সাম্প্রতিক

মীনা ও মৃত্যু এক গুচ্ছ । রায়হান আমিন

গাঁয়ের বাশঝাড়ে বুনো হাওয়ার রা

গাঁয়ের বাশঝাড়ে বুনো হাওয়ার রাত।
ধুসর কালো পাকা সড়কে
কয়েকজন ধাবমান যুবকের শান্ত ভ্রমন।
বিদায়ী বসন্তের দিকে হাত বাড়ায়
যাদের জাগ্রত যৌবন।
রাতের আকাশে
ঝাড়বাতির মতো ঝুলে আছে
চাঁদ আর তারা।
গাঁয়ের বাশঝাড়ে বুনো হাওয়ার রাতে
নীরব দ্রোহে কথা কয় যুবকেরা।

মৃত্যু

তরুনীরা মারা যায়।
কোন এক নীরব রহস্য নিয়ে
তরুনীরা ধীরে ধীরে মারা যায়।
তারপর একদিন,
কোন এক যুবকের মনে
অদ্ভূত অনুপস্থিতি তাদের।
মৃতা তরুনীদের সমাহিত করা হয়
দুর্গম দূরদেশে।
সে এক শীতের প্রান্তর;
ধারালো ফলার মতো হিম হাওয়া বয়
নীরব রহস্য নিয়ে।

মীনা

মীনা, তুমি এই শীতের রাতে,
হারিয়ে যাচ্ছো, আবার ফিরে আসছো।
ব্রাম স্টোকারের মেডিয়েভাল কল্পনায়,
ট্রানসালভানিয়ার পার্বত্য এলাকা জুড়ে,
জোনাথানের স্বপ্নে আর দুঃস্বপ্নে,
তুমি হারিয়ে যাচ্ছো আবার ফিরে আসছো;
তোমার নিরাপদ আশ্রয়ে,
শান্ত, শীতল পবিত্রতায়।
অথবা যেনো আবার ফিরে এসেছো
স্মৃতির ছায়া হয়ে;
মীনা, তুমি এই শীতের রাতে।

সন্ধ্যা-যাপন

শহরের ভেতর
এক আবদ্ধ জলাশয়ের ধারে সন্ধ্যা নামল।
অনেক মুমূর্ষু যুবকের শহুরে সন্ধ্যা-যাপন।
বন্দিনীর বোবা আর্তনাদের মতো ভবঘুরে বাতাস;
ভ্যাপসা গন্ধে ভরপুর।
প্রেতের পালের মতো হানা দেয়
নির্বাসিত প্রেমিকার স্মৃতি।
নিজস্ব নিঃসঙ্গতায়
পরস্পর পিষ্ট হয় যুবকেরা।

দুঃসময়

তোমার শব্দময় হাসির আড়ালে
কোন দুঃখ নিঃশব্দে কাঁদে ?
এক অদ্ভূত নৈঃশব্দের মাঝে
আমাদের কথা বলা ও না বলা।
নিঃশব্দ আর্তনাদের তরঙ্গ তুমি,
তোমার তরঙ্গায়িত মন।
চেয়ে দেখো,
চারপাশে ছেয়ে আছে আগ্রাসী আধাঁর।
এরই মাঝে আমাদের প্রেম
টুকরো টুকরো আলোর ঝিলিক।
এক অপার্থিব আলো এসে
মুছে দেবে ক্ষত আর মনোদাগ সকল।
এক অবয়বহীন দেশে জন্ম নেবে আমাদের মন,
নবজাত শিশুর মতন।

কবিতা মাস্তান

হারিয়ে গেছে কবে মাস্তানি মোহব্বতের দিন।
আমি সেই পুরনো মাস্তান,
নয়া দিনের খোঁজে।
বস্তি-এলাকার পাশ দিয়ে
প্রতিদিন আমার কর্মস্থলে গমন।
রাস্তার পাশের ছোট রেস্তোরায়,
হালকা চা-নাশতা দিয়ে
আমার জীবন যৌবনের উৎসব।
ভালোবাসি মফস্বল শহরে শহরে
উজ্জ্বল রোদের দিন।
নতুন ভাব নিয়ে করি পুরনো বন্ধুদের খোঁজ।
কাল্পনিক প্রেমিকারা—
যাদের বিয়ে হবে,
অথবা সদ্য বিয়ে হয়ে গেছে;
তারা কি মাঝে মাঝে উপস্থিতি ফেলে যায়
আমার পাশে ছোট রেস্তোরার টেবিলে;
চা, সিঙ্গারা, ডালপুরী,
পরোটা আর ডাল-ভাজির পুরনো উৎসবে।
ফেলে যাওয়া—
এইসব ভাঙাচোরা ইমোশনগুলি
আজকাল উজ্জ্বল দেখায় খুব।
কতোকিছু ফেলে গেছে জীবন—
শৈশবের নিরপরাধ উচ্ছাসের দিন,
কৈশোরের পবিত্র আদর্শ সকল।
তাদের অস্পষ্ট স্মৃতি আজ
জোড়াতালি দেয়া যৌবনের নিঃসঙ্গ সম্বল।
জিন্সপ্যান্টের পকেটে
ছোট্ট চিঠিতে তাদের পুরনো দিনের ইতিহাস লেখা।
মাস্তানি মোহব্বতের ইতিহাস।

 

রায়হান আমিন

অনেক রকম প্রতারণায় পার হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। পরের ধাপে এসে, সবকিছু যেনো নতুন করে শুরু করতে হলো। সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে আরো এক দেশ। নাম তার বুলগাকপুর বা বিদ্রোহের রাজ্য। শত শত বছরের পুরনো এই দেশ। এখানে ওখানে প্রায়ই স্ফুলিঙ্গ ছড়ায় তার অধিবাসীরা। এখানে ওখানে জেগে উঠে বুলগাকপুর। তার বিপন্ন বিদ্রোহের চেতনা আমার দৃষ্টিকে দিয়েছে নতুন আলো। যে দিকেই তাকাই নতুন দৃশ্য, নতুন ঘটনা, নতুন চরিত্র। তাদের পারস্পরিক সংঘাতে আমার নির্বাসিত উত্তাল যৌবন। চায়ের দোকানে বসে কয়েক মুহূর্তে পার হয় একটা পুরো বছরের সকল ঋতুর আবর্তন। জন্মঃ সিলেট। পড়ালেখাঃ ইংরেজি সাহিত্য, শাবিপ্রবি, সিলেট।

লেখকের অন্যান্য পোস্ট

Tags: , , , , , , ,

লেখকের অন্যান্য পোস্ট :

সাম্প্রতিক পোষ্ট

লেখকসূচি