায় এসে ভর করে। নিজের আদর্শ ও কাপড়ে দাগ লাগতে দেয় না;—বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় এই গল্পটি হালে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এরকম কোনো গল্প শোনাতে কি মেয়েটি সেখানে হাজির ছিল? অথবা ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড়ের দাগ ঘষে তোলার বাহানায় স্বামী-স্ত্রীর একপশলা খুনশুটির গল্প বলেছিল সে? সমস্যা হচ্ছে মেয়েটির পোশাক ও অঙ্গভঙ্গিতে চোখধাঁধানো সেই উজ্জ্বলতা নেই যাকে ডিটারজেন্টের গল্পে রিলেট করানো যায়! আমি হতাশ হয়ে পড়ি।

আচ্ছা, নোংরা কমোড পরিষ্কারের জন্য যেসব পণ্য লোকে বাজার থেকে ক্রয় করে মেয়েটির সাথে তার কোনো সম্পর্ক…! দুর! ওই কাজটা বাজার পড়তি নায়কদের দিয়ে করানো হয়। হারপিক ও ব্রাশ হাতে তারা মিছিল করে লোকের বাড়িতে গিয়ে ঢোকে। দরোজার সামনে দাঁড়িয়ে টকটক করে কড়া নাড়ে বা বেল বাজায়। সুন্দরী গৃহিণী প্রথমে অবাক হওয়ার ভাব করে দরোজা খুলে দেয়। নায়ককে দেখে বত্রিশ দন্ত বের করে হাসে আর নায়ক বাড়ির টয়লেট পরিদর্শন শেষে হারপিক নিয়ে নেমে পড়ে সাফাইয়ে। বিলবোর্ডের মেয়েটির সাথে গল্পটা একদম যাচ্ছে না। নিজের আজগুবি ভাবনায় হো হো করে হেসে উঠি। আমাকে হাসতে দেখে চায়ের দোকানি ফোকলা দাঁত বের করে হাসে। কেন হাসে সেটা ওই মেয়েটি আর তার কোমর বরাবর ঝুলে থাকা বাক্যের মতোই দুর্বোধ্য বৈকি।

নিজের ভাবনা অসমাপ্ত রেখে উঠে পড়ি। ডিলার ভিজিট সেরে বাড়ি ফেরার মুহূর্তে মোড়ে বাইক থামিয়ে মেয়েটিকে আরেকবার দেখতে ইচ্ছে করে। রাস্তার পাশে বাইক দাঁড়া করিয়ে আমি তাকে দেখি। সময় সব ধুয়েমুছে দিলেও তাকে মুছে ফেলতে পারেনি। ‘আমরা বিক্রি করি…’ বাক্যটি কেবল বেখাপ্পা উপদ্রব হয়ে তার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। লেখাটা মুছে দিতে ইচ্ছে করছে। যদিও ‘আমরা বিক্রি করি…’ কথাটিকে মুছে দিলে মেয়েটির ওইভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানেই থাকে না। তার অস্তিত্বই সেক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।

মেয়েটি হয়ত কোনো মডেল ছিল। এখনো পেশাদার বা নামকরা হয়ে ওঠেনি সে বেশ বোঝা যায়। হলে ঠিক চিনতাম। পেশাদার মডেলরা অন্যরকম হয়ে থাকে। তাদের চাউনি, অঙ্গভঙ্গি ও দেহের চোরাগুপ্তা বাঁক পণ্যের গুণাগুণকে ছাপিয়ে যায়। পণ্যটি সুগন্ধি শ্যাম্পু, সাবান থেকে শুরু করে টুথপেস্ট বা লোশন হতে পারে! কোমল পানীয় থেকে বরইর আচার অথবা সিমেন্টের বস্তা হলেও সমস্যা নেই। মডেল তার চোখের ভাষা ও দেহের লাস্য দিয়ে ক্রেতার কাছে পণ্যটিকে আবেদনময় করে তুলবেই তুলবে। দেখে মনে হবে সিমেন্টের বস্তা নয় বরং বিজ্ঞাপনের মডেলের মতো কামদায়ী কিছু। বিলবোর্ডের মেয়েটি সেরকম নয়। আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে রহস্য থাকলেও প্রশান্তির কমতি নেই সেখানে। অজানা পণ্যটি সে ক্রয় করতে বলছে ঠিকই কিন্তু কেনার জন্য ক্রেতাকে প্ররোচিত করার রুচি তার নেই। কারণ সে জানে ক্রেতা ওটা খরিদ করবেই।

বিজ্ঞাপনের অনেকসময় এরকম হয় শুনেছি। লোকের কাছে পণ্যকে আবেদনময় করতে বিজ্ঞাপনওয়ালারা ধরাবাঁধা পথ ছেড়ে বিকল্প গল্প বেছে নেয়। পাশের বাড়ির মেয়ে বলে যেন চিনতে পারে ঠিক সেভাবে মডেলকে হাজির করে। অনাড়ম্বর সাজের কারণে আপনা থেকে লোকের নজর কাড়ে সে। পণ্যটিও তাই। ওটা কেনার সময় অতশত না ভাবলে চলছে। এরকম বিজ্ঞাপনে ক্রেতা বেজায় হোঁচট খায়। বিলবোর্ডের মেয়েটিকে বিজ্ঞাপনওয়ালা সেভাবে হাজির করেছে। তার রূপ ও স্বাস্থ্য আহামরি না হলেও চোখের জন্য আরামদায়ক। কানে ছোট্ট সোনার দুল পরেছে। পরনের শাড়িটি সাধারণ হলেও পরিপাটি করে পরার কারণে দেখতে বেশ লাগছে। মাথার বেণিকরা চুল পিঠ অবধি নেমে গিয়েছে বোঝা যায়। মুখটি সতেজ ও কমনীয়। বিলের জলে সদ্য ফোঁটা শাপলা যেমন! বিলবোর্ডে তাকে দেখার পর থেকে পরিচিত ও আপন-আপন বোধ হচ্ছে, অবশ্য তাকে কবে কোথায় দেখেছি সেটা কিছুতেই মনে করা যাচ্ছে না।

দুধনদীর অতলে ডুবে যাওয়ার সময় টের পাই বিলবোর্ডের মেয়েটি আমার চেনা। একসময় আমাদের পাড়ায় থাকত। বাসায় ফেরার পথে একদিন নিখোঁজ হয় গেল! সবাই বলাবলি করছিল ওকে কেউ তুলে নিয়ে গিয়েছে। তুলে নেওয়ার পর সে কীভাবে বিলবোর্ডে ফেরত আসে সেই কাহিনির কিছুই আমার জানা নেই।

দিনভর গুঁড়ো দুধের গুণগান গেয়ে শরীরমন এখন বেজায় ক্লান্ত। গা থেকে বাসি দুধের গন্ধ বেরুচ্ছে। ডাইনিংয়ে খাবার সাজিয়ে স্ত্রী ততক্ষণে শুয়ে পড়েছে। গোসল সেরে খেতে বসি। বিলবোর্ডের মেয়েটি আজ আমায় পেয়ে বসেছে। ওকে কিছুতেই তাড়ানো যাচ্ছে না। খাবার টেবিলে বসে ‘আমরা বিক্রি করি…’ কথাটি মগজে ঘুরপাক খাচ্ছে দেখে হাসি পায়। সেলসে কাজ করার এই হলো সমস্যা! মন খালি বেচাবিক্রির খবর নিয়ে ভাবতে চায়। শোবার ঘরে স্ত্রীর মৃদু স্বরে নাসিকা গর্জনের আওয়াজ কানে আসছে। ওকে এভাবে ঘুমে নিঃসাড় দেখে খুব হিংসে হয়। অগাধ ঘুমের সুখ আমার জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে। ঘুমের মধ্যে গুঁড়ো দুধের কৌটারা খালি নেচে বেড়ায়। কৌটাগুলোর সাথে তাল দিয়ে জগতের নাদুসনুদুস শিশু আর তাদের পেছনে দুগ্ধবতি মায়েদের ব্যস্ত ছুটাছুটি চোখের সামনে দিয়ে আসে আর যায়!

শোবার ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরাই। গুঁড়ো দুধের ফেরিওয়ালা হলেও স্ত্রীকে দুগ্ধবতি দেখার সাধ পুরা হওয়ার নয়। নাদুসনদুস শিশু ওর স্তনের বাঁট কামড়ে ধরেছে আর সাদা দুধের ফেনা স্তন বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে, আমার বেলায় দৃশ্যটি কাল্পনিক মানতে হয়। গুঁড়ো দুধের চৌকস ফেরিওয়ালা হলেও স্ত্রীকে সন্তান উপহার দেওয়ার ক্ষমতা দুর্বোধ্য কারণে হারিয়ে ফেলেছি। স্বপ্নে দেখি আমরা দুজন দুধনদীর পাড়ে বসে রয়েছি। নদীর ওপর দুধের মতো ধবধবে সাদা নৌকাগুলো ভাসছে। নৌকায় মাঝিমাল্লা কেউ নেই। ওরা চলছে আপন খেয়ালে। নৌকাগুলোর ওপর দুধের শিশুরা হামাগুড়ি দিচ্ছে! আমরা সেই দুধনদীতে ঝাঁপ দেই আর নিচে তলিয়ে যেতে থাকি। দুজনে মিলে সেধিয়ে যাই মাটির আরো গভীরে।

দুধনদীর অতলে ডুবে যাওয়ার সময় টের পাই বিলবোর্ডের মেয়েটি আমার চেনা। একসময় আমাদের পাড়ায় থাকত। বাসায় ফেরার পথে একদিন নিখোঁজ হয় গেল! সবাই বলাবলি করছিল ওকে কেউ তুলে নিয়ে গিয়েছে। তুলে নেওয়ার পর সে কীভাবে বিলবোর্ডে ফেরত আসে সেই কাহিনির কিছুই আমার জানা নেই। যেমন জানি না বিলবোর্ডে দাঁড়িয়ে থাকার পরের কাহিনিও। পাশের বাড়ির মেয়েকে চকিত আবিষ্কারের ধাক্কা সামলে আমি কেবল ঘুমের ঘোরে তাকে ‘নাজমিন’ নামে ডেকে উঠি।

.   .   .

Comments

comments

আহমদ মিনহাজ

জন্ম স্বাধীনতার বছরে । লেখালেখির শুরু নয়ের দশকে, ছোটকাগজে । একসময় নিয়মিত লিখলেও এখন প্রায় স্বেচ্ছা-নির্বাসিত । যদিও মাঝেমধ্যে উঁকি মারেন ছোটকাগজ ও ব্লগে । এর বাইরে একান্ত পারিবারিক । প্রকাশনায় সক্রিয় না হলেও গান শুনে, সিনেমা দেখে ও বন্ধুসঙ্গে নিজেকে যাপনের পাশাপাশি সক্রিয় আছেন নতুন লেখার খসড়ায় । আহমদ মিনহাজ মূলত প্রবন্ধে স্বচ্ছন্দ হলেও গল্প ও আখ্যানের জগতে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রায়শ । কয়েকটি গল্প ছোটকাগজে প্রকাশিত হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে । বাকিগুলো প্রকাশের মুখ দেখেনি আর । উল্টোরথের মানুষ তার প্রথম আখ্যান । প্রায় এক দশক আগে এই আখ্যানের চিন্তাবীজ লেখককে তাড়িত করে । অনেকটা ঘোরগ্রস্ততার মধ্যে আখ্যান-টি রচিত হয় এবং প্রকাশিত হয় ছোটকাগজে-ই । সময়ের আবর্তে ধূলিমলিন হয়ে পড়ে ছিল দীর্ঘদিন । যদিও এই আখ্যানের গর্ভে লুকিয়ে থাকা প্রাণবীজ আজো অমলিন,- আখ্যান ও প্রতি-আখ্যানের দ্বৈরথে আজ ও আগামীর পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক ।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি